সেন্সরশিপ সর্বত্র আছে. ভারতেও : মাজিদ মাজিদি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

সেন্সরশিপ সর্বত্র আছে. ভারতেও : মাজিদ মাজিদি

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

print
সেন্সরশিপ সর্বত্র আছে. ভারতেও : মাজিদ মাজিদি

ভারতের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো সিনেমা বানালেন ইরানি পরিচালক মাজিদ মাজিদি। ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’ নামের সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুরের ছোট ভাই ইশান খাট্টার ও মালয়ালাম থিয়েটার শিল্পী মালবিকা মোহানান। সম্প্রতি কলকাতায় প্রচারণায় এসে আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেন নির্মাতা।

ইরানের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। সেই পরিস্থিতিতেও কিয়েরোস্তামি থেকে শুরু করে জাফর পনাহি, আপনি পরপর আন্তর্জাতিক মানের ছবি করেছেন। এতটা সমস্যার মধ্যে কাজ করেন কী করে?— জবাবে মাজিদি বলেন, “ইরানে প্রতি বছর প্রায় শ’খানেক ছবি তৈরি হয়। যদি সত্যিই খুব সমস্যা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই এত ছবি তৈরি হতো না। পনাহির সমস্যা হয়তো স্বতন্ত্র। বাকি সকলেরই যে সমস্যা হচ্ছে, এমন কোনো মানে নেই। সেন্সরশিপ সর্বত্র আছে। আপনাদের দেশেও আছে।”

আরো জানান, সিনেমা বানাতে সরকারি নজরদারিতে পড়তে হয়নি বা তিনি কখনো গোপনীয়তার নীতি অবলম্বন করেননি। 

সেন্সরশিপ নিয়ে বলেন, ‘আমার কাছে রাজনীতি আর শিল্প দুটো আলাদা জিনিস। সেন্সরশিপে সমস্যা হয় ঠিকই। কিন্তু গোটা দেশে যদি একটা নিয়ম বা বিধিনিষেধ চালু থাকে, তা হলে সেটা সকলকে মানতে হয়। তবে আমার মতে সেন্সরশিপ কখনও সিনেমাকে আটকে রাখতে পারে না। শিল্প যে ভাবেই হোক নিজের রাস্তা, নিজের বক্তব্য খুঁজে নেবে।’

ভারতকে প্রেক্ষাপট করে ছবি করতে চাইলেন? উত্তরে মাজিদি বলেন, “ইরানের বাইরে ছবি করার কথা মনে হলে ভারতের নামই মাথায় আসত। দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিল রয়েছে। সিনেমা, সংস্কৃতির মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে আমার পরিচয়। সত্যজিৎ রায়ের ছবি দিয়ে আমি আপনাদের দেশকে চিনেছি। উনি আমার অন্যতম অনুপ্রেরণা।”

পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যে টালমাটাল পরিস্থিতি, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আপনার ছবির মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিতে চান? এ প্রশ্নে বলেন, “ছবির মাধ্যমে মনুষ্যত্বের গল্প বলতে চাই। ‘চিলড্রেন অব হেভেন’ বোঝার জন্য যেমন আলাদা কোনো জ্ঞান লাগে না। যে গল্পের শিকড় যত গভীর, তার আবেদন দর্শকের কাছে তত বেশি। সিনেমার নিজস্ব পরিভাষাই মানুষকে সবটা বুঝিয়ে দেয়। আর পরিস্থিতি যেমনই হোক, তার মধ্যেই কাজ করে যেতে হবে। চরমপন্থীদের কাছে যেমন সিনেমা মানেই খারাপ জিনিস। তারা একটা সিনেমা না দেখেই বিধিনিষেধ আরোপ করে দিত। কিছু লোকজন ইসলামের নামে অনর্থ করছে। আমার ছবির মাধ্যমে এটুকু বলতে চাই যে, ইসলাম শান্তি, বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্বের কথা বলে।”

ডব্লিউএস

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad