কাজে আস্থা তৈরি করা জরুরি: আজিজুল হাকিম

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

কাজে আস্থা তৈরি করা জরুরি: আজিজুল হাকিম

মাসউদ আহমাদ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৮

print
কাজে আস্থা তৈরি করা জরুরি: আজিজুল হাকিম

আজিজুল হাকিম। মঞ্চ ও টেলিভিশনের নাটকে অভিনয় ও পরিচালনার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত আছেন। সম্প্রতি ভালোবাসা দিবসের নাটক নির্মাণ করলেন। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে...

ভালোবাসা দিবসের জন্য নাটক নির্মাণ করলেন ‘মিথজীবী’...

ভালোবাসা দিবসে চ্যানেল আইতে এই নাটকটি প্রচারিত হবে। জিনাত হাকিমের চিত্রনাট্য এবং আমার নির্দেশনায় নির্মিত টেলিফিল্ম ‘মিথজীবী’তে অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির ও মৌটুসী। তারা দুজন এবারই প্রথম আমার পরিচালনায় অভিনয় করেছেন। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে মানুষের প্রতি মানুষের সম্পর্কে আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এসব যেমন ছিল, আগামীতেও থাকবে। নির্ভরতার কারণে সম্পর্কগুলো আরো নিবিড় এবং গভীর হয়। যখন কোনো সম্পর্কে নির্ভরতা তৈরি হয় তখন তা আরো গভীর হয়। এসবই হচ্ছে ‘মিথজীবী’ টেলিফিল্মের গল্পের মূল কথা। সবাই খুব ভালো অভিনয় করেছে। মীর সাব্বিরের অভিনয়ের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, পয়েন্ট অব ভিউ থেকে নিজে থেকে দায়িত্ব নিছেন সে অভিনয় করার চেষ্টা করে। তার অভিনয়ে আমি বেশ খুশি। মৌটুসীর অভিনয় আমারও ভালোলাগে। সে খুব ভালো অভিনেত্রী। কাজটা করে আমার বেশ ভালো লেগেছে। পরিচালনায় আমি নিয়মিত নই। ভালো লাগার মতো কোনো গল্প ও বাজেট সমন্বয় হলে পরিচালনা করি। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এ নাটকটি করে আমার ভালো লেগেছে। আশা করছি, দর্শকের ভালো লাগবে।

অনেকদিন পর ‘পুত্র’ সিনেমায় অভিনয় করলেন। এতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

কাজের অনুভূতি খুবই ভালো। বহুদিন পর বড় পর্দার কাজ করলাম। এটি আমার অভিনীত প্রথম ডিজিটাল ছবি। ‘পুত্র’ দেখে দর্শক ভালো বলেছেন, প্রশংসা করছেন। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কাজের আগে যখন শুনলাম ছবিটি প্রতিবন্ধী শিশুদের গল্প নিয়ে, তখনই আমার ভেতরটা নাড়া দিয়ে উঠেছিল। এসব ক্ষেত্রে নিজের মধ্যে একটা সামাজিক দায়বদ্ধতাও কাজ করে। রাজি হয়ে গেলাম। এতে আমি একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে কিনা প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে তার স্ত্রীকে প্রচুর অত্যাচার করেন। আমাদের সমাজের কিছু মানুষের ধারণা, সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ার পেছনে তার মা দায়ী। এ কারণে প্রতিবন্ধী সন্তানের মাকে অনেক লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়। সমাজের কুসংস্কার সম্পর্কে মানুষের চোখ খুলে দিতে ‘পুত্র’ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।

আপনি বিচিত্র চরিত্রে কাজ করেন-কখনো প্রেমিক, মাস্টার বা এমপির পিএস- একধরনের প্রস্তুতির তো দরকার হয়। আপনার ক্ষেত্রে তা কেমন?

অনেকদিন ধরে কাজ করছি, চরিত্রের নার্ভটা বোঝার চেষ্টা করি। স্ক্রিপ্ট পড়ে নিজের ভেতরে ইমাজিনেশন কাজ করে। বাস্তবের এই চরিত্রটি কীভাবে কথা বলতে পারে, তার অ্যাটিচ্যুড কেমন হতে পারে- এসব খেয়াল করি। আমি তো অবসর তেমন পাই না। যেটুকু পাই সে সময়টায় বই পড়ি। বই পড়তে বেশি পছন্দ করি। সময় পেলে আমার ছেলেমেয়ে ও পরিবারকে সময় দেই। নাটকের চরিত্র কিন্তু বাস্তবে চারপাশে ঘোরাফেরা করে। একটা নাটকে আমি কাজ করেছিলাম- এমপির পিএস। বাস্তবে তো আমি ওই দায়িত্ব আমি পালন করিনি। আমাদের সমাজের একজন এমপির পিএসের যে চরিত্র, নাটকটিতে সে বিষয়টাই তুলে ধরার চেষ্টা ছিল। আমিও পিএসের চরিত্রটা যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়েছে নাটকটি অনেক সমসাময়িক। দর্শকদের মধ্যে চাহিদা সৃষ্টি করা, কাজের ধারাবাহিকতা ও নির্মাতাদের আস্থা তৈরি করা একজন শিল্পীর জন্য খুবই জরুরি। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে আসছি। সব সময় নতুন চরিত্রে দর্শকদের সামনে নিজেকে তুলে ধরি। তো কাজ করতে করতে প্রস্তুতির ব্যাপারগুলো তৈরি হতে থাকে।

এখন নতুন যারা কাজ করছেন, তাদের কাজ নিয়ে আপনার বিবেচনা বলুন?

অভিনয়শিল্পীর অভিনয় করাটাই প্রধান কাজ। অভিনয়ে না এলে অন্য পেশায় যেতে হতো। অভিনয়কে আমি মনেপ্রাণে ভালোবাসি। নতুনদের কাজ ভালোলাগে। অনেকের অভিনয়ই মুগ্ধ করে। যেটা দরকার, অভিনিবেশটা আর একটু বাড়াতে হবে। এখন টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন ছেলেমেয়েরা অভিনয়ে আসছে। অনেকেই ভালো করছে। কিন্তু বেশির ভাগই দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারছে না। একই শিল্পীকে একই চরিত্রে বারবার দেখা যায়। দর্শক একজন শিল্পীকে বিভিন্ন রূপে দেখতে চান। অনেকে শুধু তারকাখ্যাতির পেছনে দৌড়ে বেড়ায়। একজন শিল্পী তার মেধা, অভিনয় ও যোগ্যতা দিয়েই তারকাখ্যাতি অর্জন করতে পারে। নতুনদের প্রতি প্রত্যাশা, তারা এই বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন হবে।

এমএ/এমএসআই

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad