‘ফিটনেস হারানো খেলোয়াড়দের বদলে তরুণদের দরকার’

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

‘ফিটনেস হারানো খেলোয়াড়দের বদলে তরুণদের দরকার’

তোফায়েল আহমেদ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০১৭

print
‘ফিটনেস হারানো খেলোয়াড়দের বদলে তরুণদের দরকার’

তার সময়ে তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা হকি খেলোয়াড়। অধিনায়কত্ব করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের। খেলা ছাড়ার পর কোচের কাজটা বেছে নিয়েছেন। জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে দেশের শীর্ষ কোচদের একজন আজিজুল্লাহ জামাল হায়াদার। অবশ্য ‘জামাল হায়দার’ নামেই হকি অঙ্গনে বেশি পরিচিতি তার। কদিন আগে ঢাকায় শেষ হওয়া এশিয়া কাপ হকির আলোকে দেশের হকি নিয়ে নিজের নানা ভাবনার কথা তিনি জানিয়েছেন পরিবর্তন ডট কমকে। নানা খামতি ও তা কাটিয়ে উন্নতির পথ দেখিয়েছেন। তোফায়েল আহমেদের নেওয়া সাক্ষাৎকারটিতে উঠে এসেছে দেশের হকি নিয়ে মূল্যবান অনেক কথাই।

.

প্রশ্ন : মাত্রই এশিয়া কাপ শেষ হলো। টুর্নামেন্ট নিয়ে আপনার মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ জানতে চাই।

জামাল হায়দার : মূল্যায়ন আমি এভাবে করতে চাই। টুর্নামেন্ট নিয়ে আমাদের যে প্রস্তুতি ছিল সেটা অন্তত আরো ৫ মাস আগে শুরু হতে পারতো। এই যে ফ্লাড লাইট হয়েছে এটাই বা কেন পাঁচ মাস আগে হলো না? কেন ফেডারেশন আগে এটি করে নিতে পারলো না? পাঁচ মাস আগে যদি আমাদের মাঠ তৈরি থাকতো, আর আমরা চায়না (চীনে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ) না গিয়ে ঘরের মাঠে যদি কোন দলকে এনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতাম তবে সেটি থেকে আরো লাভবান হতাম। দেখুন, হকিতে ফিজিক্যাল, টেকনিক্যাল, ট্যাকটিক্যাল, গেম প্ল্যানিং অনেক বিষয় আছে। যা ধাপে ধাপে ম্যাচের মধ্যে নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতি আপনি কখনো পোষাতে পারবেন না। এশিয়া কাপে আমাদের সেই জায়গায় কিছুটা ঘাটতি ছিল। যে কারণে আমার মনে হয় আমরা পিছিয়ে পড়েছি। আমার কাছে ফিজিক্যাল দিকে দুর্বলতাই বেশি ধরা পড়েছে। জিমিকে ফিট দেখেছি। ও হয়তো বল নিয়ে এগুচ্ছে বাকি কেউ সাপোর্টিংয়ে নেই। এখনকার হকিতে ফরোয়ার্ড, মধ্যমাঠ আর রক্ষণভাগ বলে কিছু নেই। আক্রমণের সময় ডিভেন্ডাররা মিডফিল্ডে উঠে যাবে। মিডফিল্ডারারা ফরোয়ার্ডে উঠে সাহায্য করবে। আবার প্রতিপক্ষ কাউন্টার অ্যাটাকে এলে ধাপে ধাপে সবাইকে ক্লোজ হয়ে ডিফেন্সে আসতে হবে। আমরা এই টুর্নামেন্টে যথাযথ ভাবে তা পারিনি। যার কারণ আমার কাছে মনে হয় এই ফিটনেস।

প্রশ্ন : এই ছেলেদের তো আপনি কাছ থেকে চেনেন। তো তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কি দেখলেন?

জামাল হায়দার : আমার অধীনে ওরা অনেকদিনই ছিল। দুই-চারজন বাদ দিলে আমার মনে হয়না ওরা ফিটনেসে অতটা ভালো ছিল। কয়েকজন খেলোয়াড়ের মনে হয়ে বয়সের কারণেও ফিটনেস লেভেল একটু নিচে চলে গেছে। আমাদের ভাগ্য ভালো যে আমরা ছয় পেয়ে গেছি। চায়না বা ওমানকে তো আমার কাছে ফিটনেসের দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে ভালো মনে হয়েছে। তবে ছয় হওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তিই বলতে হবে। অন্তত পরের এশিয়া কাপটা সরাসরি খেলাটা তো নিশ্চিত হলো।

প্রশ্ন : এই প্রাপ্তিটাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়?

জামাল হায়দার : আমাদের দেখতে হবে সামনে সূচিতে কি আছে। আমাদের পরবর্তি আন্তর্জাতিক আসর হয়তো হতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমস। ওটাকে টার্গেট করে আমাদের এগুতে হবে এখন। এই যে মাঠ আমাদের, এই মাঠটাও কাজে লাগাতে হবে। ভারতের বিভিন্ন দলের সঙ্গে আমরা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারি। আমি মনে করি এশিয়ান গেমস, এশিয়া কাপ আমাদের জন্য অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের মতো আসর। ওটাকে টার্গেট করেই আমাদের হকির উন্নয়নের কাজ শুরু করতে হবে। সব সময়ই একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে আরেকটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের অনেক বড় গ্যাপ পড়ে যায়। এখন কোচিং অনেক বড় একটা বিষয়। একজন কোচের সঙ্গে দুই জন সহকারী কোচ, গোলকিপার কোচ, ফিজিও, ট্রেনার লাগে। ভিডিও বিশ্লেষণ তো অবশ্যই। আমাদের সব সময়ই এখানে কিছুটা ঘাটতি থাকে। এটা নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। আমি বলবো আমাদের ইউরোপিয়ান ট্রেনার খুব দরকার। কোচিংয়ে আমরা যারাই আছি তারা তাদের দায়িত্ব কাভার করার সামর্থ্য রাখি। অথবা আমাদের দেশিদের সহকারী রেখে ভালো বিদেশি কোচও আসতে পরে। তবে এশিয়ান গেমসকে টার্গেট করতে হবে যেন এর চেয়ে (এশিয়া কাপের চেয়ে) ভালো রেজাল্ট হয়। পাঁচের নিচে যেন আমরা আসতে পারি।

প্রশ্ন : ক'জন খেলোয়াড়ের বয়সের কথা বলছেন। তাহলে সেই সিনিয়রদেরকে কি আপনি আপনার এশিয়ান গেমসের পরিকল্পনায় রাখবেন?

জামাল হায়দার : না। আমি তরুণদের কথা ভাবতে বলবো। বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে। যারা সুযোগ পাচ্ছে না। তাদেরকে যদি এখনো না নেওয়া হয়ে তাহলে তো হবে না। যাদের ফিটনেস লেভেল উপরে আসার আর সম্ভাবনাই নেই তাদের কে নিয়ে ভাবাব পারফেক্ট সময় এখন। তাদের এখন দলে নিয়ে তো লাভ নেই। তারা যতো লোড নেবে ততো তাদের ক্ষতি হবে।

প্রশ্ন : এখানে লিগ নিয়মিত হয় না। তিন বছর পর গত বছর লিগ হলো। আবার এখনো খবর নেই...।

জামাল হয়দার : লিগ নিয়ে তো কোন কিছুই বলা যায় না। কখন হবে আর কখন হবে না এটা কেউ জানে না। আমাদের সময় আমরা টাকার জন্য খেলতাম না। লক্ষ্য ছিল দেশের সম্মান আনবো। আর লাইফ স্টাইলই এমন ছিল যে, আমাদের বাবারা চালিয়ে নিতে পারতেন। আর এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমদের খেলোয়াড়রা বেশির ভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। লিগ না হলে টাকা না পেলে তো সবাই খেলাটার প্রতিই নিরুৎসাহিত হয়ে যাবে। চাকরি ধরবে, ব্যবসা করবে না হয় বিদেশে পালাবে। প্রতিটি বছর লিগ হওয়া তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট টুর্নামেন্ট, বাইরে থেকে দেশ এনে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট এগুলো দরকার। দুই মাস পর পরই ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলা অতি জরুরি বলে আমি করি।

টিএআর/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad