দশ বছর পর এশিয়ান হকিতে চ্যাম্পিয়ন ভারত

ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫

দশ বছর পর এশিয়ান হকিতে চ্যাম্পিয়ন ভারত

তোফায়েল আহমেদ, মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম থেকে ৭:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৭

print
দশ বছর পর এশিয়ান হকিতে চ্যাম্পিয়ন ভারত

আগের রাতে শেষ মুহূর্তে কোরিয়াকে মরণ কামড় দিয়েছিল মালয়েশিয়া। ফলও পেয়েছে তারা। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর শেষ মিনিটে ১-১ গোলে ড্র করে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই আসরের ফাইনালে উঠে আসে দলটি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতকেও একই ভাবে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করলো। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ৫০ মিনিটে স্কোর লাইন ২-১ করে মালয়েশিয়া। শেষ ১০ মিনিট তো একেবারে চেপে ধরে ভারতকে। কিন্তু ভারতও তো এশিয়ার অন্যতম বড় শক্তি। স্নায়ুর লড়াইয়ে কি আর তারা এমনিতেই ভেঙে পড়ে? এশিয়া কাপ ফাইনালটা তাই ২-১ জিততে খুব কষ্ট হলো না মানপ্রিত সিংদের। ২০০৭ সালের পর ফের এশিয়া কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। এই নিয়ে ৩বার এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন তারা।

ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে উল্লাস শুরু হলো ভারত দলের। সাম্প্রতিক অতীতে দারুণ খেলায় দলটি দুর্দান্ত সময় পার করছে। ২০১৮ সালে নিজেদের মাঠে হকির বিশ্বকাপ বসছে। সেই আসরই এখন মূল লক্ষ্য তাদের। তার আগে এশিয়ার বিশ্বকাপ নামে পরিচিত এশিয়া কাপের শিরোপাটা ঢাকা থেকে জিতে নিয়ে যাওয়া, তাও এক দশক পর এর অধিকার পাওয়া তো তাদের সামনের প্রস্তুতির জন্যও বড় ব্যাপার।

এশিয়া কাপ হকি তো কম গুরুত্বের ছিল না ভরতীয়দের কাছে। বাংলাদেশে এসে তাই দলটি জানিয়ে দিয়েছিল শিরোপার কথা। প্রতিটি ম্যাচ নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়েছে তারা পরিকল্পনা মতো। সব প্রতিপক্ষকেই সমান সমীহ দেখালেও মাঠে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছে একের পর এক দলকে। মাঠের বাইরে সাজানো কৌশল মাঠেও বাস্তবায়ন করেই আসলে নিজেদের প্রতি ম্যাচে তারা সেরা প্রমাণ করেছে। সুপার ফোরে কোরিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ড্র তাদের। হার নেই। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন তারা এই আসরে। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপের শিরোপাও নিয়ে ঘরে ফিরেছিল দলটি। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম দলটির জন্য পয়া এক ভেন্যুই বলতে হবে। যদিও ১৯৮৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে তারা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল। সেই দুঃখে নিশ্চয়ই এবার প্রলেপ পড়লো। 



এদিন সন্ধ্যায় খেলার ৩ মিনিটে রামানদ্বিপ সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। সুনিল সৌমারপ্রিতের ক্রস থেকে রামানদ্বিপের হিট প্রথমে পোস্টে লেগে ফিরে এলেও পরের চেষ্টায় আর ভুল করেননি তিনি। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ললিতের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ২-০ করে ভারত। ম্যাচের ৫০ মিনিটে শাহরিল শাবাহ ব্যবধান কমান মালয়েশিয়ার হয়ে। কিন্তু এর পর দারুণ প্রচেষ্টাতেও দলটি পারেননি সমতা আনতে। শেষ হাসিটা তাই ভারতের।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছিল ভারত। গ্রুপ পর্বে জাপানকে ৫-১ গোলে হারিয়ে যাত্রা। এরপর স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৭-০ গোল উড়িয়ে দেয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয় ৩-১ গোলে। গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়াও জিতেছে তিন ম্যাচের তিনটিতেই। চীনকে তারা হারায় ৭-১ গোলে। এরপর চার বারের চ্যাম্পিয়ন কোরিয়াকেও হারিয়ে দেয় ২-১ গোলে। ওমানকে তারা উড়িয়ে দেয় ৭-১ গোলে। এরপর সুপার ফোরে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তারা জানান দেয় বড় কিছুই করতে এসেছে ঢাকায়। তবে ভারতের বিপক্ষে ৬-২ গোলে হার তাদের। এরপর কোরিয়ার বিপক্ষে শনিবার ১-১ গোলে ড্র করে উঠে আসে ফাইনালে।

ভারত সুপার ফোরে কোরিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করলেও মালয়েশিয়াকে হারানোর পর পাকিস্তানের সঙ্গে আবার দেখায় ৪-০ গোলে জয় পায়। আট দলের আসরে আক্ষরিক অর্থেই সফল দুটি দল উঠে আসে ফাইনালে। আর খেলার ধারাবাহিকতা বলছে, সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন দলটির ঘরেই গেলো এশিয়ার বিশ্বকাপ শিরোপা।

টিএআর/ক্যাট

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad