‘শুধুমাত্র হকির জন্যই তৈরি হয়েছিলেন একজন সোনা মিয়া’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৪

‘শুধুমাত্র হকির জন্যই তৈরি হয়েছিলেন একজন সোনা মিয়া’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

print
‘শুধুমাত্র হকির জন্যই তৈরি হয়েছিলেন একজন সোনা মিয়া’

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সোনা মিয়া’ খ্যাত হাকির কিংবদন্তি আব্দুর রাজ্জাক। দেশের বর্ষীয়ান খেলোয়াড়, পরে কোচ। এমনকি আম্পায়ার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের সবকিছু এক পর্যায়ে ছাপিয়ে গেছে অন্য পরিচয়ে। দেশের হকির বর্তমানে সবচেয়ে বড় মুখ রাসেল মাহমুদ জিমির বাবা তিনি। সোনা মিয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের শুরু সময় কিছু দিন খেলোয়াড় হিসেবে পেয়েছেন কাওসার আলী। বিকেএসপির সদ্য সাবেক এই কোচ কাছ থেকে দেখেছেন কোচ সোনা মিয়াকেও। বিকেএসিপতে আবার পেয়েছেন ‘অভিভাবক’ হিসেবেও। সোনা মিয়ার প্রয়াণের দিনে পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে অতিত স্মৃতি রোমন্থন করলেন তিনি। বললেন, শুধু মাত্র হকির জন্যই তৈরি হয়েছিলেন সোনা ভাই। একই সঙ্গে জাতীয় হকি ও জাতীয় ফুটবল দলে খেলা কাওসার আলীর কথাগুলো অনুলিখন করা হলো।

১৯৭৪ সালে যখন ঢাকায় এলাম তখন থেকেই সোনা ভাইকে আমি কাছ থেকে দেখেছি। দারুণ একজন খেলোয়াড়, কি মাঠে বা কি ফিগারে। মাঠে সবকিছুতেই ছিল তার আধিপত্য। একটা বিষয় ছিল, তার কাছ থেকে কেউ খুব সহজে বল নিতে পারত না। খুব জেদি খেলোয়াড় ছিলেন। রানিং অ্যান্ড ড্যাশিং খেলোয়াড়। তার মতো বল কন্ট্রোলিং খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যে আমি দেখেছি।

তবে সোনা ভাইকে খেলোয়াড় হিসেবে আমি পেয়েছি তার ক্যারিয়ারের শেষ দিকে। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ হকি দল সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে। সেই দলে সোনা ভাইয়ের সঙ্গে আমিও ছিলাম। এরপর যখন কোচিং শুরু করলেন সোনা ভাই, তখনও তার সঙ্গে অনেকবারই কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার।

এটা হয়তো অনেকেই জানেন না, তার সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে এই সূত্রে- ন্যশনাল টিমের ক্যাম্প সব সময় বিকেএসপিতে হতো। আমি তখন সব সময় সোনা ভাইয়ের সাথে ছিলাম। সমস্ত ন্যাশনাল ক্যাম্পে তার সাথে আমি সহযোগিতায় ছিলাম। আমার কোচিংয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক কিছুই তার কাছ থেকে শিখেছি, দেখেছি, এবং জেনেছি। কোচ হিসেবে তার অনেকগুলো বিষয় ছিল যা অনুকরণীয়।

যেটা বলছিলাম, খেলোয়াড় হিসেবে সোনা ভাইকে আমি শেষের দিকে পেয়েছি। মানে তার ক্যারিয়ার যখন শেষের দিকে। তারপর কোচ হিসেবে তাকে দেখেছি। আম্পায়ার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার লাইফস্টাইল দেখতে গেলে অনেক কিছুই আসবে। তার অনেকগুলো পজিটিভ-নেগেটিভ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, সমালোচনা হয়। আসলে কোনো মানুষই তো আর সমালোচনার বাইরে নয়। কেউ কম, কেউ বা বেশি।

এখন সোনা ভাইকে মূল্যায়ন আমি এভাবে করি- হকির জন্য একজন মানুষ যিনি শুধু মাত্র হকির জন্যই তৈরি হয়েছিলেন। তিনি ভীষণ রকমেরই হকি অন্তঃপ্রাণ খেলোয়াড় ছিলেন। যে-ই তাকে দেখেছে এক ঝলক, ভালো না বেসে পারেননি। সবাইকে আপন করে নিতেন। সব কিছুর উর্ধ্বে তার পারফরম্যান্স ছিল। অত্যন্ত উচ্চমানের একজন পারফর্মার ছিলেন।

সহ-খেলোয়াড়, কোচ এরপর সোনা ভাইয়ের সাথে আরেকটা অধ্যায় শুরু হলো আমার। যখন কিনা তার দুই সন্তান বিকেএসপিতে ভর্তি হলো। ছেলেদের বড় খেলোয়াড় বানানোর জন্য ভীষণ রকমের যোগাযোগ আমাদের সাথে তিনি রাখতেন। বড় ছেলে রাসেল মাহমুদ জিমি আজ দেশের হকির সবচেয়ে বড় নাম। আরেক সন্তান রাকিন সেও ভালো খেলোয়াড়। সোনা ভাইকে খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছি, তাকে আম্পায়ার হিসেবে দেখেছি এবং আরেকটা পর্যায়ে এসে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি।

বিকেএসপি’র আনন্দ উৎসবে এক মঞ্চে জিমি এবং সোনা মিয়া (২০০৫)

সোনা ভাইয়ের সাথে শেষ কবে সাক্ষাৎ হলো আমার? হ্যা, মনে পড়েছে। হকির যে নির্বাচনী একটা আবহাওয়া ছিল সেখানে বেশ কিছু খেলোয়াড়, অফিসিয়ালদের একত্রিত করার প্রচেষ্টা ছিল। সেখানে সোনা ভাইয়ের সাথে আমার শেষ দেখা। একটা হোটেলে সোনা ভাই এসেছিলেন। খুবই হাস্যজ্জ্বল ছিলেন। তখন ভাবিনি সোনা ভাইকে এরপর আর দেখতে পাব না। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন আমাদের সবার প্রিয় সোনা ভাই।

টিএআর/এসএম

আরো পড়ুন :

বাংলাদেশ হকির 'টাইগার' সোনা মিয়া আর নেই

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad