শুটিংয়ের ভেতরে ঢুকে ছবি তুলতে চায়

ঢাকা, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪

শুটিংয়ের ভেতরে ঢুকে ছবি তুলতে চায়

মাসউদ আহমাদ ১০:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

print
শুটিংয়ের ভেতরে ঢুকে ছবি তুলতে চায়

চরিত্র ও গল্প বেছে কাজ করতে পছন্দ করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। সম্প্রতি তার অভিনীত ‘গহীন বালুচর’ মুক্তি পেয়েছে। কাজ করলেন ‘তখন ৭৫’-এ। এটিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে কথা বললেন আসাদ।

‘গহীন বালুচর’-এ আপনি লতিফ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। ছবি রিলিজ হয়ে গেছে। হলে গিয়ে অনেকে দেখছে। ভালো ও মন্দ লাগার কথা জানাচ্ছে।  গ্রাম বাংলার পটভূমিতে ছবিটি তৈরি হয়েছে। আগেও এমন নদী-নালা খাল-বিল কাদা পানির পরিবেশে কাজ করেছি। এখন তো যোগাযোগ ভালো। সকালে রওনা দিয়ে দুপুরেই বরিশালে পৌঁছানো যায়। আর সৌদের সঙ্গে এই প্রথম কাজ করছি, তা তো নয়। অনেক আগে থেকেই তার সঙ্গে কাজ করছি। তবে এটা তার প্রথম সিনেমা। পরিচিত একঝাঁক মুখের সঙ্গে আনন্দ নিয়ে কাজটা করেছি। কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।

আপনি ৩৩ বছর পর সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে কাজ করলেন?

সুবর্ণার সঙ্গে সেই ছোটবেলা থেকেই কাজ করছি, বুঝলে তো। অনেক নাটক ও টিভি অনুষ্ঠানে কাজ করেছি। তুমি বলতে পার যে, সিনেমায় কাজ করলাম অনেক দিন পর। ৩৫ বছর পর সিনেমায় কাজ করলাম। কিন্তু, একসঙ্গে আমাদের কাজে কোনো ছেদ ছিল না।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডেপর নির্মিত কাহিনীচিত্র ‘তখন ৭৫’-এ আপনি কাজ করেছেন, অভিজ্ঞতা বলুন?

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে সময়ের অবস্থা, ভাবনা ও গল্প নিয়ে কাজটা করা হচ্ছে। এটার প্রিমিয়ার শোয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ এসেছিলেন। এটা তৃতীয় পর্ব। এরআগে দুটো পর্ব তারা করেছে। এটা প্রামাণ্যচিত্র নয় কিন্তু, কাহিনীচিত্র বলতে পার। সহিদ রহমান এই গল্পটি লিখেছে। পরিচালনা করেছে আবু হায়াত মাহমুদ। সেই সময়ের বাড়িঘর দেখানো হয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে কাজটা করেছি। এই কাজটির সঙ্গে বড় ভাবনা জড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অনেকেই স্বাধীনতার মূল ইতিহাস উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকেই সঠিক কথা বলতে চায় না। রাজাকার, আল-বদররা অর্থনৈতিকভাবে এখন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আমাদের এখন সচেতন হতে হবে। কীভাবে দেশ স্বাধীন হলো? কে করল? কারা করল? ৭ মার্চের ভাষণ কেন দেওয়া হয়েছিল? নিজের বোধ জ্ঞান দিয়ে সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। শুধু মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র দেখে ইতিহাস খুঁজলে চলবে না। আমাদের দেশে আগে ১৭০০ সিনেমা হল ছিল, এখন নেমে এসেছে সোয়া ৩০০-তে। এ প্রজন্ম গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করেছে। এটা কেউ তাদের মাথায় বাড়ি দিয়ে শিখিয়ে দেয়নি। দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, এটা কারো দয়ার মাধ্যমে হয়নি।

এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

এখন কাজের মধ্যেই আছি। কাজ করে যাচ্ছি নিয়মিত। গতকাল বুধবার একটানা কাজ করে ফিরলাম। আগামীকাল শুক্রবারও শুটিং আছে। আমেরিকায় ১০৪ পর্বের নাটক ‘নিউইয়র্ক থেকে বলছি’ করে ফিরলাম। এটা দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হবে।

একজন রাইসুল ইসলাম আসাদকে মানুষ আলাদাভাবে চেনে ও পছন্দ করে- এটা ভেবে কেমন লাগে?

মানুষের অনুরাগ তো খুব ভালো লাগে। মানুষ দেখা হলে কথা বলে, কেমন আছি জানতে চায়— এসব ঠিক আছে। কিন্তু, এখন যেটা হয়েছে, মোবাইলে ক্যামেরা এসে যাওয়ার কারণে কাজের জায়গায় মানুষ এসে ছবি তুলতে চায়। সময় ও পরিস্থিতি বুঝতে চায় না। শুটিংয়ের মাঝখানে ঢুকে পড়ে ছবি তুলতে চায়। ছবি না তুললে তারা বিরক্ত হয়। মাইন্ড করে। এতে কাজের খুবই সমস্যা হয়। যতটুকু কাজ করি, তার চেয়ে বেশি সময় দিতে হয় ছবি তোলার জন্য। এটা খুব বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। আগে তো মানুষ অটোগ্রাফ নিতে আসতো, এখন ছবি তোলে। মনে কর, একটি কাজের মধ্যে আছি, সেখানে ৬০ জন ছেলেমেয়ে আছে; সবার সঙ্গে আলাদাভাবে ছবি তুলতে হয়— ব্যাপারটা কী দাঁড়ায় বুঝতে পারছ? ফলে ভালো লাগার চেয়ে খারাপ লাগাটা বেশি হয়ে যায়।

এমএ/এজেডএস/আইএম

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad