কে অভিনয় করবে চ্যানেল বলে দেয়: শাহনাজ খুশী

ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪

কে অভিনয় করবে চ্যানেল বলে দেয়: শাহনাজ খুশী

মাসউদ আহমাদ ৮:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৮

print
কে অভিনয় করবে চ্যানেল বলে দেয়: শাহনাজ খুশী

টেলিভিশনের প্রিয় মুখ শাহনাজ খুশী। গ্রামজীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ভদ্র পাড়া’ ও ‘মজনু একজন পাগল নহে’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। কেমন ছিল কাজের অভিজ্ঞতা- জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে...

আপনি ‘ভদ্র পাড়া’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন, কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
এই নাটকে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। অসাধারণ। আমাদের অভিনয়ে প্রফেশনালিজমটা গড়ে ওঠেনি। অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হয়। সকাল নটায় গিয়ে উঠোনে বসি বা একটা জায়গায় বসে উঠে গিয়ে শুটিং করা। কাজের পরে একটু রেস্ট নেব- এই সুযোগ ছিল না। কিন্তু নাটকের গল্প যদি ভালো হয়, যারা অভিনয় করছেন এবং পরিচালকও ভালো- সৌখিন শিল্পী নয় প্রকৃত শিল্পী; তখন কাজ করে স্বস্তি পাই। ১৯৭১ সালের পটভূমিতে এই নাটকটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, নাটকের যে চিন্তা ও গল্প- দর্শকের কাছে ভালো মতো পৌঁছাতে খানিক সময় লাগবে। একাত্তরের সময় অনেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, এখনো তারা সেটা করে। এটাই মূল ভাবনা। কিন্তু আরও নানা টুকরো গল্প আছে। গ্রামের পটভূমিতে নির্মিত। দর্শকের ভালো লাগবে।

আরটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক ‘মজনু এখন পাগল নহে’, এই নাটক নিয়ে বলুন?
এই নাটকটা দর্শক দেখছেন, গ্রামের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে। গ্রামজীবনের সম্পর্কের ভাঙাগড়া এবং স্বার্থের কারণে মানুষের বদলে যাওয়া- এসব নিয়ে নাটকের গল্পটি। কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।

বাস্তবে আপনি যা নন অভিনয়ের মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তোলাই শিল্পীর কাজ; কীভাবে চরিত্র নিজের ভেতরে ধারণ করেন?
নাটকের স্ক্রিপ্টটা ভালো লেগে গেলে ভেতরে একধরনের প্রস্তুতি তৈরি হয়ে যায়। তখন আর কোনো কিছু আমাকে প্রভাবিত করে না। চরিত্রটি পছন্দ হয়ে গেলে অদ্ভুতভাবে একটা ব্যাপার কাজ করে, ভেতরে চরিত্রটা বসবাস শুরু করে। প্রস্তুতিটা তৈরি হতে থাকে। সে জন্য আমার কোনো রঙ লাগে না, অর্নামেন্ট কিংবা কোনো হেলপের দরকার হয় না।

অনেকদিন ধরে নাটকে কাজ করছেন, নাটক নিয়ে আপনার এখনকার স্বপ্ন ও ভাবনা কী?
নাটকে কাজের জায়গাটা দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। আমি মাস্টার্স শেষ করে অন্য কোনো কাজে যুক্ত হইনি। এই কাজটিই করি। আনন্দ পাই বলেই করি। কিন্তু এখন নাটক করে হতাশা ছাড়া কিছু দেখতে পাই না। এমন গল্প ও চরিত্র পাই- কাজে আনন্দ পাই না। নাটক কেমন হবে, কোন চরিত্রে কে অভিনয় করবে-এসব প্রডুউসার বা টিভি চ্যানেল ঠিক করে দেয়। এখানে যোগ্যতা অনুসারে কাজ করার সুযোগ কম। আমি ১০টা নাটক পেলে হয়ত ৩টাতে কাজ করি। চরিত্র পছন্দ না হলে কাজ করতে পারি না। সম্পর্ক ও যোগাযোগ না থাকলে ভালো কাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আপনার সন্তান দিব্য ও সৌম্য সম্প্রতি অভিনয় করেছে...
আমার দুই ছেলে নাটকে সিরিয়াসলি অভিনয় করতে শুরু করেছে, তা নয়। তারা ভীষণভাবে নাটকের ভক্ত। এক পর্বের নাটকে ওরা কাজ করেছে। এখনো তো পড়ছে। এ লেভেলে পড়ছে, মে মাসে পরীক্ষা। কিন্তু আমি খুবই আনন্দিত যে, নাটকের প্রতি ওদের ভালোবাসাটা তৈরি হয়েছে। বাবার লেখা নাটক দেখে ওরা সুচিন্তিত মতামত দেয়। সুযোগ পেলেই আমরা একসঙ্গে নাটক দেখি। বাবার লেখা ও মায়ের অভিনীত নাটকের ভালোমন্দ নিয়ে ওরা সুন্দর মন্তব্য জানায়। দেখা যাক সামনে কী হয়।

দর্শকের ভালোবাসা কেমন উপভোগ করেন?
অবশ্যই ভালোলাগে। মানুষের ভালোবাসা পেলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। পৃথিবীর অনেক দেশে নাটকে শো করতে গিয়েছি। প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। সত্যি বলতে, এটা অবিশ্বাস্য লাগে। কিন্তু লিডিং কাগজে আমার কোনো নিউজ হয় না। আমার ছেলে বিএফ শাহীন স্কুলে পড়ে। ওদের একটি বাৎসরিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখে ওখানকার প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। ভাবলাম, ছেলের কোনো বিষয়ে হয়ত কিছু বলতে চান। কিন্তু তিনি আমাকে তার পাশে বসতে বললেন। আমি বললাম, অসুবিধা নাই, বলেন। তিনি বললেন, ‘আমি আপনার অভিনয় খুব পছন্দ করি। আমার পাশে সেই জন্য বসতে বলেছি- এটা আপনি ডিমান্ড করেন। আপনার জায়গাটা এখানে।’ তো এই কথা শুনে আমার এত ভালো লেগেছে- আর কী চাওয়ার থাকে বলেন। মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি সুখী।

এমএ/এমএসআই

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad