সিনেমা দেখার অভ্যেসটা কম: শর্মী মালা

ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪

সিনেমা দেখার অভ্যেসটা কম: শর্মী মালা

মাসউদ আহমাদ ৭:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০১৮

print
সিনেমা দেখার অভ্যেসটা কম: শর্মী মালা

বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত সিনেমা ‘গহীন বালুচর’-এ অভিনয় করেছেন শর্মী মালা। ২৪ ঘণ্টার নোটিশে তিনি এই সিনেমার টিমের সঙ্গে যুক্ত হোন। কেমন ছিল কাজের অভিজ্ঞতা- জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে...

‘গহীন বালুচর’ সিনেমায় আপনি কমলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন, কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলুন?

কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। বদরুল আনাম সৌদ ভাই খুব যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। তিনি খুবই গুণী নির্মাতা। আমার আসলে এখানে কাজ করার কথা ছিল না। আমি ২৪ ঘণ্টার নোটিশে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। প্রথমে যার কাজ করার কথা ছিল, তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় হঠাৎই আমাকে ডাকা হয়। সিমেনার শেষ মুহূর্তে আমি এখানে জয়েন করেছি। নদীভিত্তিক পটভূমির গল্প নিয়ে নির্মিত এ সিনেমা। কিন্তু আমার কাজের অংশটি নদীপারে ছিল না। কাজ করে আমি খুব হ্যাপি।

এখন পর্যন্ত কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

খুবই ভালো সাড়া পাচ্ছি। ছুটির দিনগুলোতে বেশি দর্শক আসেন। মাত্র তো এক সপ্তাহ পার হলো। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে মানুষ কম আসেন। আর দর্শক যদি সিনেমাটা দেখেন, ভালোলাগে এবং দেখে এসে কাউকে দেখার জন্য বলেন, সেটা সবচেয়ে বড় ব্যাপার। কিন্তু তা হচ্ছে না। যতটুকু সাড়া পাওয়ার কথা ততটা হচ্ছে না। কারণ আমাদের এখানে প্র্যাকটিসটা গড়ে ওঠেনি। আমরা অপেক্ষা করি, কখন সিনেমাটি টেলিভিশনে বা ইউটিউবে আসবে। এভাবে তো আসলে হয় না। আমি কলকাতায় দেখেছি, তারা দুপুরে বা রাতে তাড়াহুড়ো করে খাচ্ছে, খেয়েই সিনেমা বা থিয়েটার দেখতে যাবে। এটা তাদের জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। ইনফ্যাক্ট আমাদের এখানে সেই জিনিসটা গড়ে ওঠেনি।

অটিস্টিক ছেলেমেয়ের সামাজিক সমস্যা নিয়ে নির্মিত ‘পুত্র’ সিনেমায় আপনি অভিনয় করেছেন...

‘পুত্র’ সিনেমায় কাজ করে খুবই ভালো লেগেছে। সাইফুল ইসলাম মান্নু ভাই আমার খুবই পছন্দের একজন নির্মাতা। এখানে কাজ করার একটিই উদ্দেশ্য ছিল- সিনেমাটা তৈরি হয়েছে অটিস্টিক বাচ্চাদের নিয়ে। আমাদের সমাজে তারা নানাভাবে উপেক্ষিত। তাদের খুব নেগলেট করা হয়। অনেকে এমনও মনে করেন, অটিস্টিক বাচ্চা হওয়াটা অভিশাপ।

এখানে আমার রোলটি ছোট, দুটো সিকোয়েন্স কাজ করেছি। কিন্তু আমি আমার চরিত্রটাতে অভিনয়ের স্বকীয়তা রাখতে পেরেছি। শুটিংয়ের আগে দেখার চেষ্টা করেছি যে, আমার কাজ করার জায়গাটা আছে কিনা, মানুষ এখান থেকে কিছু পাবে কিনা। এই ছবিতে কাজ করার সুবাদে অনুভব করেছি যে, প্রতিবন্ধী শিশুরা অন্য শিশুদের থেকে আলাদা। তাদের কিছু ব্যাপারে সমস্যা থাকে, অনেককিছু তারা বোঝে না। আবার কিছু ব্যাপারে বেশ ভালো এবং এগিয়ে থাকে।

এটা প্রকৃতির সহজাত বিষয়। তাদের ভেতরে এমন কিছু গুণ থাকে যা অন্যদের মাঝে থাকে না। আর একটি ব্যাপার হচ্ছে, অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মায়েরাও অনেক অবহেলা করেন। কিন্তু তাদের জন্য যে একটু বাড়তি খেয়াল ও যত্ন দরকার, অনেকেইে তা ফিল করেন না। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আমরা যেন কখনোই তাদের অবহেলা না করি। ছবিটি দেখলে আমাদের চিন্তার বিকাশ ঘটবে। ছবিটি সরকারি সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। অনেক হলে দেখানোর কথা। আমি যতটুকু জেনেছি, এক ধরনের সরকারি নির্দেশনা আছে, সিনেমাটি কতগুলো হলে চলবে এবং কতদিন ধরে দেখানো হবে।

এখন নতুন কী কাজ করছেন?

এই মুহূর্তে সিনেমার কোনো কাজ করছি না। কথা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু কয়েকটি নাটকে কাজ করছি। আর সম্প্রতি দুটো শর্টফিল্মের কাজ করলাম। আরও দুটি ফিল্মে কাজের কথা চলছে।

মানুষের ভালোবাসা কেমন উপভোগ করেন?

অবশ্যই খুব ভালোলাগে। যখন কোনো একটা ভালো কাজ করি, দেখার পর মানুষ রেসপন্স করেন, তাদের ভালোলাগার কথা জানান, সেটা ভালোলাগে এবং আমি খুবই এনজয় করি। কিন্তু যখন কোনো কাজ ভালো হয়নি বলে মনে হয়, দর্শকের রেসপন্সের আগেই নিজের কাছে খারাপ লাগে-এমন একটা কাজ করলাম কীভাবে। পরে দর্শকের সমালোচনা পেলে নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করি। মানুষের ভালোবাসা পেলে সবসময়ই ভালোলাগে। অনুপ্রেরণা পাই। এটা আমি উপভোগ করি।

এমএ/এমএসআই

 

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad