জীবনের টানাপোড়েনের গল্প ঘুড়ি: লুৎফর হাসান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

জীবনের টানাপোড়েনের গল্প ঘুড়ি: লুৎফর হাসান

মাসউদ আহমাদ ৭:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

print
জীবনের টানাপোড়েনের গল্প ঘুড়ি: লুৎফর হাসান

‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো’ গান দিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। ‘টেলিভিশন’ সিনেমায় গান করা আর গানযাপনের গল্প- এসব নিয়েই শিল্পী লুৎফর হাসান কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকম-এর সঙ্গে…

.

আপনার ‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো’ গানটি বেশ পরিচিত। এই গানের পেছনের গল্পটি বলুন?
আমি আর সোমেশ্বর অলি একসঙ্গে থাকতাম। তখনকার জীবন ও জীবনের টানাপোড়েনের গল্প নিয়েই গানটি করেছিলাম। গানটি অলির লেখা এবং আমার সুর করা। ২০০৪-এ গানটা করি। তখন শাহবাগে বা নানা জায়গায় আড্ডা দেই, গান করি। ২০১০-এ আমরা গানটা রেকর্ড করি। পরে রেডিও আমার-এ জমা দেই। আরজে রাজু তখন এটা প্রচার করে। পরে ভাবলাম, একটা আমরা মিউজিক ভিডিও বের করি। এতে মডেল হয়েছিলেন কবি ও অভিনেতা মারজুক রাসেল। ডিরেকশন দিয়েছিলেন কবি হিজল জোবায়ের। এরপর গানটা নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তারও অনেক পরে এই নামেই একটা পুরো অ্যালবাম করি।

গানটি এত জনপ্রিয় হবে ভেবেছিলেন কি?
প্রথমে কিছুই ভাবিনি আসলে। কিন্তু গানটা করার পরে মনে হয়েছিল, মনে হয় ভালোই করেছি। বিবিসি বাংলা আমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এই গানের কারণেই।

এরপর গান নিয়ে যাত্রাটা কীভাবে এগুলো?
‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো’ প্রকাশের পর খুবই জনপ্রিয় হয়। তারপর আমার গানের পথটি সহজ হয়ে যায়। সামনে যেতে থাকি।

আপনি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ সিনেমায় গান করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কেমন?
ঘুড়ি গানটি রিলিজ হওয়ার পর আমার ভালো একটা পরিচিতি গড়ে ওঠে। তখন, একদিন ফারুকী ভাই ডাকলেন। বললেন, তোমার জন্য একটা গান করেছি। কবীর বকুলের লেখা, আইয়ুব বাচ্চুর সুরে গানটি করি- ‘ভাবনায় ডুবি ভাসি’। সেটা ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা- বাচ্চু ভাইয়ের সুরে গান করা।

আপনি গান লেখেন, সুর করেন এবং ভয়েস দেন- কোনটা বেশি ভালো লাগে?
নিজে গাইতে পারলেই ভালো লাগে। মানুষ তো সামনে থাকতে পছন্দ করে। কাজেই আমার গাইতে ভালো লাগে। কিন্তু আমি প্রথম থেকেই লিখি। একদশক গান লিখছি। তাই নিজেকে লেখক পরিচয় দিতেই ভালো লাগে।

কবিদের গান নিয়ে অ্যালবাম করেছেন ‘জোনাকিরা; এটা নিয়ে বলুন?
আমি নিজেই কবিতার পাঠক। একটু লেখারও চেষ্টা করি। কবি আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, আবু হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ গান লিখেছিলেন।

নতুন কাজের খবর বলুন?
ঢাকা ডায়নামাইটস’র থিম সংটি আমি লিখেছি ও সুর করেছি। গান লেখা চলছে। সেজুল হোসেনের কথায় ‘শীতের অবসরে’ বলে একটি গান করলাম। ‘দূরত্ব’ শিরোনামে একটি গান করছি নিজের লেখা। বাচ্চাদের জন্য গান লিখছি। আমার নতুন বইয়ের কাজ চলছে। আগামী বইমেলায় কয়েকটি নতুন বই আসবে। একটি বইয়ের নাম ‘ভালোবাসার উনুনঘর’। উপন্যাসের সংকলন আর কবিতার বই বের হবে। গান নিয়ে আরও কিছু কাজ করছি।

একজন লুৎফর হাসানকে মানুষ আলাদাভাবে চেনে, জানে এবং পছন্দ করে-এটা ভেবে কী অনুভূতি হয়?
এটা আমার গোপন স্বপ্ন ছিল। এখন পর্যন্ত গান ও লেখা নিয়ে যা কিছু করেছি, এসব আমার প্রাথমিক কাজ। সামনে আমি আমার মূল কাজগুলো করতে চাই।

সাক্ষাৎকার: মাসউদ আহমাদ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad