বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস কী?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস কী?

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

print
বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস কী?

আজ ১৪ নভেম্বর, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। গোটা বিশ্বে দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পালন করা হবে। কারণ এটি এমন একটি রোগ যা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ রোগ এটি। তবে এটি একটি জটিল বা প্রাণঘাতি রোগ হলেও সচেতনতা ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ঝুঁকি থেকে বাঁচা সম্ভব। নিরব ঘাতক ডায়াবেটিস সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

.

বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস(ইংরেজি: Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো 'ডায়াবেটিস' বা 'বহুমূত্র রোগ'। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কথা। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে।

ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।

মানুষের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ সাধারণত ৩.৩ থেকে ৬.৯ মিলি.মোল/লি আর খাবার পর <৭.৮ মিলি.মোল/লি। কিন্তু যদি গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৭ মিলি.মোল/লি আর খাবার পর >১১ মিলি.মোল/লি পাওয়া যায়, তবে তার ডায়াবেটিস আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস বললে সাধারাণত ডায়াবেটিস মেলিটাস বোঝায়। তবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নামে আরেকটি রোগ আছে যাতে মূত্র উৎপাদন বেশি হয়, কিন্তু তা ADH অ্যান্টি ডাইইউরেটিক হরমোন নামে অন্য একটি হরমোনের উৎপাদনের অভাব বা ক্রিয়ার অভাবে হয়ে থাকে এবং মূত্রাধিক্য এবং তার জন্য অতিতৃষ্ণা এই দুটি উপসর্গের মিল ছাড়া এই রোগটির সঙ্গে "ডায়াবেটিস মেলাইটাস"-এর কোনো সম্পর্ক নেই। এ দুটির মধ্যে ডায়াবেটিস মেলাইটাসের প্রকোপ অনেক বেশি। ডায়াবেটিস মেলাইটাস আবার দুই রকম হতে পারে।

ডায়াবেটিসের ধরন
টাইপ-১ বা ইনস্যুলিন নির্ভরশীল
টাইপ-২ বা ইনস্যুলিন নিরপেক্ষ ডায়াবেটিস।

টাইপ-১
টাইপ-১ বহুমূত্র হল অটোইমিউন রোগ। এ রোগে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। তাই যাদের টাইপ-১ হয়, এদের দেহে ইনসুলিন উৎপাদিত হয় খুবই কম। এ জন্য রোগীকে বেঁচে থাকার জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্প নিতে হয়। শিশু ও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের বহুমূত্র হয় বেশি। ১০-৩০ বছরের মধ্যে দেখা দেয়। ইহা মূলত জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে। এর জন্য দায়ী হলো HLADR 3 এবং HLADR 4 নামক দুটি জিন।

টাইপ-১ কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়

টাইপ-১-এ অটোইমিউনিটির জন্য বিটা কোষের ধংসের কারণে এই টাইপ-১-এ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে ।
টাইপ-১-বি এটিও বিটা কোষের ধংসের কারণে হয়ে থাকে, কিন্তু এর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
(1) রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় (>130 mg/100ml)।
(2) রক্তে ছিটোনো বডির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
(3) মূত্রের মাধ্যমে গ্লুকোজের নিগরমন বা গ্লুকোসুরিযা হয়।

টাইপ-২
টাইপ-২ বহুমূত্র রোগের পেছনে থাকে মূলত ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’। টাইপ-২ রোগীরা শরীরে যে ইনসুলিন উৎপন্ন হয়, তাকে ব্যবহার করতে পারে না। ব্যায়াম ও খাদ্যবিধির সাহায্যে একে প্রথমে মোকাবিলা করা হয়। তবে অনেক সময় প্রয়োজন হয় মুখে খাওয়ার ওষুধ, এমনকি ইনসুলিন ইনজেকশন। ৪০ বছর বা তারপর এ ধরনের বহুমূত্র রোগ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় পানীয় টাইপ-২ এর ঝুঁকি বাড়ায়।
খাবারে চর্বির ধরণও গুরুত্বপূর্ণ;
স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটি এসিড ঝুঁকি বাড়ায়
পক্ষান্তরে পলি-আনস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ঝুঁকি কমায়।
অত্যধিক পরিমাণ সাদা ভাত খাওয়াও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
শারীরিক পরিশ্রম না করাও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম একটা কারণ

বিশ্বজুড়ে ২৪৬ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগীর ৯০ শতাংশের বেশি হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস।

দুই ধরনের ডায়াবেটিসই গুরুতর এবং হতে পারে শিশু ও তরুণদেরও।
এ জন্য ডায়াবেটিসের বিপদ-চিহ্নগুলো জানা খুবই প্রয়োজন। ‘মৃদু ডায়াবেটিস’ বলে কিন্তু কিছু নেই।
অন্যান্য ধরন
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় তৃতীয় এক প্রকার ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এটা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নামেও পরিচিত।

ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ
ঘন ঘন প্রস্রাব। (এ কারণে এ রোগটির নাম বহুমূত্র রোগ)।
অধিক তৃষ্ণা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া।
অতিশয় দুর্বলতা।
সার্বক্ষণিক ক্ষুধা।
স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস।
চোখে ঝাপসা দেখা।
ঘন ঘন সংক্রমণ।

বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন জটিলতা
অতিরিক্ত মেদ এ রোগের অন্যতম কারণ।
উপসর্গহীনতা বা অসচেতনতার কারণে চিকিৎসার অভাব।
কিডনি বা বৃক্কের অক্ষমতার অন্যতম মূল কারণ ডায়াবেটিস।
অন্ধত্ব বা দৃষ্টিবিচ্যুতির অন্যতম মূল কারণ ডায়াবেটিস।
বিনা দুর্ঘটনায় অঙ্গচ্ছেদের অন্যতম মূল কারণ ডায়াবেটিস।
ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

ইনসুলিন
অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধ (মুখে খাওয়ার ওষুষধ)
জীবনধারার পরিবর্তন: নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য গ্রহণে সচেতনতা, অসুখ সম্বন্ধে রোগীর প্রয়োজনীয় ধারণা।

২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষণায় ডায়াবেটিসকে দীর্ঘমেয়াদি, অবক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল ব্যাধি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মানবদেহে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া

ইসি/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad