‘চিকুনগুনিয়া’ আতঙ্ক নয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪

‘চিকুনগুনিয়া’ আতঙ্ক নয়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:১১ অপরাহ্ণ, জুন ০৮, ২০১৭

print
‘চিকুনগুনিয়া’ আতঙ্ক নয়

জনজীবনে হাজারো সমস্যায় মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভাইরাসজনিত জ্বর ‘চিকুনগুনিয়া’। এর আগে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বরে আক্রান্ত হলেও এবার চিকুনগুনিয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকিট কাউন্টারের হিসাব মতে, প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন এখানে চিকুনগুনিয়া রোগের চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, চিকনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এটি সাধারণ ভাইরাস জ্বর। এতে মৃত্যুঝুঁকি নেই।

১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়াতে এই ভাইরাস জ্বর দেখা দেয়। তবে বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালের দিকে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর দেখা মেলে। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে হঠাৎ করেই এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর মে মাসে এসে তা মহামারি আকার ধারণ করেছে।

এই রোগ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ‘'জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। পানি বাড়ার সঙ্গে এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে থাকে। তাই এ রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এই মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। তাই দিনের ঘুমের সময় সতর্ক থাকতে হবে। ঘরের আশপাশে কোথাও যেন জমাট বাঁধা পানি না থাকে সেই দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।'

আরো পড়ুন :
>> চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরামর্শ কেন্দ্র
>> চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জানুন
>>‘চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি নেই’

 মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন,  ‘চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। তবে এটি ডেঙ্গুর মতো ভয়ানক নয়। তাই এই জ্বর থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও সতর্কতা প্রয়োজন।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘চিকুনগুনিয়া নামে ভাইরাসজনিত রোগটি মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ জ্বরের তীব্রতা বেশি, যা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘চিকনগুনিয়ার বড়  লক্ষণ অস্থি সন্ধিতে তীব্র ব্যথা। এছাড়া মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যায়। জ্বর চলে যাওয়ার পরও এ শারীরিক দুর্বলতা ও অস্থি সন্ধিতে ব্যথা থাকতে পারে।’

স্বাভাবিকভাবে এই ব্যথা ৫-৭ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। অনেক সময় তা ২১ দিন থেকে ৩ মাস বা তারও বেশি সময় থাকে।

জ্বরের সময় রোগীকে সাধারণ জ্বরের মতোই সেবা করার কথাও বলেছেন ডা. সানিয়া। তিনি বলেন, 'এ জ্বরে প্রচুর পানি, সরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। রোগীকে পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেয়া ও জলপট্টি দেয়াসহ অন্যান্য সেবা দিতে হবে। আর জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া অন্য ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।'

তিনি বলেন, যাদের বয়স ৬৫ বছর বা তার উপরে, ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য এই জ্বরের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

এমএইচ/একে

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad