চিকনগুনিয়া জ্বরে ভয়ের কারণ নেই

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ ১৪২৪

চিকনগুনিয়া জ্বরে ভয়ের কারণ নেই

আশিক মাহমুদ ১:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৭

print
চিকনগুনিয়া জ্বরে ভয়ের কারণ নেই

রাজধানীসহ সারা দেশে নতুন আতঙ্কের নাম চিকনগুনিয়া জ্বর। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকনগুনিয়া রোগে আতঙ্কের কিছু নেই। এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না। কোনো ব্যক্তি একবার চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে পরবর্তী সময়ে কখনোই এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এডিস মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়। তাই একটু সতর্ক থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে। চিকনগুনিয়া ভাইরাসবাহী মশার কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির তিন থেকে চার দিনের মতো শরীরে জ্বর থাকে।

.

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণায় বলা হয়, ১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়ায় চিকনগুনিয়া রোগটি সনাক্ত হয়। তবে এখন বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে রোগটি দেখা যায়। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম এম সালেহ ভুঁইয়া বলেন, ‘চিকনগুনিয়া রোগের কারণে সাধারণত কোনো মানুষের মৃত্যু হয় না। একবার হলে জীবনে আর কখনো হয় না। তাই চিকনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্ক বা ভয়ের কিছু নেই।’ 

চিকনগুনিয়া জ্বরের প্রকোপ কেন কমছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা.  মো. আবুল কালাম আজাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দুই এক দিন পরপর বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত অতিরিক্ত মশার কারণেই চিকনগুনিয়া জ্বরের প্রকোপ কমছে না।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘এ জ্বরের প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ তীব্র জ্বর।যা ১০৩ থেকে ১০৪  ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় অস্থিসন্ধিতে, হাত বা পায়ের আঙুলের সন্ধিগুলোতে ব্যথা হয়। বড় অস্থি সন্ধিতেও ব্যথা হতে পারে। জ্বর চলে যাওয়ার পরও ব্যথা থাকতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যথা এক দেড় মাস বা তারও বেশি স্থায়ী হতে পারে। মাথা ব্যাথা করে। বমি বমি ভাব হয়। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যায়। জ্বর ভালো হলেও শারীরিক দুর্বলতা বহাল থাকতে পারে বেশ কিছুদিন।’ 

চিকনগুনিয়া জ্বর হলে করণীয় কী জানতে চাইলে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আর সব ভাইরাসজনিত জ্বরের মতোই এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। প্রচুর পানি, সরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাবেন। বমি বা অন্যান্য উপসর্গের জন্য সে অনুযায়ী কিছু ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। এন্টিবায়োটিক কোনো কাজে আসে না। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই।’ 

এদিকে, গতকাল বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকনগুনিয়া সম্পর্কিত একটি বৈঠক হয়। রোগতত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর চিকনগুনিয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২১ মে রোববার চিকনগুনিয়া জ্বর নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছে। 

এএম/এএসটি
আরো পড়ুন...
অতিরিক্ত মশার কারণে কমছে না চিকনগুনিয়া জ্বরের প্রকোপ
চিকনগুনিয়া জ্বর হলে যা করবেন
রাজধানীতে বাড়ছে চিকোনগুনিয়া জ্বর

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad