ভর্তি না হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তরুণী!

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

ভর্তি না হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তরুণী!

জাবি প্রতিনিধি ১১:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

print
ভর্তি না হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তরুণী!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধা) ভর্তি করানোর লোভ দেখিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। এজন্য তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকাও নেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত প্রেমিকাকে ভর্তি করাতে পারেননি ওই ছাত্র। কিন্তু এরপরও ছাত্রী পরিচয়ে এক বছর ধরে আবাসিক হলে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছিলেন ওই তরুণী।

তবে বিপত্তি বাঁধে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণের সময়। যথাযথ প্রমাণপত্র না থাকায় ফরম স্বাক্ষরের সময় ওই কথিত ছাত্রীর ব্যাপারে সন্দেহ হয় বিভাগের সভাপতির। প্রক্টর কার্যালয়ে সোপর্দ করলে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ওই ছাত্রী মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিই হননি।

জিজ্ঞাসাবাদে মোফসেনা ত্বাকিয়া নামের ওই তরুণী জানান, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে অপেক্ষমান তালিকা থেকে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধা) ভর্তি করিয়ে দেয়ার জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন ভূগোল বিভাগের ৪২ ব্যাচের ছাত্র মো. আল-আমিন হোসেন ওরফে শাহেদ। এজন্য তিনি বিকাশে অগ্রিম ২০ হাজার টাকাও নেন।

ত্বাকিয়ার দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রক্টর অফিসে এনে আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি চেষ্টার অভিযোগের প্রমাণ মিলে।

এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিকেলে ডাকা হয় জরুরি ডিসিপ্লিনারি সভা। সভা থেকে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে প্রক্টরিয়াল বডি।

পরে সন্ধ্যায় বসে জরুরি সিন্ডিকেট সভা। এতে অভিযুক্ত ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার, তদন্ত কমিটি গঠন এবং তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পরিবর্তবন ডটকমকে  নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

ওই তরুণী জানান, ‘ভর্তির আশ্বাস দিয়ে ২০ হাজার টাকা নিলেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের দু’জনের।’

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আল-আমিনের কাছে আমাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও থাকায়, সে আমাকে ভর্তি জালিয়াতির ব্যাপারে কারও কাছে অভিযোগ না করার জন্য বলে। যদি আমি বলি তবে সে ওই ছবি ও ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দেবে বলে হুমকি দেয়।’

তবে প্রক্টর কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আল-আমিন ত্বাকিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করলেও অর্থ লেনদেন ও ছবি-ভিডিও থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি আরও জানান, ত্বাকিয়ার সঙ্গে আল-আমিনের প্রথম পরিচয় হয় ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডির মাধ্যমে। ত্বাকিয়ার সঙ্গে তার মাত্র এক সপ্তাহের প্রেম ছিল বলেও দাবি করেন আল-আমিন।

যদিও আল-আমিনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে প্রমাণ মিলে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিল।

এ ঘটনায় আল-আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও ত্বাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

এবিষয়ে বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিককে পাওয়া যায়নি।

এইচএএম/এমএসআই

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad