ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫

ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেরোবি প্রতিনিধি ২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে শিক্ষকদেরকে চলতি/ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পদগুলোর পূর্ণ দায়িত্ব না পাওয়ায় সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

জানা যায, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, তিন হলের প্রভোস্ট, ছাত্র উপদেষ্টা, বহিরাঙ্গন পরিচালক, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী এ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক, সাইবার সেন্টারের পরিচালক পদে ১১ শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও একই ব্যাক্তিকে একই পদে দায়িত্ব দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে বেশ সমালোচনা চলছে।

চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, প্রক্টর পদে সিএসই বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. আবু কালাম মো ফরিদ উল ইসলাম, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট পদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালেয়া ডিনা, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট পদে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট পদে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা পদে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, বহিরাঙ্গনের পরিচালক পদে ম্যানেজম্যান্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফিউল আজম, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী এ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিকপদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, জনসংযোগ বিভাগের প্রশাসক পদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোযা ডিনা,সহকারী প্রশাসক পদে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসিফ আল মতিন এবং সাইবার সেন্টারের পরিচালক পদে সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামসুজ্জামান

জানা যায, বর্তমান উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যোগদানের পর বিভিন্ন সময় এ পদগুলোতে নিয়োগ প্রদান করেছেন। তিনি যেসব পদে রয়েছেন সেগুলো ছাড়া অন্য প্রত্যেকটি পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের চলতি দায়িত্ব প্রদান করেছেন উপাচার্য।

এদিকে চলতি দায়িত্বের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ সঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক। তিনি বলেন, দায়িত্বরত থাকলেও শিক্ষকগণ নিজ দপ্তরের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সব সিদ্ধান্ত আসে উপাচার্য থেকে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা শুধু উপাচার্যের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন মাত্র। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে প্রায় স্থবির হয়ে পরেছে এসব দপ্তর। প্রশাসনিক কাজে কোন গতি নেই। সামান্য বিষয়ে উপাচার্যের দিকে চেয়েথাকে দপ্তরগুলো।

এ বিষয়ে আরেক শিক্ষক বলেন, গত উপাচার্য অনেকগুলো পদ কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। তিনি পদগুলোতে কাউকে নিয়োগ দেননি। বিষয়টি বেশ সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য কৌশলে বেশ কিছু পদে নিয়োগ  দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু সেগুলোতে কাউকেই পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেননি। ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে দপ্তরগুলোর মূল ক্ষমতা উপাচার্য নিজের হাতেই রেখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদগুলোতে কিছু কন্ডিশন ফিলাপ করে শিক্ষকদেকে নিয়োগ দেয়া হয়। যারা কন্ডিশন ফিলাপ করতে পারে না তাদেরকে চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
কিন্তু এসকল পদে পুর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার মত অনেক শিক্ষক থাকলেও তাদেরকে দায়িত্ব না দিয়ে অন্যদেরকে চলতি/ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে বেশ সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহীম কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় একজনকে একাধিক দায়িত্ব দিতে হয়েছে। এছাড়া চলতি দায়িত্ব দিয়ে উপাচার্য তাদেরকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ-এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

এমএ/আরজি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad