জাবি সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিবাদ, প্রতিনিধির বক্তব্য

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

জাবি সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিবাদ, প্রতিনিধির বক্তব্য

জাবি প্রতিনিধি ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

print
জাবি সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিবাদ, প্রতিনিধির বক্তব্য

‘জাবির সাংবাদিকতা বিভাগের ফল বিপর্যয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ’ শিরোনামে শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তন ডটকমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ।

.

বৃহস্পতিবার সকালে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিকেলে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। নিচে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির প্রতিবাদ ও এ ব্যাপারে পরিবর্তন ডটকমের জাবি প্রতিনিধি হাসান আল মাহমুদের বক্তব্য তুলে ধরা হলো;

প্রতিবাদ:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘পরিবর্তন ডটকম’-এ ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ‘জাবির সাংবাদিকতা বিভাগের ফল বিপর্যয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি দুরভিসন্ধিমূলক ও অযৌক্তিক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ এই ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পুরো প্রতিবেদনে কোথাও শিরোনামটির সত্যতা প্রমাণ করে এমন কোনো তথ্য নেই। কে বা কারা, কীভাবে পক্ষপাতিত্ব করেছেন, প্রতিবেদনে তার কোনো উল্লেখ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় এই পরীক্ষার প্রত্যেকটি পর্যায় নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করেছে। এখন পর্যন্ত বিভাগ, পরীক্ষা কমিটি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পায়নি। এটা প্রমাণ করে, কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা তৃতীয় পরীক্ষক দ্বারা মূল্যায়ন হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পদ্ধতি। বরং এটি একটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া। এই বিষয়টিও প্রতিবেদনে অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষার্থীর প্রতি সমতামূলক আচরণ করে। ব্যক্তি নির্বিশেষে কারও সন্তান ভালো ফলাফল করতে পারবে বা পারবে না- এ ধরনের মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযৌক্তিক। এই ধরনের মনগড়া বিশ্লেষণ সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী। সুতরাং প্রতিবেদনে এই বিষয়টি বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা স্নাতককে যেভাবে ফলাফল করেছে, স্নাতকোত্তরেও অনুরূপ ফল করবে- প্রতিবেদকের এমন সহজ-সরল সমীকরণ পুরোপুরি অবাস্তব। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণভাবে দুটি আলাদা ডিগ্রি, পাঠ্যক্রমও ভিন্ন। কাজেই একই শিক্ষার্থী দুটি ডিগ্রিতেই তার প্রত্যাশানুযায়ী ফলাফল করবেন- এমন ধারণাই বরং পক্ষপাতদুষ্ট। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু, কোনো শিক্ষকেরই মন্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এটা প্রমাণ করে, প্রতিবেদনটিতে কাল্পনিক সূত্রের অবতারণা করা হয়েছে। এমনকি তথাকথিত কোনো ‘অভিযোগকারী’ শিক্ষার্থীর নাম পরিচয়ও উল্লেখ নেই।

প্রতিবেদনে স্নাতকোত্তরে ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এখানে ‘ফল বিপর্যয়’ প্রত্যয়টির অপব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তি বিশেষের প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষার ওপর ফল বিপর্যয় নির্ভর করে না। এছাড়া প্রতিবেদনের শিরোনামে বিভাগের নাম অসম্পূর্ণভাবে লেখা হয়েছে, যা আপত্তিকর। বিভাগের নাম হবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশে ইন্ধন যুগিয়েছে। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, আপনার বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের কাছ থেকে পেশাদারী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে। এই প্রতিবাদটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।

ধন্যবাদান্তে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ

জাবি প্রতিনিধির বক্তব্য:
‘জাবির সাংবাদিকতা বিভাগের ফল বিপর্যয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ’ শিরোনামে পরিবর্তন ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে প্রতিনিধির ব্যক্তিগত বা নিজস্ব কোনো মন্তব্য নেই। প্রতিবেদক নিজে থেকে কোনো দাবি বা অভিযোগও তোলেননি।

বিভাগটির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রতিবেদকের কাছে যেসব অভিযোগ করেছেন, তা-ই কেবলমাত্র তুলে ধরা হয়েছে। শিরোনামে থাকা ‘অভিযোগ’ শব্দটি তাই প্রমাণ করে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে বিভাগটির সভাপতির সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কয়েকবার ফোনালাপ হয়েছে। সরাসরি দেখা করে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে এবং সভাপতির দেওয়া বক্তব্য প্রতিবেদনে সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটিতে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কোনো কিছুই করা হয়নি।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশের পর ওই বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফল স্নাতকের চেয়ে খারাপ হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী খাতা পুনর্মূল্যায়ন এবং কেউ কেউ পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তারা জানতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অভিযোগের কথা জানান।

এ প্রতিবেদক বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, এটা কোনো নিয়ম নয়। কিন্তু, সাধারণত শিক্ষার্থীরা স্নাতকের চেয়ে স্নাতকোত্তরের ফল ভালো করে। প্রতিবেদনটিতেও ‘সাধারণত’ শব্দটি ব্যবহার করে এই অভিমত উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদেরই বক্তব্য, অথচ এ বিভাগের ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফল খারাপ করেছে, বিচ্ছিন্নভাবে দু-চারজনের ফল খারাপ হয়নি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বক্তব্যের সূত্র ধরেই ‘ফল বিপর্যয়’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের সপক্ষে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনামূলক চিত্র এই প্রতিবেদকের কাছে উপস্থাপন করেছেন, যেটি প্রতিবেদনেও রয়েছে।

বক্তব্যদানকারী শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। কারণ, সাংবাদিকতার নীতিমালা এমনটাই বলে যে, যদি কেউ নাম প্রকাশ করতে না চান এবং অসুবিধাজনক মনে করেন তাহলে তা গোপন রাখতে হবে। একই কারণে অধ্যাপকদের নামও উল্লেখ করা হয়নি। যে অধ্যাপকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে তারা অন্য বিভাগের ব্যাপারে প্রকাশ্য মন্তব্য করতে চাননি।

শিরোনামে বিভাগের পুরো নাম না লেখার ব্যাপারে আপত্তি করা হয়েছে। এটি একটি অযৌক্তিক আপত্তি। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলোতে ঢাবি, জাবি, রাবি, চবি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগ সম্পর্কে করা বহু প্রতিবেদনে বিভাগের পুরো নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ‘সাংবাদিকতা বিভাগ’ উল্লেখ করার নজির অহরহ। গণমাধ্যমে এটি বহুল চর্চিত বিষয়। মূলত শিরোনামে শব্দসংখ্যার সীমারেখা আছে বলেই এভাবে সংক্ষেপে লিখতে হয়। ফলে সাংবাদিকতা অধ্যয়ন সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ থেকে এমন আপত্তি আসাটাই হাস্যকর।
প্রতিবেদনে টিউটোরিয়াল ও এসাইনমেন্টের খাতা শিক্ষার্থীদের ফেরত না দেওয়ার অভিযোগের কথা থাকলেও প্রতিবাদলিপিতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হলো কেন, তা বোধগম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টিউটোরিয়াল ও এসাইনমেন্টের খাতা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মূল্যায়ন করে ফিরত দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির সভাপতির সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলাপচারিতায় তিনি স্বীকার করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশের এ নিয়মটি তিনি জানতেন না। একজন বিভাগীয় সভাপতির পরীক্ষা অধ্যাদেশ সম্পর্কে না জানাটাও প্রশ্ন তৈরি করে। তিনি তার কোর্সের খাতা নিজের কাছে রাখার কথাও এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এছাড়া বিভাগটিতে খোঁজ নিয়ে, অন্য শিক্ষকদের কোর্সে টিউটোরিয়াল ও এসাইনমেন্টের খাতা শিক্ষার্থীদের ফেরত না দেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে প্রতিবেদনটিকে কোনোভাবেই বিভ্রান্তিমূলক, অযৌক্তিক বা উদ্দেশ্যমূলক বলা চলে না

আরও পড়ুন

জাবির সাংবাদিকতা বিভাগের ফল বিপর্যয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

এইচএএম/আইএম

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad