ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আটক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আটক

ঢাবি প্রতিনিধি ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৭

print
ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ সেশনের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানাসহ ১৫ জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে তিনজনকে প্রশ্ন ফাঁসের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

.

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ৫৩টি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ৩৩টি স্কুল-কলেজসহ মোট ৮৬ কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ২০১৭-২০১৮ সেশনের এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এবার এই পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে ৬১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিকসহ প্রায় সব বিভাগের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।

এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে ১ হাজার ৬১০টি আসনের বিপরীতে ৯৮ হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এই ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ১৪৭টি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের জন্য ৪১০টি ও মানবিক শাখার জন্য ৫৩টি আসন রয়েছে।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জনকে পরীক্ষাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস নিয়ে হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে পরীক্ষার হল থেকেও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- নূর মোহাম্মদ মাহবুব, ফারহাদুল ইসলাম, ইশরাক হোসেন রাফী, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুকিন, রিশাদ কবীর, আসাদুজ্জামান মিনারুল, ইশতিয়াক আহমেদ, জয় কুমার সাহা, রেজওয়ানা শেখ শোভা, মাসুকা নাসরীন, তারিকুল ইসলাম, নাসিরুল হক নাহিদ ও মো. মিরাজ আহমেদ।

বাকি দু’জনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে এবং শহিদুল্লাহ হল থেকে আটক করে সিআইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদেরকে প্রশ্ন ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তারা হলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-২০১২ সেশনের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রানা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়নের ২০১৪-২০১৫ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মামুন।

রানাকে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত তিনটার দিকে সিআইডি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শহীদুল্লাহ হলে তার নিজ কক্ষ থেকে ডিভাইসসহ আটক করে। তার কাছ থেকে জব্দ করা প্রশ্ন ফাঁসের বিভিন্ন অডিও, ভিডিও ক্লিপস সিআইডির হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

আর আব্দুল্লাহ মামুনকেও অমর একুশে হল থেকে রাতে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সব সময় জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি। আজ যারা এ চেষ্টা করেছেন, তাদের আটক করা হয়েছে।’

পরে আটক ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিনাশ্রমে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। বাকি তিনজনকে সিআইডির মাধ্যমে নিয়মিতো মামলায় দেওয়া হয়।

ওএইচ/আইএম

‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস, একটি ই-মেইল ঘিরে রহস্য
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, ১২ জনের কারাদণ্ড

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad