হলবিহীন জবির মেসগুলোতে  রমরমা ব্যবসা ও সিনিয়রদের অত্যাচার!
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

হলবিহীন জবির মেসগুলোতে  রমরমা ব্যবসা ও সিনিয়রদের অত্যাচার!

জবি প্রতিনিধি ২:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৩, ২০২০

হলবিহীন জবির মেসগুলোতে  রমরমা ব্যবসা ও সিনিয়রদের অত্যাচার!

প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পার হলেও এখনো হলের মুখ দেখেনি জবি শিক্ষার্থীরা। জ্যাম ঠেলে পুরান ঢাকায় আসাটা কষ্টকর ও সময়সাধ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেকে বাধ্য হয়ে পুরান ঢাকায় মেস ভাড়া করে থাকেন। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন কতিপয় অসাধু বাড়িওয়ালা ও জবির সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। তুলনামূলক বেশি ভাড়া ও অগ্রিম বাড়িভাড়া নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর অর্ধেকের বেশি থাকেন পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে মেস করে। আবাসন সংকটের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা রকম অত্যাচার করা হচ্ছে প্রতিদিনই। পুরান ঢাকায় অধিকাংশ এলাকার ভবনগুলো রংচটা, পলেস্তার উঠা, জরাজীর্ণ। ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে আছে একটির গায়ে অন্যটি। নিচতলায় লোহালক্কড়ের কারখানা, চিপা গলি, অন্ধকার সিঁড়ি এখানকার চেনা চিত্র। এমন পরিবেশের সঙ্গে কেবল লেখাপড়ার জন্যই প্রতিনিয়ত লড়াই করে থাকতে হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের।

কিন্তু মেস ব্যবসার কারণে তাদের জীবন অতিষ্ঠ প্রায়৷ অধিকাংশ বাড়িতে বাড়ির আসল ভাড়া জুনিয়রদের জানানো হয় না। সেক্ষেত্রে সিনিয়ররা জুনিয়রদের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া থেকে কমপক্ষে ৫-৬ হাজার টাকা বেশি আদায় করে। তাদের কাছে আসল ভাড়া জানতে চাইলে তারা নানা রকম হুমকি দিয়ে থাকে।

নবীন শিক্ষার্থীদের সেক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। অসাধু বাড়িওয়ালারা নিজেদের স্বার্থে বিপুল পরিমাণে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এই বিষয়ে নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো তদারকিও। তাছাড়াও শিক্ষার্থীদের যখন তখন পূর্ব নির্দেশিত নোটিশ ছাড়া বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, বাড়িভাড়া সম্পর্কে আমাদের প্রথমে জানানো হয়নি। ঘটনাক্রমে বাড়ির দারোয়ানের কাছ থেকে জানতে পেরেছি বাড়ির আসল ভাড়া থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি আদায় করে সিনিয়ররা। কথা বলতে গেলে নানা রকম হুমকি দেয় তারা।

মেস ব্যবসা সম্পর্কে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অসুস্থ থাকায় নিজের মাকে আনতে চেয়েছিলাম বলে সিনিয়ররা তার মায়ের থাকার জন্য প্রতিদিন ২০০ টাকা অগ্রিম দিতে বলে এবং টাকা না দিলে মাকে আনতে না বলে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিভিন্ন বাড়িওলারা বিনা নোটিশ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিল এবং বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেন। প্রতিবাদ করলে বাড়া ছেড়ে দিতে বলেন। বাধ্য হয়ে আমাদের বাড়তি ভাড়াতে সেখানেই থাকতে হয়। আর যারা বাসা ভাড়া নেন তারা থাকে বিনা খরচায়।

এ বিষয়ে জবি প্রক্টর বলেন, যারা এইসব নিচু মানের ব্যাবসার সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলে অবশই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকরা খারাপ আচরণ করলে এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেটিএ/এএসটি

 

শিক্ষাঙ্গন: আরও পড়ুন

আরও