বশেমুরবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন না দেয়ায় আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

বশেমুরবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন না দেয়ায় আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০

বশেমুরবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন না দেয়ায় আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগ খোলার অনুমোদন দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বৈঠকে ইউজিসি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজ (বিলওয়াবস) ইন্সটিটিউটের অধীনে ইতিহাস বিভাগ চালু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর খন্দকার নাসিরউদ্দিন।

নিয়মের বাইরে গিয়েই এতদিন চলছিল  ইতিহাস বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে ৩ শিক্ষাবর্ষে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী এই বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। অনুমোদন না থাকার বিষয়টি জানার পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন তারা।

গত সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিভাগের অনুমোদনের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইউজিসির এক সভায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মৌখিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বিভাগের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরবর্তী বছর থেকে এই বিভাগে যেন আর শিক্ষার্থী ভর্তি না করা হয় সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

রাতে এ খবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা ইউজিসির নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

আজ শুক্রবারও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকেই প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিল ৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির সাথে মিটিং করে আমাদেরকে অনুমোদনের ব্যাপারে স্থায়ী সিদ্ধান্ত দিবেন। তবে ইউজিসি থেকে স্থায়ী কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। যা আমাদের কাম্য ছিল না। আমরা কিছুতেই ইতিহাস বিভাগকে বিলীন হতে দিব না। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহজাহান বলেন, ইউজিসির ৬ ফেব্রুয়ারির মিটিংয়ে ইতিহাস বিভাগের তিন ব্যাচকে তারা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। পাশাপাশি পরবর্তী ব্যাচ থেকে আর শিক্ষার্থী ভর্তি না করানোর জন্য বলেছেন।

পরবর্তী বছর থেকে শিক্ষার্থীরা  যদি এ বিভাগে ভর্তি হতে না পারে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ অস্থিত্ব সংকটে পড়বে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই কেন বা কিভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হল, এ ব্যাপারে জানতে সাবেক ভিসি প্রফেসর ড খন্দকার নাসিরউদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এমএফ/পিএসএস

 

শিক্ষাঙ্গন: আরও পড়ুন

আরও