অংকটা শেষ করতে পারলো না আবরার
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৩ চৈত্র ১৪২৬

অংকটা শেষ করতে পারলো না আবরার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

অংকটা শেষ করতে পারলো না আবরার

ঢাকা মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও চান্স পেয়েছিলেন। রাশিয়া গিয়ে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু মায়ের কথা, যারা পারমাণবিক নিয়ে কাজ করে তাদের ক্যান্সার হয়। তাই মায়ের অনুমতি না পেয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হয়েছিলেন আবরার ফাহাদ (২১)।

বুয়েটে ভর্তির দুই বছরের ব্যবধানে লাশ হতে হয়েছে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থীকে। 

সহপাঠিদের অভিযোগ, রোববার দিনগত রাত ৮টার দিকে শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এর আগে পড়ার টেবিলেই ছিল আবরার।

সোমবার দুপুরে বুয়েটের ১০১১ রুমে সরজমিনে দেখা যায়, পরিপাটি পড়ার টেবিলে পড়ে আছে একটি খাতা। যার খোলা পাতায় অসমাপ্ত একটি অংক। অর্ধ সমাপ্ত অংকটি এখনও পড়ে রয়েছে আবরারের টেবিলের উপর।

সহপাঠিদের ধারণা, ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে পেটানো হয়। পরে শের-ই বাংলা হলের একতলা ও দুই তলার মাঝখানের সিঁড়ি থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঢামেকে বুয়েটের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুক এলাহী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শের-ই বাংলা হলের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মাঝামাঝি জায়গায় ফাহাদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। তার শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন দেখি। পরে বিষয়টি বুয়েট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়।’

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন জানান, ‘বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেল ও ফুয়াদ নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা দুজনই বুয়েটের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতা।’

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ফাহাদের হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে ভোঁতা কোনো জিনিস যেমন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাঁটা চিহ্ন রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার শরীরে বিশেষ কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের স্থানে রক্তক্ষরণ ও পেইনেই (ব্যথা) তার মৃত্যু হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। রোববার (৬ অক্টোবর) দিনগত রাত ৮টার দিকে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত দুইটা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে শের-ই বাংলা হলের একতলা ও দুই তলার মাঝখানের সিঁড়ি থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওজি/জেডএস/এইচআর

 

শিক্ষাঙ্গন: আরও পড়ুন

আরও