সিসি ক্যামেরা দেখে সরে পড়ে হামলাকারীরা

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

সিসি ক্যামেরা দেখে সরে পড়ে হামলাকারীরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:০৪ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৮

print
সিসি ক্যামেরা দেখে সরে পড়ে হামলাকারীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা এপিএম সোহেলকে মারধরের আগে তাকে নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনের একটি গলিতে ঢোকে হামলাকারীরা।

তবে সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো দেখে তারা সোহেলকে অন্যত্র নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নাম্বার ওয়ার্ডের বেডে কাতরাতে কাতরাতে অস্পষ্ট স্বরে পরিবর্তন ডটকমের কাছে তার ওপর চালানো হামলার ঘটনা তুলে ধরেন সোহেল।

তিনি বলেন, ‘কোটা আন্দোলন নিয়ে ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আন্দোলনে যাতে না যায়, আগেও হুমকি দেয়া হয়েছিল। বুধবার আমার পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিয়ে বিকেল তিনটার দিকে বের হই। তখন থেকেই ছাত্রলীগের বাবুসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আমাকে অনুসরণ করছিল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট দিয়ে বের হয়ে রাস্তা পার হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে যেতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার গতিরোধ করে।’

তিনি বলেন, ‘এ সময় আমার সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু ছিল। ওরা আমাকে এসে বলে ‘তোমার সঙ্গে একটু কথা আছে, সাইডে চলো।’ তখন আমার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? জবাবে তারা বলে, ‘কোথাও না, ওর সঙ্গে একটু কথা বলব, তোমরা চলে যাও’। এরপর ওরা আমাকে নিয়ে ক্যাম্পাসের টিএসসির পাশের গলিতে ঢোকে। সেখানে একটা জায়গায় আমাকে দাঁড় করিয়ে আশপাশে তাকিয়ে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পায়। ক্যামেরা দেখে ১০-১২ জন ছাত্রলীগকর্মীর একজন বলে এখানে দাঁড়াব না, সিসি ক্যামেরা আছে। এরপর তারা আমাকে বাংলাবাজার গার্লস স্কুল লাগোয়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস গলির ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে নানা আশ্রাব্য গালাগাল ও মারধর করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে তারা চলে যায়।’

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব
দেয়া শিক্ষার্থীদের একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল। তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক।

গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম নয়ন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আহত সোহেল আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক। বিকেল ৩টার দিকে তার উপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।’

নয়ন আরও জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণেই তার ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আমরা এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি করছি।

পিএসএস/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ