হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘুরাঘুরি করছিল : সাবিতা

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘুরাঘুরি করছিল : সাবিতা

ঢাবি প্রতিনিধি ৬:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৮

print
হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘুরাঘুরি করছিল : সাবিতা

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য একটি ছাত্রসংগঠনের কোন্দলকে (ছাত্রলীগ) দায়ী করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা চোধুরী। একই সাথে হল থেকে কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওইদিন দুপুরে হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘুরোঘুরি করছিল। তাই আমরা হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিভাবকদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন করতে চেয়েছিলাম।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে শিক্ষক সমিতি  আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েক সপ্তাহজুড়ে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ১০ এপ্রিলের পর থেকে ওই হলকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে সুফিয়া কামাল হলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, ছাত্রীদের উত্তেজিত করতে 'গুজব'ই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।   

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষক ও নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক সামাদ।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার বর্ণনা দেয় শিক্ষক সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,  শিক্ষার্থীদের যোক্তিক দাবি ও অনুভূতিকে পুঁজি করে স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন সময় নানা ধরনের গুজব এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করেছে। তারই অংশ হিসেবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে ভিসির বাসায়।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীরা হামলাকারীদের পরিচয় সুস্পষ্টভাবে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সামাদ বলেন, হামলাকারীদের বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। কারণ ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের পর জানা যাবে আসলে কারা আসল হামলাকারী।

সংবাদ সম্মেলনে গভীর রাতে মেয়েদের বের করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, 'হলের বেশ কয়েকজন মেয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছিল এই বলে যে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আসলে বিশ্ববিদ্যালয় তো এশার লাঞ্ছনার ঘটনায় কাউকে বহিষ্কার করেনি। তাছাড়া ওইদিন দুপুরে হলের কিছু মেয়ে সন্দেহজনকভাবে করিডোরে ঘুরোঘুরি করছিল। তাই আমরা হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অভিভাবকদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন করতে চেয়েছিলাম।'

গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকদের ব্যানারে 'শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা কর' শীর্ষক এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন একদল শিক্ষক। যেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থনপুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের কাউকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কেন তারা আসেননি এই বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সামাদ বলেন, 'এ বিষয়ে তারা আমাদেরকে কিছুই জানাইনি এবং কোনো আলোচনাও করেনি। জানালে অবশ্যই আমরা তাদের আন্দোলনে সমর্থন দিতাম।'

গতকাল বেসরকারি একটি  টিভি চ্যানেলের টকশোতে একই কথা বলেন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যস্ত ছিলাম তাই তাদের মানববন্ধনে যোগদান করতে পারিনি।

এদিকে, হলের দুই হাজার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দেব এমন একটি অডিও রেকর্ডিং ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে অনেক।

এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ঘটনাটি স্বীকার করে হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, এশাকে লাঞ্ছনার বিষয়ে আমি হলের মেয়েদের বলেছিলাম যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মেয়েরা বলছিল, আমরা সবাই ওই সময় উপস্থিত ছিলাম। সুতরাং আপনি নির্দিষ্ট কয়েকজনকে বহিষ্কার করতে পারেন না। বহিষ্কার করলে সবাইকে করতে হবে। তখনই আমি এ কথাটি বলেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, যেই অডিও রেকর্ডিং ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সেখানে অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীরা আগে-পরে অনেক কিছু বাদ দিয়ে মাঝখানের অংশটা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ওএইচ/এএল    

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad