‘ছেলে স্বাভাবিক না হলে আমি শেষ হয়ে যাব’

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

‘ছেলে স্বাভাবিক না হলে আমি শেষ হয়ে যাব’

হাসান আল মাহমুদ, জাবি ১২:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
‘ছেলে স্বাভাবিক না হলে আমি শেষ হয়ে যাব’

মানসিক নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারানো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের সেই শিক্ষার্থীর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়টির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসি) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখনও নিজের বাবা-মাকে চিনতে পারছেন না ওই শিক্ষার্থী।

মিজানের সর্বশেষ অবস্থা জানতে তার বাবা মো. আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এখনও সে আমাকে ঠিকমত চিনতে পারছে না। কারো সাথে কথা বলে না। তার মাকে দেখার পর প্রথমে চিনতে পারেনি। পরে একটু চিনলেও মায়ের সাথে ভালভাবে মিশছে না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।’

পরিবর্তন ডটকমের প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘আমার এই একটা ছেলে। স্কুল-কলেজে ও কখনই কোনো খারাপ কারো সাথে মেশেনি। শুধু মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করেছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছে। চারটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে সে। আমার জীবনের সবকিছু তার পেছনে ব্যয় করেছি। ও ঠিক না হলে আমি শেষ হয়ে যাব। আপনারা সবাইকে বলেন, আমার ছেলের জন্য যেন একটু দোয়া করে।’

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকালেই মোবাইলে সুন্দরমত কথা বলেছে আমার সাথে। পরে রাতে ফোন দেওয়ার পর আর ফোন ধরেনি। পরে শুনলাম তার এই অবস্থা। এত কষ্ট করে ছেলেটাকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করালাম। ক্লাস শুরু করতে না করতেই তার এমন অবস্থা হয়ে গেল!

শুক্রবার মিজানের অসুস্থতার খবর শুনে মিজানের বাবা আব্দুল আজিজ এবং চাচা জয়নাল আবেদীন তাকে দেখতে আসলে ক্যাম্পাসে মিজান তাদেরকে চিনতে পারেননি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মিজান অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।

সহপাঠীরা জানান, শেষ রাতের দিকে মিজান চিৎকার করতে থাকে। আর বলতে থাকে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে গুম করে ফেলবে। মিজানের চিৎকার শুনে হলের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা গণরুমে গেলে মিজান তাদেরকে বলে ভাই মরার আগে আমাকে একবার মায়ের সাথে দেখা করতে দেন।

শুক্রবার দুপুরে মিজানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন পরিবর্তন ডটকমের জাবি প্রতিনিধি। তখন মিজান জানান, তার বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হল পরিবর্তন করতে বলেছেন তাকে। এবং হল পরিবর্তন না করলে সমস্যা হবে বলে সাবধাণ করে দিয়েছে তারা। কিন্তু মিজান যে হলে (শহীদ সালাম-বরকত হল) এলট পেয়েছেন সে হলেই থাকতে চাচ্ছিলেন। এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। অসুস্থবোধ করায় তখন এর চেয়ে বেশি কথা বলা সম্ভব হয়নি তার সাথে। পরে শুক্রবার রাতেই তার অবস্থার আরও অবনতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় তাকে।

এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি।

একটি তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির সুপারিশ করব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মিজান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন।

এইচএএম/এসএফ

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad