‘বিশ্রাম’ চাইতে শুরু করেছে মেসির শরীর!

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

‘বিশ্রাম’ চাইতে শুরু করেছে মেসির শরীর!

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

print
‘বিশ্রাম’ চাইতে শুরু করেছে মেসির শরীর!

বয়স সবে ৩০। এরই মধ্যে বয়সের ভারটা টের পেতে শুরু করেছেন লিওনেল মেসি! শরীর আগের মতো আর টানা ম্যাচ খেলার ধকল সামলাতে পারছে না। মাঝে মাঝে চাইছে বিশ্রাম! আজগবি গল্প ভেবে আগেই লাফিয়ে উঠবেন না। কোন নিন্দকু বা সমালোচক নন, মেসি নিজেই বললেন এই কথা। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা স্পষ্টই বললেন, বেঞ্চে বসে থাকাটা বেশ উপভোগ করছেন। মাঝেমাঝে বিশ্রাম নেওয়াটা নাকি ভালো!

.

লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে নেমেছে বার্সেলোনা, অথচ শুরুর একাদশে মেসি নেই, গত মৌসুম পর্যন্তও এমন দৃশ্য ছিল বিরল। পুঁচকে দলের বিপক্ষে কোপা ডেল রের অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলে অবশ্য মেসিসহ সিনিয়র খেলোয়াড়দের বসিয়ে রাখে বার্সেলোনা।

তেমনটা সব বড় দলগুলোই করে। কিন্তু লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ হলেই বার্সেলোনার শুরুর একাদশে মেসির থাকা নিশ্চিত। গত মৌসুম পর্যন্তও এটাই ছিল স্বাভাবিক এবং পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এই মৌসুমে এরই মধ্যে লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে ৩টি ম্যাচে মেসিকে বদলি তালিকায় রেখেছেন বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। সর্বশেষ দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচেই মেসির জায়গা হয় বেঞ্চে। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়েও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলেননি মেসি। টানা খেলার ধকল থেকে বাঁচতে নিয়েছিলেন বিশ্রাম।

মঙ্গলবার রাতেও স্পোর্টিং লিসবনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে মেসি ছিলেন বদলি তালিকায়। সতীর্থরা মাঠে খেললেন, আর মেসি তা উপভোগ করলেন বেঞ্চে বসে! বার্সা কোচ শেষ বদলি হিসেবে তাকে মাঠে নামায় ৬১ মিনিটে। গত মৌসুমেও যদি বার্সেলোনা কোচ কাণ্ড করতেন, বিতর্ক উঠে যেত। কিন্তু বিতর্ক দূরের কথা, এবার বিষয়টা নিয়ে টু-শব্দটিও হচ্ছে না। বিতর্ক হবে হবে কি করে, বিশ্রাম যে চাইছেন মেসি নিজেই!

নিজের শরীরটাই মেসিকে কানে কানে বলে দিচ্ছে, আগের মতো টানা ম্যাচ খেলার ধকল সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। এখন মাঝেমধ্যে একটু বিশ্রাম প্রয়োজন! টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫ বারের ফিফা ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার নিজেই বলেছেন, ‘আমি এখন বুঝতে পারছি, মৌসুমটা অনেক লম্বা। কখনো কখনো অন্য সময়ের চেয়ে খুব কঠিন মনে হয়। এক বছর আগেও আমার শরীরের অনুভূতিটা এমন ছিল না। ক্লান্তি কি, তা বুঝতামই না। কিন্তু এখন ক্লান্তির আলিঙ্গনটা অনুভব করতে পারছি।’

সেই ২০০৪ সালে বার্সার মূল দলে অভিষেকের পর থেকেই টানা খেলে আসছেন মেসি। এখনো বেঞ্চ গরম করে কাটাতে মন চায় না। কিন্তু শরীরের ডাকেই তা উপভোগ করছেন, ‘হ্যাঁ, বদলি হিসেবে নামাটা অবশ্যই কঠিন। তবে আমি অনুভব করতে পারছি, মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়াটা ভালো। আগে টানা খেলেছি। কিন্তু এখন বেশি বেশি ম্যাচ খেললে শরীরকে তার মূল্য দিতে হয়।’

কথায় কথায় উঠে আসে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গও। মেসি আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন রাশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তবে মেসি এটাও বললেন, বিশ্বকাপটা হবে তাদের জন্য কঠিন, ‘আমরা অবশ্যই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এটা সত্য যে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’

আরও উন্নতির কথা বললেন। আবার এটাও বলেছেন বর্তমান আর্জেন্টিনাও বিশ্বের ফেভারিট দলগুলোর চেয়ে খুব পিছিয়ে নেই, ‘আমরা এখন যে অবস্থায়, তাতে ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ফেভারিট দলগুলোর চেয়ে খুব দূরে নই।’

এক সময় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে উঠাই পড়ে গিয়েছিল শঙ্কার মধ্যে। মেসি-ম্যাজিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে জিতে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। বাছাইপর্বের কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার পর সম্প্রতি প্রীতি ম্যাচেও নাইজেরিয়ার মতো দলের কাছে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। দলের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা পর্যন্ত সমালোচনায় মুখর।

মেসি বললেন, সমালোচনা হবে এটা মেনেই নিয়েছেন তারা। সেটা মেনে নিয়েই এগোতে চান সামনের দিকে, ‘ফুটবলে সমালোচনা খুবই সাধারণ ঘটনা। এটা হবেই। পাশাপাশি এর অনুভূতি তিক্ততারও। কারণ, আমরা জানি, আমরা যদি খারাপ করি, আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। মানুষ ফল চায়। ফল না হলে তারা নতুন মুখ চাইবে।’

কেআর

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad