৪৮ মিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই গচ্চা!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ইতিহাসের সেরা ১০ ফ্লপ চুক্তি

৪৮ মিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই গচ্চা!

খলিলুর রহমান ২:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৭

print
৪৮ মিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই গচ্চা!

প্রতিটা দলবদলের মৌসুমেই দলবদল করেন হাজার হাজার ফুটবলার। ক্লাবগুলো অনেক আশা নিয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা ঢেলে দলে ভেড়ায় পছন্দের খেলোয়াড়কে। খেলোয়াড়েরাও নতুন স্বপ্নের জাল বুনে পাড়ি জমান নতুন ঠিকানায়। কিন্তু সব সবাই কী সফল হতে পারেন? কেউ সফল হন, কেউ হতাশায় পুড়িয়ে মারেন ক্লাব এবং সমর্থকদের। কেউ হন সুপার ফ্লপ। ৪০ মিলিয়ন ইউরো বা তার বেশী টাকায় চুক্তি করা খেলোয়াড়েরা সুপার ফ্লপ-স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘দ্য মার্কা’ ইতিহাসের পাতা ঘেটে এরকমই  সর্বকালের সেরা ১০টি ফ্লপ চুক্তি খুঁজে বের করেছে।

.

 

পরিবর্তনের পাঠকদের জন্য সেই ১০টি সুপার ফ্লপ চুক্তির তথ্য-উপাত্তই তুলে ধরা হলো:

১. অ্যান্ডি ক্যারল, ৪০ মিলিয়ন ইউরো, লিভারপুল

২০১১ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুল অনেক আশা নিয়েই ৪০ মিলিয়ন ইউরো খরচা করে নিউক্যাসল থেকে অ্যান্ডি ক্যারলকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইংলিশ ক্লাবটি ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড সুপার ফ্লপ। লিভারপুলে দেড় মৌসুম কাটিয়েছেন ক্যারল। সেই দেড় মৌসুমে ম্যাচ খেলেছেন ৪৪টি। গোল সংখ্যা আরও বেশী হতাশার। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন মাত্র ১১ গোল। মানে ক্যারলের প্রতিটি গোলের পেছনে লিভারপুলের খরচ প্রায় ৪ মিলিয়ন ইউরো! ২০১২ সালের আগস্টে লিভারপুল তাই বাধ্য হয়েই মাত্র ১৭ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে বিক্রি করে দেন ওয়েস্টহ্যামের কাছে।

২. ইলিয়াকুইম মাঙ্গালা, ৫০ মিলিয়ন ইউরো, ম্যানচেস্টার সিটি

২০১৪ সালের আগস্টে ৫০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তো থেকে ফরাসি এই ডিফেন্ডারকে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি। লক্ষ্য ছিল রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা। কিন্তু সিটির সেই আশা দুরাশাতেই পরিণত হয়েছে কেবল। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার মাঙ্গালা সিটিতে নিজেকে মেলে ধরতে চরম ব্যর্থ। গত তিন মৌসুমে তিনি খেলেছেন মাত্র ৪৯টি ম্যাচ। চুক্তি অনুযায়ী এখনো তিনি সিটিরই খেলোয়াড়। তবে সিটি এই মৌসুমে তাকে ধারে খেলতে পাঠিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়াতে।

৩. রবিনহো, ৪২ মিলিয়ন ইউরো, ম্যানচেস্টার সিটি

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের উত্থানটা হয়েছিল অনেক হইচই ফেলে দিয়েছে। তাকে ডাকা হতো ‘নতুন পেলে’ বলে। তাকে তাই অনেক ঢাক-ঢোল পিঠিয়ে ২০০৫ সালে নিয়ে আসে রিয়াল মাদ্রিদ। স্পেনের ক্লাবটিতে তিন মৌসুম কাটানোর পর ২০০৮ সালে তাকে ৪২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে নিয়ে আসে ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান তারকা ইংলিশ ক্লাবটিতে সুপার ফ্লপ। দুই মৌসুমে ৫৩ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ১৬টি গোল।

৪. আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো, ৪৫ মিলিয়ন ইউরো, চেলসি

ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো। ইউক্রেনের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে ২০০৬ সালে তাই অনেক আশা নিয়ে দলে ভেড়ায় চেলসি। বর্তমানে ইউক্রেন জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা শেভচেঙ্কোকে দলে আনতে ইংলিশ ক্লাবটি খরচ করে গুণে গুনে ৪৫ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু এসি মিলানের উড়ন্ত শেভচেঙ্কো চেলসিতে এসেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেন! ইউক্রেনিয়ানদের ভালোবাসার ‘শেভা’ স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে দুই মৌসুমে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। তাতে গোল করেছেন মাত্র ২৩টি। চরম হতাশ হয়ে চেলসি তাই ২০০৮ সালেই তাকে ধারে খেলতে পাঠায় সেই এসি মিলানে।

৫. ক্রিস্তিয়ান বেনতেকে, ৪৬ মিলিয়ন ইউরো, লিভারপুল

২০১৫ সালে অ্যাস্টন ভিলা থেকে জায়ারের এই ফরোয়ার্ডকে ৪৬ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে আনে লিভারপুল। কিন্তু লিভারপুল কর্তাদের কি হতাশাটাই না উপহার দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ান বেনতেকে! প্রীতি ম্যাচে লিভারপুলের হয়ে অভিষেকেই গোল করেন। কিন্তু তার পরই শুরু হয় হতাশার পর্ব। চুক্তিটা তিন বছরের হলেও বেনতেকে লিভারপুলে টিকতে পারেন মাত্র একটি মৌসুম। সেই ২০১৫-১৬ মৌসুমে ২৯ ম্যাচ খেলে করেন ১০ গোল। মানে প্রতি গোলের পেছনে লিভারপুলের খরচ হয় ৪.৬ মিলিয়ন ইউরো!

৬. গেইজকা মেন্ডিয়েটা, ৪৮ মিলিয়ন ইউরো, লাৎসিও

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ফ্লপ চুক্তির জায়গাটা বুঝি দখল করে আছে এটাই। ২০০১ সালে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া থেকে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে ৪৮ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে দলে ভেড়ায় লাৎসিও। কিন্তু ইতালিয়ান ক্লাবটিতে তিনি ফ্লপ যে, সেই ইতিহাস তিনি নিজেও হয়তো ভুলে থাকারই চেষ্টা করেন! লাৎসিও একটি মৌসুমই খেলেছেন স্প্যানিয়ার্ডদের প্রিয় মেন্ডিয়েটা। তাতে ২০টি ম্যাচ খেলে একটিও গোল করতে পারেননি! মানে লাৎসিওর ৪৮ মিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই গচ্চা! পরের মৌসুমেই তাই বাধ্য হয়ে ধারে খেলতে পাঠায় বার্সেলোনায়। তার পরের মৌসুমে খেলতে পাঠায় ইংলিশ ক্লাব মিডলসব্রুতে।

৭. ডেভিড লুইজ, ৫০ মিলিয়ন ইউরো, পিএসজি

চেলসিকে কী দুর্দান্ত ফর্মেই না ছিলেন ডেভিড লুইজ। সেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখেই ২০১৪ সালে বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে দলে ভেড়ায় পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটিতে গিয়ে ঝাকড়া চুলের দীর্ঘদেহী লুইজ জুটি বাঁধেন স্বদেশী থিয়াগো সিলভার সঙ্গে। আশা করা হচ্ছিল, সিলভা-লুইজ মিলে অসাধারণ একটা জুটিই গড়ে তুলবেন পিএসজির রক্ষণভাগে। কিন্তু ফরাসি ক্লাবটির সেই আশার গুড়ে বালি ছিটিয়ে দেন লুইজ। পিএসজিতে লুইজ নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ফল, সিলভা এখনো সেই পিএসজিতে থাকলেও লুইজকে ২০১৬ সালেই আবার চেলসির কাছে বিক্রি করে দেয় ফরাসি ক্লাবটি।

৮. জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, ৬৬ মিলিয়ন ইউরো, বার্সেলোনা

জুভেন্টাস, ইন্টারমিলানের হয়ে ততদিনে নিজের জাতটা চিনিয়ে ফেলেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ২০০৯ সালে তাই ইন্টারমিলান থেকে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সুইডিশ ফরোয়ার্ডকে বিশাল অঙ্কের চুক্তিতে দলে ভেড়ায় বার্সেলোনা। প্রত্যাশা ছিল লিওনেল মেসির সঙ্গে মিলে দুর্দান্ত একটি জুটিই গড়ে তুলবেন ইব্রাহিমোভিচ। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। অবশ্য বার্সেলোনায় ব্যর্থতার জন্য এক ইব্রাহিমোভিচকে দায়ী করা যায় না! মেসিকে বেশী প্রাধান্য দিতে গিয়ে বার্সেলোনার তৎকালীন কোচ পেপ গার্দিওলা সুইডিশ এই ফরোয়ার্ডকে অবহেলা করেছেন বলে গুঞ্জন আছে।

ইব্রাহিমোভিচ নিজেও অনেকবার বলেছেন এই কথা। ঘটনা যাই হোক, চুক্তিটার ফলে বড় অঙ্কের টাকাই গচ্চা দিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। কাতালন ক্লাবটির হয়ে একটি মৌসুমই খেলেছেন। তাতে ২৯ ম্যাচে ২১টি গোলও করেছিলেন তিনি। কিন্তু মেসি-গার্দিওলা দ্বদ্বে জড়িয়ে ২০১০ সালেই অভিমানী সুইডিশ ফরোয়ার্ড পাড়ি জমান ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানে। বর্তমানে যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলছেন।

৯.  কাকা, ৬৫ মিলিয়ন ইউরো, রিয়াল মাদ্রিদ

ইতিহাসের সেরা ফ্লপ চুক্তিগুলোর তালিকায় কাকার নামটি জায়গা করে নেবে এমনটা ছিল কল্পনারও বাইরে। ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে তখন ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ২০০৭ সালে জিতে নেন ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। মাঠে পায়ের মায়াবী জাদু ছড়ানো সেই কাকাকে ২০০৯ সালে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার ফিতে নিয়ে আসে রিয়াল মাদ্রিদ।

ধারণা করা হচ্ছিল রিয়ালের তারায় মেলায় যোগ দিয়ে কাকা দ্রুতি ছড়াবেন আরও বেশী। কিন্তু প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি একবিন্দুতে মিলেনি। কাকা রিয়ালে নিজেকে ঠিক মেলে ধরতে পারেননি। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা ৪টি মৌসুম কাটিয়েছেন বটে; তবে মাঠে আলো ছড়ানোর কারণে যতটা, তার চেয়েও বেশী আলোচিত হয়েছেন চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে ছিটকে পড়ে। সেই যে হারিয়ে যাওয়ার শুরু, এরপর ক্লাব বদলেও নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

১০. অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, ৭৫ মিলিয়ন ইউরো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, বেল-বেনজেমাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুণ ফর্মে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। তা দেখেই ২০১৪ সালে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে রিয়াল থেকে ৭৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে নেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ইংলিশ ক্লাবটিতে চরম ব্যর্থ। ফল, মাত্র এক মৌসুম পরই ইউনাইটেড তাকে বিক্রি করে দেয় পিএসজির কাছে। যতদূর খবর, ফরাসি ক্লাবটিও ২৯ বছর বয়সী ডি মারিয়াকে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত! সে যাই হোক, ইউনাইটেডে একমাত্র সেই মৌসুমে ২৯টি ম্যাচ খেলেন ডি মারিয়া। তাতে গোল করেন মাত্র ৪টি। মানে তার প্রতিটা গোলেল পেছনে ইউনাইটেডের খরচ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ইউরো!

কেআর

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad