নেইমার প্রশ্নে বার্সা কর্তাদের দিকে আঙুল তুললেন পিকে!

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

নেইমার প্রশ্নে বার্সা কর্তাদের দিকে আঙুল তুললেন পিকে!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৭

print
নেইমার প্রশ্নে বার্সা কর্তাদের দিকে আঙুল তুললেন পিকে!

বার্সেলোনা ছেড়ে নেইমারের পিএসজি যাত্রা নিয়ে নাটক কম হয়নি। ধীরে ধীরে সেই নাটকের পেছনের সব গোপন রহস্যই ফাঁস হতে শুরু হচ্ছে। নেইমার, দানি আলভেসরা তাদের গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন আগেই। এবার বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে খোদ বার্সেলোনার পক্ষ থেকেও। আর সেই গোপন রহস্য ফাঁস করতে গিয়ে বার্সেলোনা ডিফেন্ডার কাঠগড়ায় তুললেন বার্সেলোনার পরিচালকদের। তার অভিযোগ, ক্লাব কর্তাদের গাফলতির কারণেই নেইমারকে দলে নিতে পেরেছে পিএসজি! তার কথা, ক্লাব কর্তারা ব্যাপারটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করলে নেইমারের মতো একজন প্রতিভাকে হারাতে হতো না!

নেইমারকে ধরে রাখতে না পারার পেছনে গাফলতি তো আছেই। পিকে মনে করেন, নেইমারের বাবার কমিশন না দেওয়াটাও নেইমারকে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পিকের স্পষ্ট ইঙ্গিত, বার্সেলোনা কর্তারা যদি নেইমারের বাবাকে পূর্ব প্রতিশ্রুত কমিশনের টাকা প্ররিশোধ করত, তাহলে এমনটা ঘটত না!

ঘটনা খুলেই বলা যাক। গত বছর নেইমারের চুক্তি নতুন করে ৫ বছরের চুক্তি করে বার্সেলোনা। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, চুক্তির বোনাস হিসেবে নেইমারের বাবা এবং এজেন্ট নেইমার সান্তোসকে সিনিয়রকে ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো কমিশন দেবে বার্সেলোনা। কিন্তু বার্সেলোনা এখনো সেই টাকা নেইমারের বাবাকে দেয়নি। পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর নেইমার যে টাকার জন্য বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ করার কথা পর্যন্ত ভাবছেন। ক্লাব কর্তাদের প্রশ্ন বিদ্ধ করে পিকে বললেন, প্রাপ্য ওই কমিশন নেইমারের বাবাকে দিয়ে দিলে এমনটা হতো না।

পিকের দাবি, তিনিসহ বার্সেলোনার অনেক খেলোয়াড়ই বেশ আগেই বুঝতে পেরেছিলেন নেইমার চলে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি যে ‘নেইমার বার্সেলোনাতেই থাকছেন’ দাবি করে টুইট করেছিলেন, সেটা তিনি করেছিলেন নেইমার চলে যাচ্ছে জেনেই!

কিন্তু খেলোয়াড়েরা আগে থেকে জানলেও যাদের দায়িত্ব ছিল ব্যাপারটা আরও বেশী সচেতনভাবে ডিল করা, সেই ক্লাব কর্তারাই গুরুত্ব দেয়নি। পিকে সরাসরিই বলেছেন, ‘আমি জানি না, ক্লাব ব্যাপারটা ঠিকভাবে জানত কিনা। আমি জানতাম। কারণ ব্যাপারটা নিয়ে আমিসহ আমাদের বেশ কয়েক খেলোয়াড়ের সঙ্গেই যোগাযোগ হয়েছিল। কিন্তু আমি ঠিক জানি না, ক্লাব সভাপতি বা টেকনিক্যাল সেক্রেটারি এ বিষয়ে জানত কিনা।’

ক্লাব কর্তাদের অবহিত করার দায়টা যে খেলোয়াড়দের নয়, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন পিকে, ‘ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা আমার কাজ নয়। আমরা ফুটবলার। আমাদের কাজ ফুটবল খেলা। কোনো খেলোয়াড়ের চুক্তির ব্যাপারে যোগাযোগ করা ক্লাব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব।’

নেইমারের বাবার কমিশন সম্পর্কে পিকে বলেছেন, ‘যদি তার বাবাকে কমিশন দেওয়া হতো, তাহলে এমনটা নাও ঘটতে পারত। কারণ, ক্লাব নেইমারের মতো প্রতিভাকে ধরে রাখতেই চেয়েছিল। তা ছাড়া চুক্তির শর্তানুসারে ক্লাবই তার বাবাকে কমিশন দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।’

নিজের সেই টুইটের ‘সে থাকছে’ প্রসঙ্গে পিকে বলেছেন, ‘যেদিন আমি বলেছিলাম ‘সে থাকছে’, তার আগেই আমি জানতাম যে তার চলে যাওয়াটা শতভাগ নিশ্চিত। ওটা ছিল শেষ ধাপ। সে আমার উপরে খুব রাগ করে এবং আমরা চলে যাই। আমি ওই কথাটা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছিলাম ক্লাব সাহায্য করার জন্য। যাতে অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়টি ধরে রাখার ব্যাপারে ক্লাব আরও বেশী সচেতন হয়। কাজটা কঠিন ছিল। তবে আমি আমার ক্লাবের জন্য চেষ্টা করেছি।’

সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ পিকে। হতাশ বার্সেলোনার সবাই।

কেআর

 

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad