অভিবাবক সংস্থার উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে মেহেরপুরের ফুটবল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৮ কার্তিক ১৪২৪

অভিবাবক সংস্থার উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে মেহেরপুরের ফুটবল

আবু আক্তার করন, মেহেরপুর ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৭

print
অভিবাবক সংস্থার উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে মেহেরপুরের ফুটবল

এক সময় মেহেরপুরে যেখানেই মাঠ সেখানেই হতো ফুটবল। কিন্তু দিন দিন এখানে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সেই ফুটবল খেলা। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের উদাসীনতার কারণেই আজ জেলা স্টেডিয়ামে নেই কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট। দীর্ঘদিন ফুটবল আসর না থাকায় নতুন করে তৈরি হচ্ছে না খেলোয়াড়। যুব সমাজের মাদকসহ নানা বাজে দিকে আসক্তির অন্যতম কারণও হয়ে দাঁড়াচ্ছে খেলার এই অভাব।

 

মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠ তো খেলোয়াড় আর সমর্থক-দর্শকে মূখর থাকার কথা। সেখানে কয়েকদল যুবকের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে কতটা উদাসীন জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কয়েক বছর আগে এই মাঠে বিকাল হলে খেলোয়াড়দের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট নেই। তাই এখন আর তেমন কোনো খেলোয়াড় মাঠে আসেন না। বছরে একটি টুর্নামেন্ট নাম মাত্র আছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি ফাইনাল আলো দেখেনি। আবার ফাইনাল খেলা হলেও নির্ধারিত সময়ে হয়নি। এমন পরিকল্পনার অভাব ও বিবেচনার ঘাটতি মেহেরপুরের ফুটবলকে দিয়েছে পিছিয়ে। ফুটবল এখানে হারানোর পথে।

একদিকে জেলা থেকে তৈরি হচ্ছে না নতুন খেলোয়াড়। অন্যদিকে যুব সমাজ খেলাধুলার মতো মহৎ বিনোদন থেকে বঞ্চিত থাকছে। অনেকে বিনোদন খুঁজতে নানা আসক্তির পথ নিচ্ছে। এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় অভিভাবক মহলও। সাবেক ও নবীন ফুটবল খেলোয়াড়রা বলছেন দ্রুততম সময়ের মধ্য জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। এখানে একদা তুমুল জনপ্রিয় ফুটবলকে আবার জনপ্রিয়তায় ফেরানোর দায় তাদের। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা বলছেন নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়রা জানান, নিয়মিত খেলা না হওয়ায় মেহেরপুরে ফুটবল বিলুপ্ত প্রায়। তারা মনে করেন, মাঠে ফুটবল নিয়মিত হলে হারিয়ে যাওয়া খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলোকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ফুটবল খেলা না থাকায় অনেক কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। মাঠে খেলা থাকলে তারা উদ্যোগী হবেন। নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে। নতুন খেলোয়ার যদি না তৈরি করা যায় তাহলে এক সময় ফুটবলের জৌলুস একেবারেই হারিয়ে যাবে।

স্থানীয় ফুটবল কোচ শ্যামা রহমান জানান, 'জেলা ক্রীড়া সংস্থা হলো খেলোয়ার তৈরির স্কুল। সেই স্কুল যদি উদাসীন হয় তাহলে এই জেলা থেকে ভাল কোনো খেলোয়াড় তৈরি হবে না। জেলায় এখনো অনেক ভাল মানের ফুটবল খেলোয়ার রয়েছে যারা জাতীয় টিমে খেলার মত যোগ্যতা রাখে।'

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক রিটন বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামে কোন ধরণের খেলা নেই। এ কারণে যুব সমাজ এখন ফেসবুকে বেশী আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফুটবলের জৌলুসকে ফিরিয়ে আনতে সরকারী-বেসরকারীভাবে সব ধরণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।'

মেহেরপুর পৌরসভা মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, 'বিলুপ্ত ফুটবলকে চাঙ্গা করতে মেহেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।' ফুটবলের আয়োজক ও অভিভাবক সংস্থাকে প্রতি বছর ফুটবল আসর আয়োজনের আহবান জানান তিনি।

সবাই যখন এসব বলছেন তখন মেহেরপুর জেলা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আতাউল হাকিম লাল মিয়া সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন। বললেন, 'বাফুফের কাছ থেকে যতটুকু সহযোগিতা পাওয়া যায় তা দিয়ে প্রতিবছর ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।'

এএকে/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad