লরির মৃত্যুতে কাঁদছে ফুটবল বিশ্ব

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪

লরির মৃত্যুতে কাঁদছে ফুটবল বিশ্ব

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৭

print
লরির মৃত্যুতে কাঁদছে ফুটবল বিশ্ব

ফেসবুকে হৃদয়ভাঙ্গা খবরটা দেখার পরই সংবাদ সম্মেলন ডাকেন জার্মেইন ডিফো। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন কি, তার আগেই কেঁদে ফেলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। দুহাতে মুছতে থাকেন চোখের জল! শুধু ডিফো নন, খবরটা শোনার পর কাঁদছে পুরো ফুটবল বিশ্বই। মাত্র ৬ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তুলেছিল যে হাস্যোজ্জ্বল শিশুটি, সেই ব্র্যাডলি শুক্রবার রাতে হার মেনেছে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে। ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসার বন্ধন ছিঁড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে।

মাত্র ১৮ মাস বয়সেই মরণঘাতি ক্যান্সার বাসা বাঁধে ইংলিশ ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের ভক্ত এই শিশুটির শরীরে। সেই থেকেই লড়াই করে আসছিল মৃত্যুর সঙ্গে। তার সেই লড়াইয়ে শরীক হয়েছিল পুরো ফুটবল দুনিয়াও। লরির চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন অনেকেই। তহবিল সংগ্রহের জন্য গড়া হয় ব্র্যাডলি লরি ফাউন্ডেশন। সেই ফান্ডে জমা হয় লাখ লাখ পাউন্ড। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি সবারই কায়মনো প্রার্থনা ছিল লরির রোগমুক্তির। কিন্তু সবার ভালোবাসার বাঁধন ছিঁড়ে চলেই গেল লরি।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিবৃতি দিয়েছে সান্ডারল্যান্ড-এভারটনসহ অনেক ফুটবল ক্লাবই। শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের অনেক মহারথী। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ‍ফুটবলপ্রেমী লরির বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বদলে ফেলেছেন ফেসবুক প্রোফাইল ছবি।

ইংল্যান্ডের হার্টলপুলের খুব কাছে ব্ল্যাকহল কোলিইরিতে জন্ম নেওয়া লরির মৃত্যু হয়েছে বাবা-মার কোলেই। তার নিঃশ্বাস চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফেসবুকে খবরটি বিশ্বকে জানিয়ে দেন তার মা জেম্মা ব্র্যাডলি। ফেসবুকে বিশ্বকে ছেলের মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে জেম্মা লিখেন, ‘আমাদের সাহসী ছেলে আজ ১৩.৩৫টায় পরিবারের সবার সামনে তার বাবা-মার কোল থেকেই ফেরেশতাদের কাছে চলে গেছে।’

লরির মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে, এটা তার পরিবরের সবাই জানত। আয়ু ফুরিয়ে আসার কথা জানত ছোট্ট লরিও। তাইতো গত ১০ মে ৬ষ্ঠ জন্মদিন পালনের সময় তার ফুটবল হিরো ডিফোকে বলেন, এটাই শেষ জন্ম দিন! লরির মুখে এই কথা শোনার সেদিনও কেঁদেছিলেন ডিফো। কেঁদেছিল তার সঙ্গে থাকা সান্ডারল্যান্ডের গোলরক্ষক ভিতো ম্যানোনও।

১৮ মাস বয়সে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর একবার সেরেও উঠেছিল লরি। কিন্তু কিছুদিন পরই আবার দেখা দেয় ক্যান্সার। এবার তার ধরা পড়ে গলায় টিউমার। যে টিউমার দ্রুতই মৃত্যুর ক্ষণটিতে কাছে টেনে নিয়ে আসে। তবে মরণঘাতি ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস সত্ত্বেও লরির মুখ থেকে মুহূর্তের জন্যও হাসি উধাও হয়নি। যে মিষ্ঠি হাসি দিয়েই ছোট্ট লরি জায়গা করে নিয়েছিল বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের অন্তরে।

ক্যান্সার নিয়েও লরি ছুটে যেত মাঠে। প্রিয় ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের জার্সি গায়ে লরি একাধিক ম্যাচও খেলেছে! সেটা অবশ্য তারই উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রর্দশনী ফুটবল ম্যাচে। গত বছর চেলসির বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আগে গা-গরমের সময় পেনাল্টি থেকে একটা গোলও করেছিল! পরে যে গোলটা পায় ‘মাসের সেরা গোলের’ মর্যাদা। এভারটনের সঙ্গে প্রদর্শনী ম্যাচেও মাঠে নামে লরি।

সেসব আয়োজনই ছিল নিষ্পাপ লরির জন্য নির্মল আনন্দের উপলক্ষ্য। কিন্তু মাঠে সে হাসলেও তার সেই হাসি কাঁদিয়েছে পুরো গ্যালারি। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরাই তাকে আদর করে কোলে নিয়েছে, চুমু দিয়েছে। তবে লরির সবচেয়ে বেশি সংখ্যতা ছিল ডিফোরর সঙ্গেই। ডিফো যে তার স্বপ্নের নায়ক। ডিফোও প্রিয় ভক্তকে ভালোবাসতেন খুব। সময় সুযোগ পেলেই দেখতে যেতেন লরিকে।

কিন্তু সেই ভালোবাসা ছিন্ন করে লরি এখন অনেক দূরে। যেখানে গিয়ে দেখা করতে হলে ডিফোকেও কাটাতে হবে দুনিয়ার মায়া!

কেআর

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad