হারের চেয়েও জুভেন্টাসকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে পরিসংখ্যান!
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

হারের চেয়েও জুভেন্টাসকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে পরিসংখ্যান!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

হারের চেয়েও জুভেন্টাসকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে পরিসংখ্যান!

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোল’র প্রথম লেগে কাল বড় একটা অঘটনের জন্ম দিয়েছে অলিম্পিক লিঁও। ফ্রান্সের পুঁচকে ক্লাবটি ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে দৈত্য জুভেন্টাসকে। যে ক্লাবটিতে রয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, পাওলো দিবালা, গঞ্জালো হিগুয়েইনের মতো বাঘা বাঘা সব ফরোয়ার্ড।

শুধু দলে থাকাই নয়, কাল লিঁও’র বিপক্ষে আক্রমণভাগের এই বাঘা সৈনিককে শুরুর একাদশেও নামিয়েছিলেন জুভেন্টাস কোচ মরিসিও সারি। কিন্তু রোনালদো, দিবালা, হিগুয়েইনরা মিলে দলকে একটা গোল এনে দিতে তো পারেনই নি, বরং প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেননি!

সত্যিই তাই। রোনালদো, দিবালা, হিগুয়েইন— আক্রমণভাগের এই বাঘ মিলেও ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিটে লিঁওর গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেননি! ফলে হারের চেয়েও জুভেন্টাস কোচকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে ম্যাচের পরিসংখ্যান। জুভেন্টাসের হয়ে সম্প্রতি অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন রোনালদো। কিন্তু কাল লিঁওর মাঠে সেই রোনালদোকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঠে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে পারেননি দুই আর্জেন্টাইন তারকা দিবালা এবং হিগুয়েইনও।

আক্রমণভাগের এই নিষ্প্রভতারই চরম খেসারত দিতে হয়েছে জুভেন্টাসকে। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ভুগেছে জুভেন্টাসের মিডফিল্ডার এবং ডিফেন্ডাররাও। তারপরও অবশ্য ম্যাচে বল পজেশনে এগিয়ে ছিল জুভেন্টাসই। ম্যাচে ৬৩.৬ বল পজেশন ছিল সফরকারীদের। বিপরীতে স্বাগতিক অলিম্পিক লিঁও’র বল পজেশন ছিল মাত্র ৩৬.৪ শতাংশ। বল পজেশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৪টি শটও নিয়েছে জুভেন্টাসের খেলোয়াড়েরা।

কিন্তু বল পজেশনে রাখা আর এলোপাথাড়ি শট নেওয়াই যে সব নয়, সেটি কাল লিঁও’র মাঠে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে জুভেন্টাস। বল পজেশনে যোজন পিছিয়ে থাকলেও ধারালো আক্রমণ গড়ায় স্বাগতিক লিঁওই ছিল এগিয়ে। দ্রুত প্রতি আক্রমণে জুভেন্টাসের অতি-অভিজ্ঞ রক্ষণও বারবার কাঁপিয়ে দিয়েছে লিঁও’র তরুণ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচে জুভেন্টাসের গোলমুখে ১২টি শটও নিয়েছে তারা। যার মধ্যে তাদের দুটি শট ছিল জুভেন্টাসের গোলমুখে। যার একটি খুঁজে নিয়েছে ঠিকানা।

তাতেই জুভেন্টাসের বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে অলিম্পিক লিঁও। এর আগে দুই দলের ৪ বারের সাক্ষাতে ৩ বারই জয়ী হয়েছে জুভেন্টাস। বাকি একবার কোনো রকমে ড্র’র স্বাদ পেয়েছিল অলিম্পিক লিঁও। সেই লিঁও কাল হারিয়ে দিল রোনালদো, দিবালা, হিগুয়েইনদের দলকে!

এটা ফরাসি কোনো ক্লাবের বিপক্ষে দীর্ঘ ১১ বছর পর হার জুভেন্টাসের। ফ্রান্সের কোনো ক্লাবের কাছে জুভরা সর্বশেষ হেরেছিল সেই ২০০৯ সালে। বোর্দোর বিপক্ষে ২-০ গোলে। কালকের গোলটি মিলিয় সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ৭ ম্যাচে অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল হজম করল জুভেন্টাস। ২০১০ সালের পর এই লজ্জা গায়ে মাখতে হলো ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের।

তবে জুভেন্টাস কোচ সারিকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে, দলে রোনালদো, দিবালা, হিগুয়েইনের মতো তিন গোল-শিকারী থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শট নিতে না পারার বিষয়টি। জুভেন্টাস সর্বশেষ এমন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল সেই ২০১৪ সালে। আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো সিমিওনের অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেবার কোনো শট নিতে ব্যর্থ হয় জুভেন্টাস ফরোয়ার্ডরা।

তবে তখনো বর্তমানের মতো ধারালো আক্রমণভাগ ছিল না তাদের। সর্বোপরি তখন দলে ছিল না রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা গোল-মেশিন। সেবারের তুলনায় তাই কালকের কষ্টই বেশি তুরিনের ওল্ড লেডিদের। জুভেন্টাসের কোচ-সমর্থকদের এই কষ্ট মুছে দিতে পারেন একমাত্র রোনালদো-দিবালারাই।

কারণ, ১ গোলে হারলেও জুভেন্টাসের সামনে এখনো সুযোগ আছে শেষ আটে পা রাখার। সেজন্য আগামী ১৭ মার্চ শেষ ষোল’র ফিরতি লেগে অবশ্যই রোনালদো, দিবালা, হিগুয়েইনদের জ্বলে উঠতে হবে। আশার কথা এই, ১৭ মার্চের ফিরতি লেগটি জুভেন্টাস খেলবে নিজেদের ঘরের মাঠে। রোনালদো-দিবালা-হিগুয়েইনরা পারবেন, সেদিন জ্বলে উঠে কালকের এই কষ্ট মুছে দিতে?

কেআর

 

খেলাধুলা: আরও পড়ুন

আরও