তাদের কল্যাণে রক্ষণদূর্গ ইতালিতে গোল-বিল্পব!
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

তাদের কল্যাণে রক্ষণদূর্গ ইতালিতে গোল-বিল্পব!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

তাদের কল্যাণে রক্ষণদূর্গ ইতালিতে গোল-বিল্পব!

ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে মৌসুমের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল কিনা হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’তে! তথ্যটা শুনতেই কানের মধ্যে যেন কেমন একটা অবিশ্বাসের বাজনা বেজে যাচ্ছে। তার চেয়েও বেশি করে বাজছে বিস্ময়ের সুর!

ইতালি হলো রক্ষণাত্মক ফুটবলের ধারক-বাহক। ‘গোল করতে পারি না পারি, কিন্তু কোনোভাবেই গোল খাওয়া যাবে না’— এই হচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবল দর্শন। ইতালিয়ান ক্লাবগুলোই নিজেদের চিরায়ত এই দর্শন মেনে চলে। গোল না খাওয়ার পণ করেই রক্ষণ আটসাট করে নামে মাঠে। অতি রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে সেখানে ফরোয়ার্ডদের জন্য গোল করাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

বরাবরই তাই ইউরোপের অন্যান্য দেশের লিগগুলোর তুলনায় ইতালিয়ান সিরি আ’তে গোল হয় কম। সেখানে রক্ষণাত্মক কৌশলের খেলাটাই চলে বেশি। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, অতি রক্ষণাত্মক ফুটবলের পুজারি সেই ইতালিতে এবার চলছে অবিশ্বাস্য গোল-বিল্পব।

ঘটনা শতভাগ সত্যি। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে মৌসুমের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল দেখেছে ইতালিয়ান সিরি আ! গোলের সংখ্যাটাও বিস্ময় জাগানিয়া। মাত্র ২৩ রাউন্ডেই সিরি আ’তে এবার গোল হয়েছে ৬৭১টি। সংখ্যাটা কতটা বিস্ময়কর, সেটি অন্যান্য দেশের লিগগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলেই স্পষ্ট। মৌসুমের এ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩৩টি গোল হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। মানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চেয়েও ৩৮টি গোল বেশি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’তে।

জার্মান বুন্দেসলিগায় ২১ ম্যাচে রাউন্ডে হয়েছে ৬১০ গোল। সবচেয়ে বেশি গোলপ্রসবা বলে খ্যাতি যে লিগের, সেই লা লিগায় ২৩ রাউন্ডে হয়েছে মাত্র ৫৮৩ গোল। মানে লক্ষণাত্মক ফুটবলের পুজারি ইতালিয়ান সিরি আর চেয়ে গোল রোমাঞ্চের স্পেনের লা লিগায় গোল হয়েছে ৮৮টি কম! সিরি আতে সর্বোচ্চ গোল হওয়াটা যতটা বিস্ময়ের, ঠিক ততটাই বিস্ময়ের লা লিগার অবিশ্বাস্য গোলখরার বিষয়টি।

রক্ষণদূর্গ ইতালিতে হঠাৎই এমন অবিশ্বাস্য গোল-বিল্পবের রহস্য কী? রহস্য আর কিছুই নয়, সিরো ইমোবাইল, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রোমেলু লুকাকুদের দুর্দান্ত ফর্মই এমন গোল-রোমাঞ্চে ভাসিয়েছে ইতালিয়ানদের।

বেশি বেশি গোল করায় বরাবরই টেক্কা দেন লা লিগার ফরোয়ার্ডরা। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট পুরস্কারই এ স্বাক্ষ্য দেয়। ইউরোপের লিগগুলোর সর্বোচ্চ গোলদাতার মধ্যে সর্বোচ্চ গোল-পয়েন্টের ভিত্তিতে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। লিগ গোলের পয়েন্টের ভিত্তিতে দেওয়া মর্যাদার এই পুরস্কারটা সর্বশেষ ১০ বছরই গেছে লা লিগার ফরোয়ার্ডদের দখলে।

এর মধ্যে রেকর্ড ৬ বার এই পুরস্কারটা জিতেছেন লিওনেল মেসি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জিতেছেন ৩ বার। একবার জিতেছেন মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ। এদের মধ্যে রোনালদো এখনো লা লিগা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান সিরি আ’তে। রোনালদোর বিদায়ের মধ্যদিয়ে স্পেনের লা লিগাতে চলছে ভয়াবহ গোলখরা।

এবার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, লা লিগার কোনো খেলোয়াড় ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে দশেও নেই। এমনকি সর্বশেষ ৩ বারই এই পুরস্কার জেতা মেসিও না। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন সবার উপরে ইতালিয়ান সিরি আ’র দল লাৎসিও’র তরুণ ফরোয়ার্ড সিরো ইমোবাইল। ইতালির এই তরুণ স্ট্রাইকার মাত্র ২৩ ম্যাচেই করেছেন ২৫ গোল। সেখানে মেসি করেছেন মাত্র ১৪ গোল। মানে শীর্ষে থাকা ইমোবাইলের চেয়ে তিনি ১১ গোল কম করেছেন। পিছিয়ে আছেন ২২ পয়েন্টে।

এটা তাই অনায়াসেই বলা যায়, ইতালিতে হঠাৎ গোল-বিল্পব চলার সবচেয়ে বড় কারণ সিরো ইমোবাইল। ইতালিয়ান তরুণের পাশাপাশি সিরি আ’র এই গোল-বিপ্লরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রোমেলু লুকাকুদের অবদানও অনেক।

মৌসুমের শুরুতে তেমন একটা সুবিধা করতে না পারলেও রোনালদো বর্তমানে অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন। গত ম্যাচটিতেই তিনি জুভেন্টাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গড়েছেন টানা ১০ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড। সব মিলে ২০ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন তিনি। ইন্টার মিলানের হয়ে বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড লুকাকু করেছেন ১৭ গোল।

ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি সিরি আ’র দলগুলোর মিডফিল্ডার-ডিফেন্ডাররাও হঠাৎ গোল করায় বিশেষ পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গোল করছেন মিডফিল্ডার-ডিফেন্ডাররাও। এর সুবাদেই রক্ষণদূর্গ ইতালিতে বইছে গোল-বিল্পবের চোরাস্রোত। সেই স্রোত কোথায় গিয়ে থামবে কে জানে!

কেআর

 

খেলাধুলা: আরও পড়ুন

আরও