জিদানের রিয়ালই জিতল শিরোপা

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

জিদানের রিয়ালই জিতল শিরোপা

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

জিদানের রিয়ালই জিতল শিরোপা

স্প্যানিশ সুপার কাপ বা সুপারকোপা ডি এস্পানার ফাইনালটা হতে পারত মর্যাদার এল ক্লাসিকো। কিন্তু তা না হওয়ায় যারা মন খারাপ করেছিলেন, কালকের রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের ফাইনালটি নিশ্চিত ভাবেই তাদের মন ভালো করে দিয়েছে। এল ক্লাসিকোর মতোই আগুনতপ্ত হয়েছে মাদ্রিদ ডার্বি। টানা ১২০ মিনিট স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ের পরও তাই ফাইনালটি থাকে গোলশূন্য। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ভাগ্য নিজেদের করে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। টাইব্রেকারে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ১১তম বারের মতো সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে রিয়াল।

এর মধ্যদিয়ে শতভাগ ফাইনাল জেতার অভ্যাসটা ধরে রাখলেন জিনেদিন জিদান। রিয়ালের কোচ হিসেবে এটা ছিল জিদানের ৯ম ফাইনাল। সেই ৯টি ফাইনালেই জিতলেন তিনি। ৯-কে ৯ করে জিদান করে ফেললেন ১০। রিয়ালের কোচ হিসেবে এটা তার ১০ম শিরোপা। ফাইনালবিহীন একমাত্র শিরোপাটি তিনি জিতেছেন লিগে।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রিদের দুই প্রতিবেশির লড়াই মানেই স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধ। আর সেটা যদি হয় ফাইনাল, তাহলে তো কথাই নেই। কাল সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে সুপার কাপের ফাইনালটিও ছিল আগুনতপ্ত। কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দেয়নি। একটা ফুটবল ম্যাচকে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর করে তুলতে যেসব উপাদান লাগে, কালকের ফাইনালে গোল বাদে আর সবই হয়েছে।

ফাউল, ধাক্কাধাক্কি, কথা কাটাকাটি-বাদ ছিল না কিছুই। ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়েরা কতটা স্নায়ুচাপে ভোগেছেন, কতটা মেজাজ গরম করে খেলেছেন, এটা পরিসংখ্যানেই সেটা স্পষ্ট। ম্যাচটি দক্ষ হাতে পরিচালনা করতে রেফারিকে হলুদবার্ড বের করতে হয়েছে ৮ বার। এক ম্যাচে ৮টি হলুদকার্ড প্রদর্শন, আগুনতপ্ত ম্যাচের স্বাক্ষ্যই দিচ্ছে।

শিরোপার লড়াইয়ে কাল জিদান মাঠে নেমেছিলেন দল অপরিবর্তিত রেখে। মানে সেমিফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে একাদশই নামিয়েছিলেন কাল। অন্যদিকে অ্যাতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে দলে আনেন একটা পরিবর্তন। নিরপেক্ষ ভেন্যুর ফাইনালটিতে শুরুতে রাজত্ব করেছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদই। ম্যাচে প্রথম সুযোগটিও পেয়েছে অ্যাতলেতিকোই। কিন্তু তরুণ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড হুয়াও ফেলিক্স সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জিদানের রিয়াল খেলায় ফিরে আসে। এরপর একের পর এক আক্রমণ গড়ে রিয়াল কাঁপিয়েছে অ্যাতলেতিকোর রক্ষণভাগ। অ্যাতলেতিকোর ভাগ্য ভালো, কাল আরেকটি অবিশ্বাস্য ম্যাচ কাটিয়েছেন স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক ইয়ান অবল্যাক। দুর্দান্ত সব সেভ করে অ্যাতলেতিকোর জাল অঁক্ষত রাখেন তিনি। গ্লাভস হাতে বিশেষ কারিশমা দেখিয়েছেন রিয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কুর্তোইস। ম্যাচের শেষ সেভটি করেছেন তিনিই। একেবারে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় থমাস পার্টের শট রুখে দেন তিনি।

এরপর টাইব্রেকারেও কারিশমা দেখিয়েছেন কুর্তোইস। মজার ব্যাপার হলো টাইব্রেকারেও সেই থমাস পার্টের শট রুখে দিয়েছেন কুর্তোইস। টাইব্রেকারে একে একে রিয়ালের প্রথম ৪ জনেই গোল করেন। অন্যদিকে দিকে অ্যাতলেতিকো প্রথম দুটি শট থেকেই গোলবঞ্চিত! ফলে ৩টির বেশি শট নেওয়ার সুযোগ পায়নি তারা। চতুর্থ শটে রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস ৪-১ করে ফেলার পরই ম্যাচ শেষ। অ্যাতলেতিকোর শেষ দুটি শট নেওয়ার দরকার হয়নি। কারণ, শেষ দুটি শটে তারা গোল করতে পারলেও রিয়ালের ৪ গোল ছুঁতে পারত না।

রিয়ালকে প্রথম এগিয়ে দেন রাইটব্যাক ড্যানি কারবাহাল। অ্যাতলেতিকোর হয়ে প্রথম শট নিতে এসে পোস্টে লাগান সল। এরপর রিয়ালকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো। অ্যাতলেতিকোর হয়ে দ্বিতীয় শটটি নেন থমাস পার্টে। কিন্তু তার শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায রুখে দেন কুর্তোইস। এরপর রিয়ালের হয়ে ৩-০ করেন লুকা মড্রিচ। অ্যাতলেতিকোর হয়ে তৃতীয় শটে গোল করে ত্রিপিয়ার আশা জাগিয়েছিলেন বটে। কিন্তু রিয়ালের হয়ে রামোস চতুর্থ শটেও গোল করায় গুড়িয়ে যায় অ্যাতলেতিকোর সব আশা।

কেআর/এইচআর 
আরও পড়ুন...
জিদান, দ্য কিং অব ফাইনাল

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও