পেনাল্টি বিতর্কে ক্ষোভে ফুসছে বার্সেলোনা

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

পেনাল্টি বিতর্কে ক্ষোভে ফুসছে বার্সেলোনা

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

পেনাল্টি বিতর্কে ক্ষোভে ফুসছে বার্সেলোনা

১৮ ডিসেম্বর, বুধবার মর্যাদার এল ক্লাসিকো। তার আগে গতকাল রিয়াল সোসিয়েদাদের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র হতাশায় পুড়তে হয়েছে বার্সেলোনাকে। মহামূল্যবান দুটি পয়েন্ট হারানোয় এমনিতেই হতাশ বার্সেলোনা। বার্সার সেই হতাশাটা ক্ষোভের পরিণত হয়েছে একটা পেনাল্টি বিতর্কে।

বার্সেলোনা দাবি, ম্যাচে তাদের একটা ন্যায্য পেনাল্টি দেননি রেফারি। এ নিয়ে বার্সেলোনার খেলোয়াড়, কোচ, সমর্থক, কর্মকর্তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। ক্ষোভটা এত বেশি যে, লা লিগা সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ। জানা গেছে দু-এক দিনের মধ্যেই লিগ সভাপতি লুইস রুবিলেসের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বার্তোমেউ।

এল ক্লাসিকোর আগে জিততে না পারাটা অবশ্যই বার্সেলোনার জন্য বড় এক ধাক্কা। আত্মবিশ্বাসে টান পড়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, মূলবান দুটি পয়েন্ট খোয়া গেছে। যা বার্সাকে শীর্ষস্থান থেকেই টেনে নামাতে পারে! কারণ, আজ রাতেই ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জিতলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে যাবে রিয়াল।

এমনিতে জিততে না পারলে হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু থাকে না। কিন্তু বার্সেলোনা কালকের ড্র’টা মেনে নিতে পারছে না ওই পেনাল্টি বিতর্কের কারণে। তাদের দাবি, ওটা নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল। কিন্তু রেফারি পক্ষপাতিত্ব করে পেনাল্টি দেননি। বার্সার ক্ষোভটা আরও বেশি এ কারণে যে, এই ম্যাচেই শুরুর দিকে স্বাগতিক রিয়াল সোসিয়েদাদকে ঠিকই একটা পেনাল্টি দিয়েছেন। সেই পেনাল্টিতে গোল করেই প্রথমে এগিয়ে যায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। বার্সার খেলোয়াড়দের প্রশ্ন, তাদের বিপক্ষে সোসিয়েদাদকে পেনাল্টি দেওয়া হলো, কিন্তু তাদের পেনাল্টি দেওয়া হলো না কেন?

আড়ালে নয়, ম্যাচ চলাকালে রেফারি গিল মানজানোকে সরাসরিই এই প্রশ্নটা করেছেন বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা। ম্যাচ শেষে সেই প্রশ্নটা বার্সার খেলোয়াড়েরা ছুঁড়ে দিয়েছেন পুরো বিশ্বের কাছেই। ম্যাচ শেষে সার্জিও বুসকেটস এবং ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং স্পষ্ট কণ্ঠেই অভিযোগ করেছেন, পিকের ওটা নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল। কিন্তু রেফারি তাদের পেনাল্টি দেননি।

নিজেদের ঘরের মাঠ রিয়ালে অ্যারেনায় ম্যাচের ১০ মিনিটেই পেনাল্টি পায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। তা থেকে গোল করে এগিয়েও যায় তারা। বার্সার হয়ে সেই গোলটা শোধ দেন আতোইন গ্রিজমান, ২৭ মিনিটে। এরপর ৪৮ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের গোলে এগিয়েও যায় বার্সা।

৬১ মিনিটে সেই গোলটি শোধ করে দেয় রিয়াল সোসিয়েদাদ। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে বার্সার সামনে সুযোগ এসেছিল জয়সূচক গোলের। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের মধ্যে জেরার্ড পিকেকে ফাউল করে বসেন সোসিয়েদাদের ডিফেন্ডার দিয়েগো লরেন্তে। সঙ্গে সঙ্গেই পিকেসহ বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির আবেদন করেন। কিন্তু রেফারি গিল মানজানো পেনাল্টি দেননি। এমনকি ভিএআরের সহায়তা নেওয়ারও প্রয়ো্জন বোধ করেননি রেফারি।

ম্যাচ শেষে এ মৌসুমেই বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যদি আপনি রিয়াল সোসিয়েদাদকে প্রথম পেনাল্টিটা দেন, তাহলে পিকেরটাও পেনাল্টি। কারণ, দুটো ঘটনাই প্রায় একই রকম।

বার্সার আকের মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটসের ক্ষোভ, রেফারি কেন ভিএআরের সাহায্য নিলেন না, তা নিয়ে, ‘এটা (ভিএআর) সব সময়ই বিতর্কিত।’ রিয়াল সোসিয়েদাদ পেনাল্টি পেয়েছিল এই বুসকেটসের কারণেই। কর্নারের সময় তিনি লরেন্তোর জার্সি টেনে ধরেন।

বুসকেটসের দাবি, তিনি যে অপরাধ করেছেন তার চেয়েও বড় অপরাধ করেছেন দিয়েগো লরেন্তে, ‘পিকেরটা নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল। কারণ, আমারটার চেয়েও এটা বেশি পরিস্কার ছিল। কিন্তু রেফারি কিছু করলেন-ই না। আমি বুঝতে পারছি না, কেন রেফারি ভিএআরের সহায়তা নিলেন না।’

কেআর/জেডএস

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও