রিয়ালকে জেতালেন দুই ‘ব্রাজিলিয়ান বেবি’

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬

রিয়ালকে জেতালেন দুই ‘ব্রাজিলিয়ান বেবি’

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

রিয়ালকে জেতালেন দুই ‘ব্রাজিলিয়ান বেবি’

একজনের বয়স ১৯। অন্যজনের ১৮। বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে তারা নিতান্তই শিশু। তো কাল রাতে ব্রাজিলের সেই দুই শিশুই বিশ্বসেরা রিয়াল মাদ্রিদের মুখে ফোটাল জয় হাসি। দুই ‘ব্রাজিলিয়ান বেবি’ ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রদ্রিগো গোয়েসের জাদুতেই কাল ক্লাব ব্রুজের মাঠে গিয়ে রিয়াল পেয়েছে ৩-১ গোলের জয়।

দলকে জেতাতে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রদ্রিগো, দুজনেই একটি করে গোল করেছেন। তাদের কাঁধে চেপেই জয় পেতে যাচ্ছিল রিয়াল। ম্যাচের শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মড্রিচ রিয়ালের জয়ের ব্যবধানটা বাড়িয়েছেন শুধু।

আগের দিন বার্সেলোনা যে পথে হেঁটেছে, কাল রাতে রিয়ালও বেছে নেয় সেই নীতিই। নকআউটপর্ব আগেই নিশ্চিত হওয়ায় কাল ক্লাব ব্রুজের মাঠে অনেকটা দ্বিতীয় সারির দলই নামিয়েছিলেন রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। চোটের কারণে এডেন হ্যাজার্ড, হামেশ রদ্রিগেজ, মার্কো এসেনসিও, লুকাস ভাজকুয়েস, গ্যারেথ বেলরা মাঠের বাইরে। তাদের সঙ্গে কাল জিদান রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন আক্রমণের বড় ভরসা করিম বেনজেমাকেও।

বেনজেমাকে বিশ্রাম দিয়ে জিদান আক্রমণে আস্থা রাখেন দুই ‘ব্রাজিলিয়ান বেবি’ ভিনিসিয়াস ও রদ্রিগোর উপর। তারা কোচের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা রেখেছেন। তাদের সঙ্গে জিদান আক্রমণে জুড়ে দেন আরও একজনকে। এই মৌসুমেই ৬০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে আনা তরুণ ফরোয়ার্ড লুকা জভিচকে নামিয়ে দেন শুরুর একাদশে। কিন্তু বার্নাব্যুতে এসে খাবি খাওয়া সার্বিয়ান তরুণ এ ম্যাচেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ। তবে তার ব্যর্থতা পুষিয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়াস ও রদ্রিগো।

গত ৬ নভেম্বর তুর্কি ক্লাব গ্যালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় রদ্রিগোর। ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান তরুণ সেই অভিষেক ম্যাচেই গড়েন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ করার রেকর্ড। যে কীর্তি মেসি-রোনালদোরও নেই!

কাল তেমন কিছু করতে না পারলেও ব্রাজিলিয়ান তরুণ ঠিকই আলো ছড়িয়েছেন। এক বছরের বড় স্বদেশি ভিনিসিয়াসের সঙ্গে জুটি বেঁধে বারবার কাঁপিয়েছেন ক্লাব ব্রুজের রক্ষণ দেয়াল। তবে একের পর এক আক্রমণ গড়লেও রিয়ালকে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। রিয়ালের এই অপেক্ষাপর্বের ইতি টানেন রদ্রিগোই। ৫৩ মিনিটে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে এগিয়ে দেন দলকে।

ক্লাব ব্রুজ অবশ্য দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরে। ৫৫ মিনিটে বেলজিয়ান ক্লাবটিকে সমতায় ফেরান হানস ভানাকেন। এরপর ৬৪ মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় রিয়াল। স্বদেশি রদ্রিগোর পাশ থেকে এবারর গোলটি করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার এই গোলেই জয় দেখছিল রিয়াল। ইনজুরি সময়ে জয়ের ব্যবধানটা বাড়িয়েছেন মড্রিচ।

এই জয়ের পরও গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই নকআউটপর্বে যেতে হচ্ছে রিয়ালকে। কারণ, গ্রুপের অন্য ম্যাচটিতে কালও বড় জয় পেয়েছে পিএসজি। ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের মাঠে গ্যালাতাসারাইকে ভাসিয়েছে ৫-০ গোলে। কাল নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে ইউরোপের অন্য চার জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ, জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার সিটি, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদও। বায়ার্ন ৩-১ গোলে হারিয়েছে টটেনহামকে। জুভেন্টাস ২-০ গোলে জিতেছে লেভারকুসেনের মাঠে গিয়ে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে লোকোমোটিভ মস্কোকে। ম্যান সিটি ডায়নামো জাগরেবের মাঠ থেকে ফিরেছে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে।

এর মধ্যদিয়ে শেষ হলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বের দ্বৈরথ। এখন অপেক্ষা নকআউটপর্বের। ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলতে। তবে নকআউটপর্বে কার ভাগ্যে কি আছে, সেটা জানা যাবে ১৬ ডিসেম্বর। সেদিনই যে নকআউটপর্বের ড্র।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও