‘দুই ঘটনায়’ পিএসজির ‘এমবাপে-অস্বস্তি’ চরমে

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

‘দুই ঘটনায়’ পিএসজির ‘এমবাপে-অস্বস্তি’ চরমে

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

‘দুই ঘটনায়’ পিএসজির ‘এমবাপে-অস্বস্তি’ চরমে

নেইমারকে নিয়ে পিএসজির অস্বস্তি রয়েই গেছে। গ্রীষ্মের দলবদলের সময় বার্সেলোনার একের পর এক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ফরাসি ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ধরে রেখেছে ঠিক। তবে নেইমার এখনো পিএসজি ছেড়ে বার্সেলোনায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাতেই অনড়। এরই মধ্যে দলের আরেক তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে পিএসজিতে অস্বস্তির আগুনটা আরও বেশি দাউ দাউ করে জ্বলছে!

হ্যাঁ, ফরাসি এই বিস্ময়বালককে নিয়েও পিএসজির অস্বস্তিটা পুরোনোই। তবে সাম্প্রতিক ‘দুই ঘটনায়’ পিএসজি শিবিরের অস্বস্তির মাত্রাটা চরমে পৌঁছেছে। প্রথম কারণ, পিএসজির দেওয়া চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন এমবাপে। দ্বিতীয় কারণ, কোচ টমাস টাচেলের বদলি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ফরাসি তারকা।

পিএসজির জার্মান কোচ টমাস টাচেলের সঙ্গে এমবাপের সম্পর্কটা আগে থেকেই ভালো নয়। বরং গত মৌসুম থেকেই তাদের সম্পর্কটা তিক্ততার। গত মৌসুমে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এমবাপে। এমনকি মৌসুমের শেষ ম্যাচ পর্যন্তও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মেসির।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসিকে ধরতে বা টপকাতে পারেননি। ইউরোপের শীর্ষ ৫টি লিগের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করে মেসিই রেকর্ড ষষ্ঠ বারের মতো জিতে নেন ইউরোপিয়ান সোনার জুতো। ৩৩ গোল করে এমবাপেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় দ্বিতীয় হয়ে!

এ নিয়েই কোচ টাচেলের সঙ্গে এমবাপের সম্পর্কে ফাটল ধরে। কারণ, মৌসুমের শেষ দিকে কোনো রকম চোট না থাকা সত্ত্বেও এমবাপেকে দুই ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন কোট টাচেল। পরিসংখ্যান বলছে, ওই দুটি খেলতে পারলে মেসির পরিবর্তে গোল্ডেন বুটটা উঠতে পারত এমবাপের হাতেও।

কারণ, তিনি মাত্র ২৯ ম্যাচেই করেন ৩৩ গোল। তার চেয়েও বড় কথা, মৌসুমের শেষ দিকে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময়েই কোচ তাকে বিনা কারণে দুই ম্যাচ বিশ্রামে রাখেন। কোচের সেই বিশ্রাম নীতি পছন্দ না হওয়ায় প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেন এমবাপে। তার ভক্তরাও গোল্ডেন বুট জিততে না পারার জন্য কোচ টাচেলকেই দায়ী করেন।

শুধু গোল্ডেন বুট ছুটে যাওয়ায় নয়, কোচের ওপর এমবাপের অসন্তুষ্টির অন্য একটা কারণও আছে। এরই মধ্যে বিশ্ব তারকার খেতাব পেয়ে গেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই দলেও ‘তারকা’ মর্যাদাই দাবি তার। কিন্তু কোচ টাচেলের ওই বিশ্রাম সিদ্ধান্তই বলে দিচ্ছে, তিনি এমবাপেকে তারকা’ মর্যাদা দিতে রাজি নন!

গত মৌসুমের সেই ক্ষোভ-হতাশা মনের কোণে রয়েই গেছে। এর মধ্যে গত দুটি ম্যাচেই আবার এমবাপেকে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছেন পিএসজি কোচ! নঁতে এবং মঁপেলিয়রের বিপক্ষে পিএসজির সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই গোল করেছেন ফরাসি তারকা। তারপরও ম্যাচের শেষ দিকে তাকে তুলে নিয়েছেন কোচ। কিন্তু কোচের সেই বদলি সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি এমবাপে। আচরণ-মনোভাবে প্রকাশ্যেই ক্ষোভটা উগড়ে দিয়েছেন।

এমনকি শনিবার মঁপেলিয়রের ম্যাচে তো মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার সময় কোচ টাচেলকে এড়িয়েই যান এমবাপে। কোচ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেও এমবাপে তার দিকে তাকাননি! অবজ্ঞতার মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন মাঠ থেকে তুলে আনার।

এমবাপের এই আচরণ-মনোভাব শুধু কোচ টাচেলকেই হতাশ করেনি, পিএসজির পরিচালনা পর্যদকেও অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বোর্ড কর্তারাও শঙ্কিত। সেই শঙ্কা আরও বড় হয়েছে এমবাপে চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায়।

২০ বছর বয়সী এই তরুণের সঙ্গে পিএসজির চুক্তিটা ২০২২ সাল পর্যন্ত। ফলে পিএসজি চুক্তির মেয়াদটা ২০২৫ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে চাইছে। এ জন্য এমবাপেকে নতুন চুক্তির প্রস্তাবও দিয়েছিল। ফ্রান্সের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘লে প্যারিসিয়েনের’ দাবি, এমবাপে পিএসজির সেই চুক্তি নবায়নের প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেননি। তিান চুক্তি নবায়ন করতে রাজি নয়।

‘লে প্যারিসিয়েন’ দাবি করেছে লোভনীয় প্রস্তাবই দিয়েছে পিএসজি। নতুন প্রস্তাবে পিএসজি নাকি ২০ বছর বয়সী তারকাকে বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। কিন্তু তাতেও রাজি নয় এমবাপে। আর তার এই রাজি না হওয়ার অর্থ কি, সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে পিএসজি।

বিশ্বের সব বড় বড় ক্লাবই এমবাপেকে দলে টানতে প্রস্তুত। তবে সবার চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদই এগিয়ে। আর এমবাপেও এমন ক্লাবে যেতে চান, যেখানে গেলে আগামীতে ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাটা বাড়বে। জিততে পারবেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আর এই নিশ্চয়তা তো একমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনাতে গেলেই মিলবে!

পিএসজিও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে পাখির চোখ করেই দলে তারার মেলা বসিয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে হলে পিএসজিকে আরও অনেক জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বৃদ্ধি করতে হবে দলের শক্তিও। দলের ভেতর বুনতে হবে জয়ী মানসিকতার বীজ। এমনকি নিয়োগ দিতে হবে বিশ্বমানের কোচও। কিন্তু এত সবকিছু রাতারাতি সম্ভব নয়। সেজন্য পিএসজিকে একটু একটু করে সময় নিয়ে গড়ে উঠতে হবে। কিন্তু এমবাপের অত অপেক্ষা করার সময় কই!

২০১৭ সালে রিয়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েই তিনি যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। কিন্তু পিএসজি কর্তারা জানেন, এমবাপে এখন আর সেই ছোট্টটি নন। বয়স কম হলেও প্রতিভা-সামর্থে ফরাসি তরুণ এখন বিশ্ব তারকা। বিশ্বের সব বড় ক্লাবই তার পেছনে ওত পেতে আছে। ফলে উপযুক্ত প্রস্তাব পেলে তাকে ধরে রাখাটা সহজ হবে না।

এই অবস্থায় কোচের সঙ্গে নতুন তিক্ততা এবং চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় পিএসজি তাই চরম অস্বস্তিতেই ভুগছে। পিএসজির এই ‘এমবাপে-অস্বস্তি’ কি সহসাই কাটবে? নাকি দিনে দিনে অস্বস্তির আগুনের তেজ আরও তীব্র হবে?

কেআর

 

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও