রোনালদোর পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জয়ে কষ্ট পেয়েছিলেন মেসি

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

রোনালদোর পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জয়ে কষ্ট পেয়েছিলেন মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

রোনালদোর পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জয়ে কষ্ট পেয়েছিলেন মেসি

পুরস্কার জেতাটা সব সময়ই আনন্দের। সেই পুরস্কারটা যদি হয় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদা ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর, আনন্দের সীমা থাকে না! কিন্তু আপনাকে হতাশ করে সেই ব্যালন ডি’অরটা যদি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী জিতেন, কষ্ট লাগারই কথা। মেসি-রোনালদোও একে অন্যের ব্যালন ডি’অর জয়ে কষ্ট অনুভব করেন। তবে মেসি বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন রোনালদো পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জয়ের সময়।

মেসি নিজেই বলেছেন, ব্যালন ডি’অর জয়ে রোনালদো তাকে ধরে ফেলায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। সোমবার রোনালদো ও ভিরগিল ফন ডিককে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। পুরস্কার পাওয়ার পর ব্যালন ডি’অর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’কে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মেসি।

সেই সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা অকপটে স্বীকার করেছেন, ২০১৭ সালে রোনালদো পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জিতে তাকে ছুঁয়ে ফেলায় প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলেন। তবে সাক্ষাৎকারে মেসি এটাও স্বীকার করেছেন, ২০১৭ সালে ব্যালন ডি’অরটা রোনালদোর প্রাপ্য ছিল। সে বছর তিনি ব্যালন ডি’অরের যোগ্য ছিলেন না!

মেসির বেশি কষ্ট পাওয়ার কারণটাও স্পষ্টই। ব্যালন ডি’অর জয়ে এক সময় ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মেসি। ২০০৮ সালে রোনালদো প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পর টানা ৪ বছর (২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সাল) সবচেয়ে মর্যাদার এই পুরস্কারটা নিজের পকেটে তুলেন মেসি। অন্যরা তো বটেই, তখন মেসি নিজেও কখনো ভাবতে পারেননি, এতটা পেছন থেকে রোনালদো কখনো তাকে ধরে ফেলবে! কিন্তু বাস্তবে ঘটে তেমনটাই। মেসির একক রাজত্বে হানা দিয়ে ২০১৩ ও ২০১৪, টানা দুই বছর পুরস্কারটা জিতে ব্যবধান ৪-৩ করে ফেলেন রোনালদো। এরপর ২০১৫ সালে জিতে মেসি আবার ব্যবধান ৫-৩ বানিয়ে ফেলেন।

এরপর আবার রোনালদোর পালা। ২০১৬ ও ২০১৭, টানা দুই বছর জিতে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেন রোনালদো। প্যারিসে যেদিন রোনালদো তার সমান পঞ্চম ব্যালন ডি’অরটা উচিয়ে ধরেন, তা দেখে মেসির হৃদয় কষ্টে ছিঁড়ে যাচ্ছিল।

‘ফ্রান্স ফুটবল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কষ্টের কথা অকপটে বলেছেন ব্যালন ডি’অরের নতুন রাজা মেসি, ‘এক সময় একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৫টি ব্যালন ডি’অর জিতি আমি। বিষয়টি খুবই উপভোগ করছিলাম। কিন্তু ক্রিস্তিয়ানো যখন আমারকে ধরে ফেলল, খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমি। আসলেই আমার জন্য ব্যাপারটা কষ্টদায়ক ছিল। তবে ওই বছরটিতে ব্যালন ডি’অরটা তারই প্রাপ্য ছিল। সেবার আমি তেমন কিছুই করতে পারিনি।’

কেন ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি ব্যালন ডি’অরের যোগ্য ছিলেন না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মেসি, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম, কেন আমি ব্যালন ডি’অর জিততে পারিনি। দলীয়ভাবে আমরা আমাদের প্রধান লক্ষ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারিনি। এটা এমন একটা টুর্নামেন্ট, যে টুর্নামেন্ট আপনাকে ব্যালন ডি’অর জয়ের সেরা সুযোগ করে দেয়। দুর্দান্ত একটা মৌসুম কাটানোর পর ক্রিস্তিয়ানো যখন ৩টি ট্রফিই জিতে নেয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাও জিতে নেয়। এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ব্যালন ডি’অরের সিদ্ধান্ত হয়ে যায়!’

মেসি-রোনালদোর মধ্যে কে সেরা, দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের এক ফাঁসে মেসিকে এই প্রশ্নটাও করে বসেন সাক্ষাৎকার নেওয়া ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর সাংবাদিক। মেসি উত্তরটা দিয়েছেন চমৎকারভাবেই, ‘সত্যি বলতে, আমি জানি না ইতিহাসের সেরা ফুটবলার কে? তবে আমি মাঠে খেলাটা তৈরি করি। একজন গোল স্কোরার নই।’ এক কথায় প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর সঙ্গে নিজের পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিয়েছেন ব্যালন ডি’অরের ষষ্ঠ আকাশের একমাত্র বাসিন্দা মেসি।

রোনালদো তাকে ধরে ফেলায় মেসি কষ্ট পেয়েছিলেন। এবার মেসি আবার এগিয়ে যাওয়ায় রোনালদোও নিশ্চয় একই রকম কষ্টই পেয়েছেন!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও