ভিরগিলকে মাত্র ৭ পয়েন্টে হারিয়েছেন মেসি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

ভিরগিলকে মাত্র ৭ পয়েন্টে হারিয়েছেন মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

ভিরগিলকে মাত্র ৭ পয়েন্টে হারিয়েছেন মেসি

আগস্টে দেওয়া উয়েফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটা জিতেছেন লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভিরগিল ফন ডিক। সেপ্টেম্বরে দেওয়া ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার ‘দ্যা বেস্ট’ জিতেছেন লিওনেল মেসি। এটা তাই অনুমিতই ছিল, বছরের শেষ এবং বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মর্যাদার ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এই দুজনের লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে ধারণার চেয়েও তাদের ভোটের লড়াইটা বেশি হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। ভিরগিলকে মাত্র ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি।

সোমবার রাতে এক আলোকোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘বিশ্বসেরা’র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এই পুরস্কার। অনুষ্ঠানের পরভোটের ফলাফলও ফাঁস হয়েছে। কোন দেশের কোন সাংবাদিক কাকে কাকে ভোট দিয়েছেন, প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে কে কত পয়েন্ট অর্জন করেছেন, সব তথ্যই এখন গণমাধ্যমের পাতায় পাতায়।

তাতে দেখা যাচ্ছে, রেকর্ড ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জিততে মেসি অর্জন করেছেন মোট ৬৮৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় হওয়া ভিরগিল ফন ডিক পেয়েছেন ৬৭৯ পয়েন্ট। ফাঁস হওয়া ভোটের তালিকা এটাও বলে দিচ্ছে, এবারের ব্যালন ডি’অরের মূল লড়াইটা মূলত এই দুজনের মধ্যেই হয়েছে। বাকিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি! তৃতীয় হওয়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অর্জন যেমন মাত্র ৪৭৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় হওয়া ভিরগিলের চেয়েও ২০৩ পয়েন্ট কম!

বিশ্বের প্রতিটি দেশের একজন করে সাংবাদিক ব্যালনের ভোট দিয়েছেন। তবে এবার প্রত্যেক সাংবাদিক পছন্দের ভিত্তিতে পেরেছেন মোট ৫ জনকে ভোট দিতে পেরেছেন। পছন্দ অনুযায়ী বরাদ্দ ছিল পয়েন্ট। প্রথম পছন্দের ভোটের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ পয়েন্টে, দ্বিতীয় পছন্দের ভোটের জন্য ৪, তৃতীয় পছন্দের ভোটের জন্য ৩, দ্বিতীয় পছন্দের ভোটের জন্য ২ এবং পঞ্চম পছন্দের ভোটের জন্য ১ পয়েন্ট।

এভাবে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী মেসির হাতেই উঠেছে ব্যালন ডি’অর। এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন ৩০ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন এতটাই কপাল পোড়া যে, তারা কোনো ভোটই পাননি! দৌড়ে থেকেও কোনো ভোট না পাওয়া সেই ৩ হতভাগা হলেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের তরুণ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড হওয়াও ফেলিক্স, পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকুইনহোস ও ডাচ ক্লাব আয়াক্সের ডাচ মিডফিল্ডার ডনি ফন ডি বীক।

এছাড়া দুজন পেয়েছেন মাত্র ১ পয়েন্ট করে। দুজনের অর্জন ২ পয়েন্ট করে। শীর্ষ ১০-এ জায়গা পাওয়ার মধ্যে চতুর্থ হওয়া লিবারপুলের সেনেগালিজ উইঙ্গার সাদিও মানে পেয়েছেন ৩৪৭ পয়েন্ট। লিভারপুলেরই মিশরীয় ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ হয়েছেন পঞ্চম। তার অর্জন ১৭৮ পয়েন্ট। ৮৯ পয়েন্ট পেয়েছে ষষ্ঠ পিএসজির ফরাসি বিস্ময়বালক কিলিয়ান এমবাপে।

লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার ৬৭ পয়েন্ট পেয়ে সপ্তম। বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভান্ডভস্কি অষ্টম হয়েছেন ৪৪ পয়েন্ট পেয়ে। শীর্ষ ১০-এর শেষ দুটি জায়গা নিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির দুই তারকা, পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্ড সিলভা ও আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ। তাদের অর্জন যথাক্রমে ৪১ ও ৩৩ পয়েন্ট।

এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, শীর্ষ ১০-এর ৪ জনই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী লিভারপুলের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পারফরম্যান্সই যে ব্যালন ডি’অর জয়ে বড় ভূমিকা রাখে, এই তথ্যে সেটাই প্রমাণিত।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও