জুভেন্টাস নয়, রোনালদোই প্রথম আগ্রহ দেখান!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

জুভেন্টাস নয়, রোনালদোই প্রথম আগ্রহ দেখান!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮

print
জুভেন্টাস নয়, রোনালদোই প্রথম আগ্রহ দেখান!

তার বয়স যখন ১৮, তখনই তাকে কিনতে চেয়েছিল জুভেন্টাস। তরুণ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে কেনার জন্য পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের সঙ্গে দেন-দরবারও করে জুভেন্টাস। কিন্তু জুভদের সেই আশা তখন পূরণ হয়নি। জুভেন্টাসকে হতাশ করে তরুণ রোনালদো নাম লেখান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এরপর থেকে মাঠে ফুটবল প্রতিভার ফুল ফুটিয়ে এতো উচ্চতায় পৌঁছে যান যে, মহাতারকা রোনালদোকে কেনার স্বপ্ন দেখার সাহসও দেখায়নি জুভেন্টাস। কিন্তু তারা স্বপ্ন না দেখলেও সেটাই এখন বাস্তবতা। ১৫ বছর আগে যাকে কিনতে চেয়ে হোচট খেতে হয়েছিল, সেই রোনালদো এখন জুভেন্টাসের ঘরে।

তুরিনের ক্লাবটির সঙ্গে এখনো অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্রে সই করেননি। তবে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত। ৩৩ বছর বয়সী রোনালদো জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বিদায় নিয়েছেন। শিগগিরই হয়তো হয়ে যাবে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও। স্বাভাবিকভাবেই রোনালদোর মতো একজন সুপারস্টারকে কিনতে পেরে উচ্ছ্বসিত জুভেন্টাস।

মজার বিষয় হলো স্বপ্নময় এই সওদা কেনার জন্য কিন্তু জুভেন্টাস আগে প্রস্তাব করেনি। রোনালদোই প্রথমে জুভেন্টাসের কাছে গিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানান। জুভেন্টাসের প্রধান নির্বাহী গুইসেপে মারোত্তা নিজেই বলেছেন, রোনালদোই প্রথমে তার ইচ্ছার কথা জানান। পর্তুগিজ সুপারস্টারের সেই আগ্রহ দেখেই পথে নামে জুভেন্টাস। শুরু করে চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা, দেন-দরবার।

বোঝাই যাচ্ছে, বড় এই সওদা করতে জুভদের খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। শিকার নিজে এসে ধরা দেওয়ায় পানির মতো সহজ হয়ে যায় সবকিছু।

রোনালদোকে দলে ভেড়ানোর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইতালিয়ান ক্রীড়া দৈনিক কোরিয়ারে দেল্লা সেরা’কে মারোত্তা বলেছেন, ‘আমি খুব, খুব খুশি। চুক্তিটা অসাধারণ একটা দলীয় প্রচেষ্টার ফসল। তবে অসাধারণ এই চুক্তির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা খেলোয়াড়টি নিজে (রোনালদো) এবং জুভেন্টাসের শেয়ারহোল্ডাররা। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোই প্রথমে এই চুক্তির বিষয়ে আমাদের বিশ্বাস করান। সেই প্রথম চুক্তির বিষয়ে কথা বলে এবং নিজের পছন্দ হিসেবে জুভেন্টাসকে বেছে নেন। এর আমরা বুঝতে পারি, আমাদের সামনে দারুণ এক সুযোগ এসেছে। এবং সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।’

একটু থেমে মারোত্তা যোগ করেন, ‘তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী হই। আর এ বিষয়ে আমাদের শেয়ারহোল্ডাররা পূর্ণ সমর্থন জানায়। আমি তাই বলতে চাই, এই চুক্তিটা অসাধারণ দলীয় প্রচেষ্টার ফসল।’

গত ২৫ মে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পরপরই রিয়াল ছাড়ার ইঙ্গিত দেন রোনালদো। আর তার পরই শুরু হয়ে যায় বিশ্বকাপ উন্মাদনা। ক্লাব রিয়াল ছেড়ে রোনালদোও যোগ দেন পর্তুগাল জাতীয় দলের সঙ্গে। একদিকে রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে ঘাম ঝরান রাশিয়ায় বিশ্বকাপ মঞ্চে। অন্যদিকে তার এজেন্টরা গোপনে গোপনে চালিয়ে যান ভবিষ্যতের ঠিকানা নিশ্চিত করার কাজ। বৈঠকের পর বৈঠক করে নিশ্চিত করেন চুক্তির বিষয়টি। গণমাধ্যম বিষয়টি জানতে পারে তখনই, যখন রোনালদো ও জুভেন্টাস দুই পক্ষই চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন!

কেআর

 
.



আলোচিত সংবাদ