পজিশন ভিত্তিক সেরা যারা

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

পজিশন ভিত্তিক সেরা যারা

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৮

print
পজিশন ভিত্তিক সেরা যারা

আগামী এক বছর ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট থাকবে কার মাথায়? উত্তরটা মিলবে আজ শনিবার রাতেই। আজ রাতেই যে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল। কিয়েভের ফাইনালের জন্য দুই দলই সামর্থের সর্বোচ্চ অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মাঠে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত। বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিয়েভের ফাইনাল রিয়াল-লিভারপুলেরই লড়াই। তবে দলীয় সেই লড়াইয়ের ভেতরেও থাকবে অনেক অনেক খন্ড যুদ্ধ।

আর নিশ্চিতভাবেই সেই খণ্ড লড়াইয়ের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইটা বুঝি হবে পজিশন ভিত্তিক! আসুন দেখে নেওয়া যাক, পজিশন ভিত্তিতে দুই দলের সেরাদের সেই লড়াইটা কেমন এবং কাদের মধ্যে হবে।

১. গোলরক্ষক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল শুধু দলীয় শ্রেষ্ঠত্বের মহড়া নয়, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চও। সেই মঞ্চে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে দুই দলের গোলরক্ষকের উপর। আর ফাইনালের আগ পর্যন্ত গোলপোস্ট আগলে রাখার লড়াইয়ে রিয়ালের এক নম্বর গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে লিভারপুলের গোলরক্ষক লরিস কারিয়াস।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের ১২টি ম্যাচেই খেলেছেন লরিস কারিয়াস। শুধু ১২ ম্যাচেই মাঠে নামা নয়, লিভারপুলের জার্মান গোলরক্ষক প্রতিটা ম্যাচেই পুরো সময় খেলেছেন। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত যে দুজন ১২ ম্যাচের পুরো ১০৮০ মিনিট খেলেছেন, তার একজন এই কারিয়াস। অন্যজন রিয়ালের পর্তুগিজ সুপার স্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

অন্যদিকে কেইলর নাভাস রিয়ালের হয়ে খেলেছেন ১০টি ম্যাচে। এই কোস্টারিকান বাকি দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি চোটের কারণে। সেই দুটি ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছেন কিকো ক্যাসিয়া। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ ফাইনালে কেইলর নাভাসই সামলাবেন রিয়ালের গোলপোস্ট। অবশ্য কম ম্যাচ খেলেও একটা দিক থেকে লরিস কারিয়াসের চেয়ে এগিয়ে নাভাস।

তিনি যে ১০ ম্যাচ খেলেছেন, সেই ১০ ম্যাচে রিয়ালের গোলমুখে মোট ৪৩টি শট নিয়েছে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা। বিশ্বস্ততার সঙ্গে নাভাস তার ৩২টি শটই ঠেকিয়ে দিয়েছেন। তাকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়েছে ১১ বার। মানে তার সেভের হার শতকরা ৭২.০৯ শতাংশ।

অন্যদিকে লরিস কারিয়াস ১২ ম্যাচে ৩৫ শটের ২৫টি ঠেকিয়েছেন। তার সেভের হার শতকরা ৬৫.৭৯ শতাংশ। তবে কারিয়াস ১২ ম্যাচের ৬টিতেই ক্লিন শিট রেখেছেন। মানে ৬ ম্যাচে লিভারপুলের জালে বল জড়াতে দেননি। এখানে নাভাস অনেকটাই পেছনে। তিনি এবং কিকো মিলেই রিয়ালকে মাত্র ৩ ম্যাচে গোল হজম করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

২. রক্ষণ

নিশ্চিতভাবেই রিয়ালের রক্ষণভাগের নেতা সার্জিও রামোস। দলকে ফাইনালে তুলতে তাকে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন মার্সেলো, রাফায়েল ভারানে ও ড্যানি কারবাহালরা। আজও এরাই লিভারপুলের আক্রমণের ঢেউ সামলানোর দায়িত্ব নিয়োজিত থাকবেন। আজও গুরু দায়িত্বটা পালন করতে হবে অধিনায়ক রামোসকেই। অন্যদিকে লিভারপুলের রক্ষণভাগও এবার দারুণ শক্তিশালী। তরুণ ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আরনল্ড অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন।

নিজের কারিশমা দিয়ে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন দেজান লভরেনও। তিনি অনেকবারই অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়েছেন। বিশেষ দক্ষতায় দলকে বাঁচিয়েছেন গোল হজম করা থেকে। এই দুজনের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডার ভিরগিল ফান ডিক তো আছেনই। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিতে গিয়ে লিভারপুলের ডিফেন্ডাররা কার্ডও দেখেছেন উল্লেখ্যযোগ্যভাবে। ৮টি হলুদকার্ডের পাশাপাশি একটি লালকার্ডও পেয়েছেন তারা। অন্যদিকে রিয়ালের ডিফেন্ডারদের কেউই লালকার্ড দেখেননি। তবে কারবাহাল একাই হলুদকার্ডপ পেয়েছেন ৪ বার।

৩. মিডফিল্ড

টনি ক্রুস, লুকা মড্রিচ ও কাসেমিরো। অনেকের মতেই রিয়ালের মাঝমাঠে বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদই সেরা। গত ৪ মৌসুমের মধ্যে ৩ বারই রিয়ালের শিরোপা জয়ের পেছনে সত্যিকার অর্থেই টনি ক্রুস, মড্রিচ, কাসেমিরোরা রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মাঝমাঠের এই তিন সেনানির মধ্যে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টনি ক্রুসই এগিয়ে। রিয়ালের জার্মান মিডফিল্ডার এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৯৩.৭২ শতাংশ সঠিক পাস দিয়েছেন!

কাকতালীয়ভাবে লিভারপুলের মাঝমাঠের নেতাও একজন জার্মান। আমরি ক্যান ৮৫.৬৪ শতাংশ পাসই দিয়েছেন সঠিক। জর্ডান হেন্ডারসনও মাঠে যোগ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন আমরি ক্যানকে। তবে মাঝমাঠে রিয়ালকেই এগিয়ে রাখছেন ক্রুস, মড্রিচ, কাসেমিরোরা।

৪. ফরোয়ার্ড

ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইটা হবে আক্রমণেই। আরও একটু স্পষ্ট করে বললে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও মোহাম্মেদ সালাহ’র মধ্যে। অনেকেই এবারের ফাইনালকে ‘রোনালদো-সালাহ’ দ্বৈরথ নামও দিয়ে ফেলেছে। দুজনোই নিজ নিজ দলের প্রধান ভরসা। তাদের সাফল্যের উপরই আসলে নির্ভর করবে কে জিতবে শিরোপা!

এমনিতে রোনালদোর সঙ্গে সালাহর কোনো তুলনাই চলে না। ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো ৪ বার জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেখানে সালাহ এখনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেই খেলেননি। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ঠিকই রোনালদোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছেন সালাহ। নিজের ফর্ম তো আছেই, সালাহ বিশেষ সুবিধা পাবেন সতীর্থদের কারণেও।

আক্রমণভাগের লিভারপুলের অন্য দুই সদস্যও এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুর্দমনীয়। ব্রাজিলিয়ান রবার্তো ফিরমিনো ও সেনেগালিজ সাদিও মানে মিলে পাল্লা দিয়ে গোল করছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সালাহর সমান ১০ গোল করেছেন ফিরমিনোও। সাদিও মানে করেছেন ৯ গোল। আর শুধু গোল করাই নয়, ফিরমিনো গোল বানিয়ে দিতেও সিদ্ধহস্ত। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এই তথ্য-উপাত্ত এবং পারফরম্যান্স বিবেচনায় আক্রমণভাগে লিভারপুলই কিছুটা এগিয়ে। তবে রিয়ালের জন্য স্বস্তির খবর, উড়তে থাকা রোনালদোর পাশাপাশি মার্কো এসেনসিও, গ্যারেথ বেলরাও ফর্মে ফিরেছেন। আর বিশেষ কারিশমা দেখাতে অধিনায়ক সার্জিও রামোস তো আছেনই।

ইতিহাসের একমাত্র ডিফেন্ডার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে দুটি গোল করেছেন ‍তিনি। ফাইনাল মঞ্চ হলেই যেন হঠাৎ স্ট্রাইকার বনে যান রিয়াল অধিনায়ক। তার চেয়েও বড় কথা, আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বড় ম্যাচ হলেই জ্বলে উঠেন। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করেছেন। পর্তুগিজ মহাতারকা এক রকম ঘোষণার সুরেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, ‘কিয়েভেও আমি জার্সি খুলে উদযাপন করতে চাই আমি।’

উল্লেখ্য, ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২.৪৫ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি টেন ১, ২ ও ৩।

কেআর

 
.




আলোচিত সংবাদ