নেইমাররা যেখানে থাকবেন সেখানে ঢুকবেন কিভাবে?

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

নেইমাররা যেখানে থাকবেন সেখানে ঢুকবেন কিভাবে?

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৫, ২০১৮

print
নেইমাররা যেখানে থাকবেন সেখানে ঢুকবেন কিভাবে?

ব্রাজিলের সুপারস্টার ফুটবলাররা ২০১৮ সালের রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপ কাটাবেন সোচিতে, সমুদ্র সৈকত লাগোয়া বিলাসবহুল হোটেল 'সোভিয়েত রিভিয়েরা' তে। কমিউনিস্ট পার্টির অভিজাতদের জন্য হোটেলটি বানিয়েছিলেন স্বয়ং জোসেফ স্ট্যালিন। সোচি ক্যামেলিয়া নামের এই পাঁচ তারকা আবাসিক হোটেলের প্রবেশ করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। একপাশে কৃষ্ণসাগর, অন্যপাশে রয়েছে দেবদারূ ও পাম গাছে সাজানো সতেজ একটি ব্যক্তিগত বাগান। তাতে ভক্ত ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রায় লুকোনোই থাকবে এই হোটেলটি।

সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীরা সোচি ক্যামেলিয়ার প্রবেশপথ পাহারা দেন। সন্ধ্যায় অতিথিরা মার্বেল পাথরের তৈরি চত্বরে উপভোগ করেন ক্যাসকেডিং জলধারার সৌন্দর্য। লবির কাছেই রয়েছে একটি জলপ্রপাত। যেখানে কিনতে পাওয়া যায় ছোট পাথরের আকারের মুক্তা। সন্ধ্যায় হোটেলের ক্রিস্টাল ঝাড়বাতিগুলো জ্বলে ওঠার আগে সূর্যাস্তের রক্তিম কমলা আভা বিশাল বিশাল রুমগুলোকে রাঙিয়ে দিয়ে যায়।

হোটেলের ব্যবস্থাপক গ্রেগরি গ্রেগরিয়েভ নিশ্চিত, এই মনোরম পরিবেশ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কিছু দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে সাহায্য করবে। অতিথিদের বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য সব করতে রাজি বলে জানান গ্রেগরিয়েভ, 'তারা যাতে খুশি মনে কোন চিন্তা ছাড়া যেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সব করব। আমরা তাদের বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করব।'

রাশিয়ার উষ্ণতম এই বিলাসবহুল হোটেলটি চারপাশে বরফাবৃত পর্বত দিয়ে ঘেরা। এ কারণেই সোচি ২০১৪ সালে শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এই টুর্নামেন্টটিই ৩ লাখ ৫০ হাজার অধিবাসীর শহরটিতে ফিরিয়ে এনেছিল সোভিয়েত আমলের সেই জৌলুস।

এটা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাজ করার জন্য পছন্দের জায়গা। সফরকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরোহনস্থল।

এর অর্থ দাঁড়ায়, সোচির জানা আছে কিভাবে নিরাপত্তা দিতে হয় এবং সুইস এই চেইন হোটেল নিশ্চিত করবে অতি আবেগাক্রান্ত ভক্তরা যাতে মার্সেলো, ফিলিপে কুতিনহো ও সময়মত ইনজুরি থেকে দলে ফিরলে নেইমারের ধারেকাছেও আসতে না পারেন।

নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গ্রেগরিয়েভ আরো জানিয়েছেন, 'আমাদের হোটেলে সরাসরি কোন রাস্তা দিয়ে ঢোকা সম্ভব নয়। এটা ভালভাবে পাহারা দেয়া হয় এবং বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হবে। আমার মনে হয় সরকারি পর্যায়ের নিরাপত্তাও পাবে হোটেলটি।'

কিন্তু যেসব বিরক্তিকর সাংবাদিকরা ড্রোন ব্যবহার করে লুকিয়ে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের ছবি তোলেন তাদের কি হবে? গ্রেগরিয়েভ জানিয়েছেন, 'আমরা কোনকিছুই গুলি করে ভূপাতিত করব না। কিন্তু অবশ্যই সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানাব। তারা ভাল জানে কিভাবে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়।'

জুনের ১৬ তারিখে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোস্তভ-অন-ডনে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সেজন্য প্লেনে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে দলটিকে।

গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচটি কোস্টারিকার বিপক্ষে সেইন্ট পিটার্সবার্গে, যা ২ হাজার কিলোমিটার দূরে। এবং পাঁচদিন পর তারা মুখোমুখি হবে সার্বিয়ার বিপক্ষে, ১৩০০ কিলোমিটার দূরবর্তী মস্কোতে।

বিশ্বকাপ মূলপর্বের ৩২ দলের জন্যই ভ্রমণ যেন রাশিয়ান অ্যাডভেঞ্চারের অংশ। তাই খেলার বাইরে ব্রাজিল কোচ তিতে দলের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে ভালটা দেয়ার প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন। হোটেল থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথের দুরত্বে ব্রাজিল দলের অনুশীলনের মাঠ। আর সোচির উন্নত রাস্তা ধরে এয়ারপোর্টে যেতে দলটির সময় লাগবে ৩০ মিনিট।

এছাড়া রয়েছে সোচির সমুদ্রসৈকত- যার জন্য রাশিয়া আলাদাভাবে বিখ্যাত নয়। তবে গ্রেগরিয়েভের মতে, 'সোচির আবহাওয়া ব্রাজিলের জন্য খুবই আরামদায়ক।'

প্রধান ভবনের কাঠামো ছাড়া অন্য কোন কিছুই স্ট্যালিনের ১৯৩৬-৩৮ সালের কৃতকর্মে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণের কথা মনে করিয়ে দেয় না।

সাধারণ রুমগুলোর দেয়ালের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে টিভি। আর সুইটগুলো সাজানো হয়েছে আলোকিত চিত্রকর্ম দিয়ে। যা ভবিষ্যতের মহাকাশযানের একটা অনুভূতি দেয়। এখানকার রেস্টুরেন্টে সুইস থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া ইউরোপিয়ান কৌশলে খাবার রান্না করা হয়। এবং ৬৫০ ডলারে পাওয়া যায় 'মোট অ্যান্ড চ্যান্ডন' শ্যাম্পেন।

বিশ্বকাপের সময়ে রান্নাঘরে থাকবে ব্রাজিলিয় খাবারের স্বাদ। আর তা তদারক করবেন দলটির অফিসিয়াল শেফ। গ্রেগরিয়েভের কর্মীরাও খেলোয়াড়দের এবং কোচিং স্টাফদের ফলমূল ও অন্যান্য বিশেষ অনুরোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, 'তাদের অবশ্যই পেঁপে ও প্যাশনের মত ভিনদেশি ফল লাগবে। কিন্তু এমন কিছুই নেই যা আমরা আগে দেখিনি।'

সূত্র : এএফপি।

এসএম/ক্যাট

 
.




আলোচিত সংবাদ