অভিষেকেই ‘সাম্বা’ উপহার কুতিনহোর

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ বৈশাখ ১৪২৫

অভিষেকেই ‘সাম্বা’ উপহার কুতিনহোর

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮

print
অভিষেকেই ‘সাম্বা’ উপহার কুতিনহোর

বার্সেলোনার ১৮ সদস্যের স্কোয়াডে তার সঙ্গে ইয়ারি মিনার নামটিও ছিল। কিন্তু কলম্বিয়ান এই ডিফেন্ডারের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত খুলেনি। তালিকায় নাম উঠার প্রথম ম্যাচটা ২৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে বেঞ্চ গরম করেই কাটিয়ে দিতে হলো। তবে ফিলিপে কুতিনহোকে সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি। বৃহস্পতিবার এসপানিওলের বিপক্ষে কোপা ডেল রের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ঠিকই ৩০তম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে স্বপ্নের বার্সেলোনায় স্বপ্নের অভিষেক হয়েছে তার। আর স্বপ্নের বার্সেলোনায় স্বপ্নের অভিষেকেই ব্রাজিলিয়ান তারকা ন্যু-ক্যাম্পের দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘সাম্বা-নৃত্য’।

স্বপ্নের অভিষেক বলতে যা বোঝায়, সেটা হতে একটা গোলই শুধু বাকি। সমর্থকদের মন জয় করতে বাকি সবকিছুই করেছেন ঠিকঠাক। ঠিক ১৬০ মিলিয়ন ইউরোম্যানের মতোই। বল দারুণ মুভমেন্ট, অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসের মাধ্যমে অভিষেকেই ২৫ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাসের দ্বিতীয় দামী খেলোয়াড় হিসেবে তাকে কিনে এনে ভুল করেনি বার্সেলোনা। বিশ্বসেরা বার্সার খেলার ধরণ-কৌশলের সঙ্গে দ্রুতই মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ তার আছে। বার্সাকে সেরাটা দিতে তিনি প্রস্তুত।

ম্যাচের বয়স ৬৮ মিনিট। বর্ষিয়ান মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে তুলে নিয়ে কুতিনহোকে মাঠে নামান কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। ইনিয়েস্তার সঙ্গে হাই-ফাইভ করে যখন মাঠে ঢুকেন, ন্যু-ক্যাম্পের দর্শকরা মুহূর্মুহু করতালি মাধ্যমে অভিনন্দন জানায় তাকে। কুনিতহো সেই অভিননন্দের জবাব দিয়েছেন দুই হাত মাথার উপর তুলে মৃদু দৌড়ের তালেতালে মৃদু করতালি দিয়ে।

মাঠে ঢুকে প্রথম বল ধরেই ব্রাজিলিয়ান তারকা ন্যু-ক্যাম্পের দর্শকদের উপহার দেন ‘সাম্বার নৃত্য।’ বল ‘নাটমেগ’ করে (প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দুপায়ের মাঝদিয়ে বল নেওয়া) এগিয়ে যান সামনের দিকে। প্রথম টাচেই বুঝিয়ে দেন, বার্সেলোনার খেলায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘সাম্বার ছন্দ’ গেথে দিতে প্রস্তুত তিনি।

অভিষেক দিনটিতে মাত্র ২২ মিনিট খেলেছেন। এই সময়েই প্রমাণ করেছেন বার্সেলোনায় অনেক দিন থাকতেই এসেছেন তিনি। সাম্বা-ছন্দে ‘নাটমেট’, ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, মুভমেন্ট, সবকিছুতেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছোয়া। মেসি-সুয়ারেজদের দিয়েছেণ দারুণ কিছু পাস। দুর্ভাগ্য, তার সেই পাসগুলোর একটিকেও গোলে পরিণত করতে পারেননি মেসি-সুয়ারেজ।

তবে ম্যাচ শেষে টুইটার সুয়ারেজ অভিনন্দন জানিয়েছেন নতুন সতীর্থকে, ‘অভিষেকের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি পরের বার গোল করতে পারব।’ না, এমন নয় যে ম্যাচে সুয়ারেজ গোল পাননি। ম্যাচে বার্সার ২-০ গোলের জয়ে প্রথম গোলটাই করেছেন সুয়ারেজ।

৯ মিনিটে তার সেই গোলেই প্রথম লেগের ১-০তে পিছিয়ে থাকার ঘাটতি পূরণ করে ফেলে বার্সা। ২৫ মিনিটে মেসির গোলে কোপা ডেল রের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বার্সা। মেসির যে গোলটা আবার ছুঁয়ে ফেলেছে অন্য রকম এক মাইলফলকও। মেসির এই গোলটা ছিল ন্যু-ক্যাম্পে সব মিলে ৪০০০তম গোল!

সমর্থকরাই শুধু নয়, বার্সার কোচ ভালভার্দেও ডেব্যুট্যান্ট কুতিনহোয় মুগ্ধ, ‘তাকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা। প্রথম ম্যাচেই যা দেখিয়েছে, তাতে সে আমাদের স্টাইলের সঙ্ড়ে দারুণভাবে মানিয়ে নিতে পারবে। তার আত্মবিশ্বাস, ওয়ান-টু-ওয়ান ড্রিবলিং, ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর সামর্থ, প্রতিপক্ষের বক্স লক্ষ্য করে তার পাস এবং সর্বোপুরি তার বিপদজনক শারীরিক ভঙ্গি-সবকিছুই আমাদেরকে জন্য সহায়ক হবে।’

স্বপ্নের ক্লাবে অভিষেক হওয়ায় কুতিনহো রীতিমতো অভিভূত, রোমাঞ্চিত, ‘এটা ছিল আমার জন্য স্পেশাল একটা দিন। কারণ, এই ক্লাবটির হয়ে এটাই ছিল আমার প্রথম মাঠে নামা। সমর্থক ও সতীর্থরা যেভাবে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে, সত্যিই আমি খুব খুশি এবং রোমাঞ্চিত।’

কেআর

 

 

 

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad