আমের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫

আমের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

print
আমের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমকে বলা হয় ফলের রাজা। এই ফল আমাদের দেহে রাজার মতোই কিছু কিছু কাজ করে থাকে। আম খাওয়ার ফলে আমাদের জীবনযাপনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, আম খাওয়ার ফলে স্থুলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়া ত্বক ও চুলের রঙের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, দেহের শক্তি বৃদ্ধির জন্য, কোলন ক্যান্সার রোধে, হাড় ও হজম শক্তির উন্নত করার ক্ষেত্রে এই ফলের ভূমিকা রয়েছে। তাই আজ জেনে নিন আমের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা;

ক্যান্সার প্রতিরোধে: গবেষকরা বলেছেন, আমে এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকার ফলে এটা কোলন, স্তন, লিউকেমিয়া এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। আমে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি, পেকটিন ও আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। দেহ তরল এবং কোষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যৌগ পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস হচ্ছে তাজা আম, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে: ত্বক পরিষ্কারে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে আমে থাকা ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেনের উৎপাদনে সাহায্য করে। যার ফলে ত্বক সতেজ ও টানটান হয়। আম খেলে সূর্যের আলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের ক্ষতির পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া পাকা আম ত্বকে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করলে লোমকূপে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়।

ওজন কমাতে: আমে অনেক ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আঁশ জাতীয় খাবার হজমক্রিয়াতে সাহায্য করার ফলে তা দেহের বাড়তি ক্যালরি ক্ষয় করতে সাহায্য করে। এছাড়া আম খেলে ক্ষুধা কমে এবং কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায়: আমে উচ্চ আঁশ ও এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় তা হৃদরোগের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্য হারে কমায়। এক কাপ আমে ৩ গ্রাম আঁশ রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি ৭ গ্রাম আঁশ গ্রহণের ফলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায় ৯ শতাংশ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: শুধু আম নয়, আমের পাতাও বেশ উপকারী। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি ৫-৬টি আম পাতা ধুয়ে একটি পাত্রে সেদ্ধ করে নিয়ে সারারাত রেখে সকালে এর ক্বাথ ছেকে নিয়ে পান করে করেন তাহলে এটা ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (৪১-৬০) কম বলে এটা যদি মাঝে মাঝে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তবে সুগারের মাত্রা খুব বেশি বাড়বে না।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে: উচ্চ আঁশযুক্ত আম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটা ভালো হজমের জন্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য খুবই কার্যকরি।

অ্যাজমা প্রতিরোধে: যারা আম খেয়ে থাকেন তাদের মাঝে অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি আমের একটি চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা। এতে থাকা উচ্চ বিটা ক্যারোটিন অ্যাজমা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চোখের যত্নে: আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’। শুধুমাত্র এক কাপ পাকা আম খেয়ে সারাদিনের ভিটামিন ‘এ’র চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া এটা দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে, চোখের শুষ্কতা ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে: গর্ভাবস্থায় আম খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। আম ‘বি’ ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন বি১, বি২, বি৫, বি৬, নায়াসিন এবং ফলিক এসিড রয়েছে। ফলিক এসিড গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনা কমায়। দৈনিক ফলিক এসিডের চাহিদা হচ্ছে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম আর এক কাপ তাজা আম থেকেই পাওয়া যায় ৭১ মাইক্রোগ্রাম। পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কালসিয়ামসহ খনিজ পদার্থের বেশ ভালো উৎস হচ্ছে আম।

এছাড়াও

. কাঁচা আম স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

. আম প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় কোষ্টকাঠিন্য দূর করে।

. পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে।

. কিডনির সমস্যা প্রতিরোধ সাহায্য করে।

. লিভার ভালো রাখে।

ইসি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad