গোপালগঞ্জে অবাধে নিধন হচ্ছে অতিথি পাখি

ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

গোপালগঞ্জে অবাধে নিধন হচ্ছে অতিথি পাখি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ০৮, ২০১৮

print
গোপালগঞ্জে অবাধে নিধন হচ্ছে অতিথি পাখি

 

গোপালগঞ্জে ব্যাপক হারে অতিথি পাখি শিকার হচ্ছে। এসব পাখি জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে । শীত কালীন পাখি শিকারের সঙ্গে ধরা পড়ছে দেশী প্রজাতির পাখিও। শিকারীরা জেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে ফাঁদ পেতে প্রতি রাতে ধরে নিচ্ছে শত শত পাখি। এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকারের ফলে বিল বাওড় বেষ্টিত গোপালগঞ্জে অতিথি পাখির পাশাপাশি দেশীয় পাখির সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় শতাধিক বিল, বাওড় ও অসংখ্য জলাশয়। এর মধ্যে দুইটি বড় বিল হচ্ছে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল ও কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিল। বিল ও বাওড় এলাকায় রয়েছে শত শত পাখি শিকারী।

এলাকাবাসী ও পাখি শিকারীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এক একটি ফাঁদে দুই তিন জন মানুষ থাকে। তারা পাখির ডাক অনুযায়ী সুর মিলিয়ে বাঁশি বাজিয়ে বিলে জাল দিয়ে ফাঁদ পাতে। পাখি এসে ফাঁদের স্থানে পড়লেই আটকে যায়। এর মধ্যে হাঁস পাখি, কালকুচ, চেগা, ভিলভিলি, ঢুংখোর, বক, শামুক খোলাসহ বিভিন্ন জাতের পাখি শিকার হয়ে থাকে। এসব পাখি জেলার সদর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার সাতপাড় বাজার, বৌলতলী বাজার, বলাকইড় বাজার, সিংগা বাজার, হাতিয়াড়া বাজার, রাহুথর বাজার, উজানী বাজারসহ অন্তত ১৫টি স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।

কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নিতাই বাজার, কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের তারাইল বাজার, বরইভিটা বাজার, কলাবাড়ি ইউনিয়নের রামনগর বাজারসহ অন্তত ১২টি স্থানে এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল বাজার, জামাই বাজার, বাঁশ বাড়িয়া বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে পাখি বিক্রি হয়ে থাকে ।

পাখি কিনতে আসা বৌলতলী গ্রামের এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাড়িতে মেহমান এসেছে। তাদের জন্য সাতপাড় বাজার থেকে প্রতিটি ৬শ’ টাকা করে চারটি হাঁস পাখি কিনেছে সে। সে জানায়, এখানে শুধু হাঁস পাখি না, চেগা, কালকুচ, ঢুংখোরসহ মেলা (অনেক) ধরনের পাখি পাওয়া যায়। শুধু সে নয়, আশপাশ গ্রামের মানুষ খুব ভোরে পাখি কিনতে আসে এ বাজারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতপাড় বাজারের এক পাখি শিকারী বলেন, পেটের দায়ে আমরা ঠান্ডা উপেক্ষা করে রাত জেগে বিল পাথারে পাখি ধরি। সে পাখি আবার মানুষের কাছে বেচা বিক্রি করে সংসার চালাই।

গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান সাংবাদিকদেরকে বলেন, পশু পাখি সংরক্ষণ আমাদের কাজ। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে পাখি বিক্রি হয় শুনেছি। কিন্তু, লোকবল সংকটের কারণে বের হতে পারিনি। তারপরও ভেবেছি পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গোপালগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, অতিথি পাখি শিকার ও হত্যা একটি জঘন্যতম অপরাধ। দেশে আইন রয়েছে। তারপরও এসব ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন একটু সজাগ দৃষ্টি দিলে এই অবৈধ কাজ বন্ধ করা সম্ভব। তাই পাখি শিকার বা নিধন বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুর রহমান খান বলেছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন।ইতোমধ্যে জেলার পাঁচ থানার ওসিদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত পাখি ধরা ও বিক্রি কমে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, জেলার বিভিন্ন বিলে পাখি শিকার এবং সেগুলো হাট-বাজারে গোপনে বিক্রি হয় এমন সংবাদ আমি পেয়েছি। ইতোমধ্যে সমস্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এমএইচএম/এএস

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad