জলাবদ্ধতায় ৩০ বছর অনাবাদী কাজুলিয়া বিলের জমি

ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫

জলাবদ্ধতায় ৩০ বছর অনাবাদী কাজুলিয়া বিলের জমি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ৩:২২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮

জলাবদ্ধতায় ৩০ বছর অনাবাদী কাজুলিয়া বিলের জমি

৩০ বছর অনাবাদী রয়েছে গোপালগঞ্জের কাজুলিয়া বিলের কয়েক হাজার একর জমি। জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে এসব জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেনা এলাকার কৃষকেরা। অথচ একসময় এই বিলের ধানে গোলা ভরে যেত এলাকার কৃষকদের। বিলের পানি নিষ্কাশন করে এসব জমিতে আবারো সোনালী ধান ফলানো সম্ভব বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

 

১৯৮৮ সালে বন্যার পর থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া বিলের ভূমি মালিকদের দুঃখ শুরু হয়। বিলের কয়েক হাজার একর জমি থেকে বর্ষার পানি না সরে স্থায়ী হয়ে যায়। অথচ এক সময় এ বিলের জমি থেকেই এলাকার মানুষের সারা বছরের ধান আসতো।

যাদের জমি নাই, তারা অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন ধারন করতো। ফসল কাটার সময় এ অঞ্চলে মানুষের মুখে থাকতো হাঁসি। কিন্তু, সেদিন ফুরিয়ে গেছে।

কাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাজুলিয়া মাদরাসার মোহতামিম (পরিচালক) আবুল কালাম আজাদ, একই গ্রামের আতিয়ার রহমান দাড়িয়া, সমর চন্দ্র বিশ্বাস পরিবর্তন ডটকমকে জানান, কাজুলিয়া বিলের মধ্যে রয়েছে ৫/৬টি বড় বড় খাল। যে খালের মাধ্যমে পুরো বিলের পানি গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া খালে এসে পড়ে বিলটি শুকিয়ে যাবার কথা। কিন্তু, বিলের খালের গভীরতা বেশী হওয়ায়, আর গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া খালের তলদেশ উঁচু হওয়ায় বিলের পানি আর নামতে পারছেনা। ফলে বিলের জলবদ্ধতাও কমছে না। ফসল না ফলাতে ফলাতে এখন এক ধরনের ঘাস এমনভাবে জন্মেছে যে তা পরিষ্কার করাও কষ্টকর। কাজুলিয়া বিলের জমি এখন মালিকদের দুঃখের বিলে পরিনত হয়েছে।

এলাকাবাসীর ধারনা এই বিলের মধ্য দিয়ে যেসব খাল গিয়ে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া খালে গিয়ে পড়েছে এগুলো খননের মাধমে কাজুলিয়া বিলের স্থায়ী জলাবদ্ধাতা দূর করা সম্ভব।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাখন লাল দাস পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সংশ্লিষ্ঠদের জানানো হয়েছে। কাজুলিয়া বিলের মধ্যে যেসব খাল রয়েছে তা সংস্কার করে এলাকার জলবদ্ধতা নিরসন করতে কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা করেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, কাজুলিয়া বিলের জলাবদ্ধতার কারনে এখানে কয়েক হাজার একর জমি অনাবাদী থেকে যাচ্ছে। বিলের খাল সংস্কারসহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে এ বিল থেকে প্রচুর ধান উৎপাদন করা সম্ভব।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফি উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরাও এই সমস্যার বিষয়ে অবগত হয়েছি। আগামী বছরে খাল খননের বরাদ্দ রাখা হবে বলে আশ্বাস দিলেন তিনি।

কাজুলিয়া বিলের জলাবদ্ধতা দূর করে এখানকার জমি চাষযোগ্য করে এলাকার মানুষের দুঃখ ঘোচাতে কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন এমনটি প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

এমএইচএম/এএফ