ত্বক-চুল নিয়ে ৬টি ভুল ধারণা!
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

ত্বক-চুল নিয়ে ৬টি ভুল ধারণা!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

ত্বক-চুল নিয়ে ৬টি ভুল ধারণা!

কখনো কি আপনার পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে এমন কোনো সৌন্দর্য পরামর্শ পেয়েছেন যা আপনার কাছে সঠিক মনে হয় নি? হ্যাঁ, সৌন্দর্য বিষয়ক ভ্রান্ত ধারণার কথা বলছি! জীবনে চলতে ফিরতে বড়দের কাছ থেকে বা পরিচিত মুখে অনেক অর্থহীন কথা শুনতে অভ্যস্ত আমরা প্রায় প্রত্যেকেই… সেটা মোটামোটি সব ব্যাপারেই! এসকল ভ্রান্ত ধারণা কিন্তু তারা মেনেও চলেন! চলুন আজ জেনে নেই ত্বক-চুল নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা যেগুলো সঠিক নয়। দেখেন, আপনার শোনা কথার সাথে হয়তো মিলেও যেতে পারে।

১. পাকা চুল টেনে তোলা

ভ্রান্ত ধারণাঃ পাকা চুল টেনে তুললে একই স্থানে আরও বেশি পাকা
যদি মাথার একটি পাকা চুল টেনে তোলা হয় তাহলে সেই একই জায়গায় আরও ৩টি বা তার বেশি পাকা চুল গজাবে!

সঠিক তথ্য: একটি চুল তোলা হলে সেই জায়গায় একটি চুলই গজাবে। তবে একটা কথা, তাই বলে চুল উপড়ে তোলা শুরু করে দেবেন না প্লিজ! অনেকেরই এই অভ্যাসটা আছে! এতে হেয়ার ফলিকল ড্যামেজ হয়ে চুলের ক্ষতি হয়।

২. চুলের আগা ফাটা জোড়া লাগা
ভ্রান্ত ধারণাঃ দু’মুখো চুলের আগা জোড়া লাগানো সম্ভব। দু’মুখো চুলের আগা একদম ঠিক করে ফেলা বা জোড়া লাগানো সম্ভব!

সঠিক তথ্য: একবার যদি চুলের আগা দু’মুখো হয়ে যায় তাহলে সেটা কখনই জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। আপনি যা করতে পারেন তা হল যতোটুকু অংশ দু’মুখো হয়েছে ততটুকু ছেটে ফেলা। আসলে, চুল কিন্তু অন্তত ৩ মাস পরপর ট্রিম করাতে হয়। আর চুল মোছার সময় কখনোই টাওয়েল দিয়ে ঘষে-ঝেরে মুছবেন না!

৩. কড়া রোদ ছাড়া সানস্ক্রিন দরকার নেই
ভ্রান্ত ধারণাঃ বাইরে কড়া রোদ না থাকলে সানস্ক্রিন-এর প্রয়োজন নেই।

সঠিক তথ্য: আপনি সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন কিনা সেটার সাথে হালকা অথবা কড়া রোদের কোনো সম্পর্ক নেই। সানস্ক্রিন ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো আপনার ত্বককে ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করা। বছরের প্রতিটা দিনই সানস্ক্রিন লাগানোর অভ্যাসটা গড়ুন। আর হ্যাঁ, মেকআপ করার আগে সানস্ক্রিন লাগাবেন!

৪. তৈলাক্ত ত্বকের ময়েশ্চারাইজার লাগে না
ভ্রান্ত ধারণাঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার-এর প্রয়োজন নেই!

সঠিক তথ্য: যেকোনো ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার-এর প্রয়োজন আছে। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে আপনার ত্বকের তৈলাক্ত গ্রন্থি তেলের অভাব পূরণের জন্য ত্বকে অতিরিক্ত তেল তৈরি করবে যার ফলে ব্রণ হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। তাই যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা ক্লিঞ্জিং আর টোনিং-এর পর অয়েল ফ্রি বা জেল বেইজড ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন ইজিলি!

৫. রুক্ষ চুল ছাড়া কন্ডিশনার নয়
ভ্রান্ত ধারণাঃ চুল রুক্ষ না হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই!

সঠিক তথ্য: চুল রুক্ষ অথবা তৈলাক্ত যে ধরনেরই হোক না কেনো, কন্ডিশনার ব্যবহার করা প্রয়োজন। খেয়াল রাখতে হবে যে কন্ডিশনার যেন শুধু চুলে ব্যবহার করা হয় আর মাথার তালুতে যেন না লাগে। শ্যাম্পু করার পর চুলের আগায় ও সম্পূর্ণ চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে অন্তত ২ মিঃ রেখে ধুয়ে ফেলতে হয়। চুলের নমনীয়তা আর ফ্লেক্সিবিলিটি বজায় রাখতে কন্ডিশনার ব্যবহার করাটা খুবই জরুরি।

৬. ব্রণ হলে বারবার মুখ ধুতে হয়
ভ্রান্ত ধারণাঃ ব্রণ হলে বারবার মুখ ধুতে হয়।

সঠিক তথ্য: ব্রণ হলে ঘন ঘন মুখ ধোয়ার ফলে ইনফেকশন আরো বেশি ছড়াতে পারে। অন্তত ৩ বার ধুবেন মুখ। আর এক্ষেত্রে ফেইস ওয়াশ-টা হবে অয়েল ফ্রি, অ্যালকোহল ও কালার ফ্রি এবং স্যালিসিলিক এসিড সম্পন্ন। আর ধোয়ার সুন্দর করে মুছে টোনিং করতে ভুলবেন না কিন্তু।

এখন যদি কারও মাঝে ত্বক-চুল নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দেখেন তবে তার ভুলটা ভাঙিয়ে দেবেন কনফিডেন্টলি!

ইসি

 

জীবনযাত্রা: আরও পড়ুন

আরও