কপালের দিকে চুল কমে যাওয়া রোধ করুণ

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৬

কপালের দিকে চুল কমে যাওয়া রোধ করুণ

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

কপালের দিকে চুল কমে যাওয়া রোধ করুণ

প্রতিদিন নিয়ম করে চুল ধোঁয়া, কন্ডিশনার লাগানো, তেল দিয়ে ম্যাসাজ করা সবই তো করছি, কিন্তু মাথার সামনের চুল কমে যাচ্ছে কেনো? আমরা অনেকেই কিন্তু এই অভিযোগটা করি! সামনের অংশের কম চুলের জন্য হেয়ার স্টাইলিং করতে অসুবিধা হয়, আবার নিজের কনফিডেন্সটাও কোথায় যেন একটু কমে যায়।

হেয়ারফল সল্যুশনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও মনমতো ফলাফল না পেয়ে হতাশ, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। শুধুমাত্র মেয়েরাই না, ছেলেরাও এই ধরণের সমস্যা ফেইস করে। নাম না জানা হারবাল প্রোডাক্টের মনভুলানো বিজ্ঞাপণ দেখে এটা সেটা কিনে টাকা নষ্ট না করে সঠিক সমাধান খুঁজুন। আপনার হাতের কাছেই আছে এমন কিছু উপকরণ যেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে মাত্র একমাসেই পেতে পারেন সমাধান। চলুন জেনে নেই, মাথার সামনের চুল গজাতে কি কি ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আজ জেনে নিন মাথার সামনের চুল গজানোর উপায়।

চুল পড়তে আরম্ভ করলে টেনশন শুরু হয়, আর তাতে আরও বেশি চুল ঝরতে থাকে। সামনের দিকে চুল কমতে থাকলে এটা আগে আমাদের চোখে পরে। চুল কেনো পড়ছে কারণটা খুঁজে বের করতে পারলে সমাধানে আসতে সময় কম লাগবে। হরমোনের প্রবলেম, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্ট্রেস এগুলোর জন্য চুল পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে। এসব দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি একটু যত্ন নিলেই কিন্তু নতুন চুল গজানোর জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। চলুন তাহলে সমাধানগুলো জেনে নেই।

১. তিন তেলের ম্যাসাজ

নতুন চুল গজাতে ক্যাস্টর অয়েল, ভিটামিন-ই ক্যাপসুল, খাঁটি নারিকেল তেলের মিশ্রণের থেকে ভালো কিছু বোধহয় আর হয় না। মিনারেলস, প্রোটিন, অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত ক্যাস্টর অয়েল নতুন চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে এবং ভিটামিন-ই হেয়ার ফলিকলে পুষ্টি যোগায়। বিশুদ্ধ নারিকেল তেল যুগ যুগ ধরে চুলের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে, এটা চুলের গোঁড়ায় হাইড্রেশন ধরে রাখে, ও ইমিউনিটি ঠিক রাখে। ভিটামিন-ই, নারিকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল একসাথে মিশিয়ে ভালো করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে। সারারাত রেখে দিয়ে সকালে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার করে কন্টিনিউ করুন, ১ মাস পরেই পরিবর্তনটা আপনার চোখে পড়বে।

২. পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা জেল

পেঁয়াজের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং সালফার চুলের ফলিকলের পুষ্টি বাড়ায়। পেঁয়াজের রস স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালনও বাড়িয়ে দেয়। অ্যালোভেরার গ্লাইকোপ্রোটিন চুলের রিগ্রোথে সাহায্য করে। পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা জেল চুলের গোঁড়ায় মানে যেখানে চুল পরে ফাঁকা হয়ে গেছে, সেখানে লাগিয়ে দু’ঘণ্টা রেখে দিন এবং পরে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩বার করলে উপকার পাবেন।

৩. অলিভ অয়েল ও রসুনের রস

রসুনের সালফার হেয়ার ফলিকলকে উদ্দীপিত করে। অলিভ অয়েলের সাথে এক কোয়া রসুন থেঁতো করে হালকা গরম করে নিন। হট অয়েল ম্যাসাজে চুলের গোঁড়া মজবুত হয় ও নতুন চুল গজায়। সপ্তাহে ২ দিন করে লাগাতে হবে। মনে রাখবেন তেল লাগানোর সময় নখ যাতে স্কাল্পে না লাগে, আঙুলের সাহায্যে আলতোভাবে ম্যাসাজ করবেন। অলিভ অয়েলের মানের ব্যাপারে কখনো সমঝোতা করবেন না, এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল বেছে নিন।

৪. আলু, ডিম, মধু ও লেবুর প্যাক

আলুর রস, ডিমের কুসুম, মধু ও লেবু চুলে দারুণ কাজ করে। চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি, সি ও ই-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ভিটামিন-সি স্ক্যাল্পে জমে থাকা ডেড সেল সরিয়ে চুলের ফলিকলের মুখ ওপেন করে যাতে নতুন চুল গজাতে পারে। সেভাবে প্রতিটা ভিটামিনেরই এক একটা কাজ আছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলে চুল পড়ার হার কমে নতুন চুল গজাবে। এই প্যাকটি ১ ঘণ্টা মাথায় রেখে শ্যাম্পু করে ফেলবেন।

আপনি চাইলে আপনার পছন্দমতো প্রোডাক্ট কিনতে পারেন অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকে। আবার যমুনা ফিউচার পার্ক ও সীমান্ত স্কয়ার এ অবস্থিত সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ থেকেও কিনতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি!

ইসি

 

জীবনযাত্রা: আরও পড়ুন

আরও