গণহত্যার অভিযোগ অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর: সু চি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ মাঘ ১৪২৬

গণহত্যার অভিযোগ অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর: সু চি

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

গণহত্যার অভিযোগ অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর: সু চি

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বুধবার মিয়ানমার তাদের বক্তব্য শুরু করেছে। শুরুতে বক্তব্য দেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও এজেন্ট অং সান সু চি।

সু চি তার বক্তব্যের শুরুতে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদসমূহের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে আদালত সহায়তা করবে বলে আশা করে বলেন, গণহত্যা সনদের বিধান রুয়ান্ডা এবং সাবেক ইয়োগোস্লাভিয়ায় প্রয়োগ করা হয়নি। গাম্বিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দাবি করেছে।

এসময় সু চি বলেন, দুঃখজনকভাবে রাখাইনের অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর চিত্র উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া। রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘন কোনোভাবেই মেনে নেবে না আমাদের সরকার। যখন দেশের বিচার ব্যবস্থা ব্যর্থ হবে, শুধু তখনই আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এর বিচার করতে পারবে।

তিনি বলেন, যেসব সেনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এমন কোনো কাজ করে থাকে; যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাহলে দেশের সংবিধান অনুযায়ী তাদের বিচার হবে।

গতকাল মঙ্গলবার আইসিজেতে ১৭ জন বিচারপতির উপস্থিতিতে প্রথম দিনের শুনানি হয়। এদিন আদালতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির উপস্থিতিতে অভিযোগকারী আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু মানবতাবিরোধী নৃশংসতার অভিযোগগুলোর সারাংশ তুলে ধরেন।

গতকাল অভিযোগকারী দেশ গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী তামবাদু বলেন, বিশ্ববিবেকের কালিমা মোচনে আর দেরি করা চলে না। একমাত্র এই আদালতই শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে, আশা জাগাতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে অবশ্যই কার্যকর করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আইসিজে মিয়ানমারকে বলুক যে এখনই রোহিঙ্গা শিশুদের হত্যা বন্ধ করতে হবে, নৃশংসতার অবসান ঘটাতে হবে।’

গাম্বিয়ার পক্ষে আদালতে গণহত্যার উদ্দেশ্য, গণহত্যার কার্যক্রম, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা, গাম্বিয়া এবং মিয়ানমারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির পটভূমি, আদালতের এখতিয়ার এবং অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী কী ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেগুলো তুলে ধরেন আরও সাত আইন বিশেষজ্ঞ।

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গাম্বিয়া যেসব অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যাসহ সব ধরনের নিপীড়ন বন্ধ রাখা, গণহত্যার কোনো আলামত নষ্ট না করা, জাতিসংঘের তদন্তকারীসহ অন্যদের আরাকানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অবাধে প্রবেশাধিকার দেয়া।

আদালতের প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে শুনানি মুলতবি করা হয়। আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ ঘোষণা করেন, শুনানির দ্বিতীয় দিন বুধবার মিয়ানমারের বক্তব্য শোনা হবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালত বসবেন দুই বেলা। এদিন সকালে গাম্বিয়া ও বিকেলে মিয়ানমারের জবাব ও নতুন কোনো যুক্তি থাকলে সেগুলো শোনা হবে। আদালতের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে ধারণা দেওয়া হয়, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রক্তাক্ত এক সামরিক অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। রক্তাক্ত এই অভিযানে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও চালানো হয়। প্রাণে বাঁচতে সেই সময় রোহিঙ্গাদের ঢল নামে প্রতিবেশী বাংলাদেশে।

পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদে মুসলিম দেশ গাম্বিয়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যদের উৎসাহে গণহত্যার দায়ে মামলা করে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে তোলে।

ওএস/এইচআর

আরও পড়ুন...
হেগের আদালতে আজ বক্তব্য দেবেন সু চি

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও