হেগের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু আজ

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

হেগের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু আজ

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

হেগের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু আজ

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে আজ। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আইসিজে’তে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গত ১১ নভেম্বর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ওই মামলাটি দায়ের করেছে। গাম্বিয়ার বিচার বিষয়ক মন্ত্রী এবং এটর্নি জেনারেল আবু বাকর তামবাদাউ তার দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি নেতৃত্ব দেবেন তার দেশের পক্ষে।

বাংলাদেশ এই মামলার সরাসরি অংশগ্রহণকারী পক্ষ না হলেও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধি দল ওই শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া কানাডা বা ওআইসি’র পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন দেশের সুশীল সমাজের সদস্যরা শুনানির জন্য দ্য হেগে উপস্থিত থাকবেন।

শুনানির প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিগত দিক সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন আইসিজে’র প্রসিকিউশন দলের সাথে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার আইনগত বিষয়াদি নিয়ে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর শুনানির বিভিন্ন দিক এবং সম্ভাব্য বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষক আসিফ মুনীর।

এই শুনানির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত গণহত্যা, ধর্ষণ এবং জাতিগত নিধনের জন্য মিয়ানমারকে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, আগামী বছরের মিয়ানমারের নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্যই অং সান সুচি দ্য হেগে যাবার মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আইসিজে-তে অং সান সুচির নেতৃত্বদানকে স্বাগত জানিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিং থুন সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, এটি তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ এবং তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য একটি প্রচ্ছন্ন আশীর্বাদ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনায় পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

গণহত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। এই ঘটনায় বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন  ওআইসি’র পক্ষে মামলাটি দায়ের করে গাম্বিয়া।

প্রসঙ্গত, গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এই কনভেনশন শুধু দেশগুলোতে গণহত্যা থেকে বিরত থাকা নয়; বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের জন্য বিচার করতে বাধ্য করে।

ওএস/জেডএস

 

ইউরোপ: আরও পড়ুন

আরও