‘মার্কিন প্রতিরক্ষাও ভেদ করতে সক্ষম রুশ ক্ষেপণাস্ত্র’

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

‘মার্কিন প্রতিরক্ষাও ভেদ করতে সক্ষম রুশ ক্ষেপণাস্ত্র’

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ০১, ২০১৮

print
‘মার্কিন প্রতিরক্ষাও ভেদ করতে সক্ষম রুশ ক্ষেপণাস্ত্র’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কথা জানিয়েছেন, যা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ‘অকার্যকর’ করে দিতে সক্ষম।

নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার সংসদে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান। এ সময় পুতিন রাশিয়া সামরিকভাবে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলেও গর্ব করেন।

রাশিয়ান পার্লামেন্টে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি বলেন, রাশিয়ার নতুন পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনো দূরত্বে গিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আক্রমণ চালাতে সক্ষম।

মে মাসে পুতিন পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্বাচনে লড়বেন।

তিনি বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রের হিসাবে রাশিয়া এখনও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। কিন্তু, কেউ আমাদের কথা শুনতো না, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের পর এখন সবাই তা শুনতে বাধ্য হবে।’

রাশিয়ার নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যেতে সক্ষম ক্রুজ মিসাইল। পরমাণু বোমাসহ ক্ষেপণাস্ত্রটি রাডার ফাঁকি দিয়ে আক্রমণ চালাবে বলে দাবি পুতিনের

আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ‘উল্কার গতিতে’ উড়ে যেতে সক্ষম জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘এটা কার্যত অপ্রতিরোধ্য। এর গতি শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি।’

তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়া পানির নিচে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম চালকবিহীন যান উদ্ভাবন করেছে।

১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক মিসাইল চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলায় পুতিন বহুদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।

পুতিন মন্তব্য করেন, তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের নীতিমালা শিথিল করায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। পুতিন মনে করেন, এতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার আরও সহজ হয়ে যাবে।

সিএনএন’র রিপোর্টে বলা হয়, সারা পৃথিবীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই এখন সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে রাশিয়ার চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে।

তবে, সম্প্রতি রাশিয়ার বৈদেশিক নীতি আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে রাশিয়ার বিমান বাহিনী দিয়ে সাহায্য করে সেখানে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। সিরিয়ার যুদ্ধ রাশিয়ার নতুন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অস্ত্রের প্রদর্শনীর উপলক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

তবে ভাষণে পুতিন জোর দিয়ে বলেন, তাদের সব অস্ত্র আত্মরক্ষার উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছে। কেবলমাত্র আক্রমণের শিকার হলেই তারা এসব অস্ত্রের ব্যবহার করবে।

এমআর/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ