কেএম নূরুল হুদা কমিশনের এক বছর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৪

কেএম নূরুল হুদা কমিশনের এক বছর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
কেএম নূরুল হুদা কমিশনের এক বছর

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হল  বুধবার। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এ কমিশনের পাঁচ জন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০জনের নাম সুপারিশ করেছিল সার্চ কমিটি। রাষ্ট্রপতি ওই দশজনের তালিকা থেকে পাঁচজনকে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দেন। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ হিসাবে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বর্তমান কমিশনের এক বছর পূর্ণ হল।

দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরে নিজেদের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা কাজ করছি। আমরা যেসব কাজ করেছি তার মূল্যায়ন করবে দেশের মানুষ। তবে আমরা সংবিধান, আইন ও বিবেক অনুযায়ি সঠিক কাজ করার চেষ্টা করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। আমরা সংবিধান ও আইন অনুযায়ি দায়িত্ব পালন করে যাবো।

বছর পূর্তির দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। ওই বৈঠকের পর সিইসির গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর পরই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপ ঘোষণা করে। ওই রোডম্যাপে আইন সংস্কার, সীমানা পুন:নির্ধারণসহ সাতটি বিষয় গুরুত্ব পায়। এছাড়া সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, এনজিও, নারী নেত্রী ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপ, চলতি বছরের ভোটার তালিকা হালনগাদ করে ইসি।

কর্মকর্তারা আরও জানান, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পরই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও গুরুত্বের সঙ্গে নেন। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনাররা বিভিন্ন জেলায় মতবিনিময় করেন। পরবর্তীতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করেছিল কমিশন। পাশাপাশি কমিশনের নিরব পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হয়। বিচ্ছিন ঘটনার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ হয়। রংপুর সিটি নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ও ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এতে সব মহলে প্রশংসা পায় কমিশন।

তবে আইনি জটিলতার সমাধান না করে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের তফসিল ঘোষণা করায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখেও পড়ে কমিশন। বর্তমানে আদালতের রায়ে ওই নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ থেকেও পিছিয়ে পড়েছে কমিশন। আর নির্বাচন কমিশনাররা মনে করছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বড় পরীক্ষা রয়েছে। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই তাদের লক্ষ্য।

রোডম্যাপ অনুযায়ি নির্বাচনের প্রস্তুতি এগুচ্ছে না। সংলাপের পর ডিসেম্বরের মধ্যে সুপারিশমালা চূড়ান্ত করে প্রকাশের কথা থাকলেও তা এখনও হয়নি। একইভাবে সংসদীয় সীমনার চূড়ান্ত গেজেট ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের কথা থাকলেও খসড়া প্রকাশ করতে পারেনি ইসি।

এইচকে/আরজি

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad