মামলা, জটিলতায় আটকে আছে ২ শতাধিক পৌর-ইউপি’র ভোট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

মামলা, জটিলতায় আটকে আছে ২ শতাধিক পৌর-ইউপি’র ভোট

মো. হুমায়ূন কবীর ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৮

print
মামলা, জটিলতায় আটকে আছে ২ শতাধিক পৌর-ইউপি’র ভোট

মামলা ও বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবৎ আটকে আছে স্থানীয় সরকারের দুই শতাধিক পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এর মধ্যে ২৯ পৌরসভা ও ১৭৫টি ইউপি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, এসব পৌরসভা ও ইউপির মধ্যে নবগঠিত কিছু প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে যেগুলো গঠনের পর থেকে নানা কারণে নির্বাচন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অবশ্য গতবছর এসব জটিলতা কাটাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও আটর্নি জেনারেলের দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে ইসি। বৈঠক করার পর বেশকিছু ইউপি-পৌরসভায় নির্বাচন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইনি দুর্বলতার কারণে সুবিধাবাদীদের জন্য বছরের পর বছর এসব ভোট বন্ধ থাকে। যেহেতু আইনে কোনো ইউপি ও পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে এবং কোনো কারণে যদি ভোট বন্ধ থাকে, তাহলে মেয়র বা চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তার পদ বহাল থাকে। তাই অধিকাংশ সময় সুবিধাভোগীরাই বিভিন্ন জটিলতার দোহাই দিয়ে ভোট বন্ধ করে রাখে।

তারা বলেন, আইনটি যদি এমন করা হয় যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদটি শূন্য হয়ে যাবে এবং প্রশাসক নিয়োগ করে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান যোগ করা হয়। তাহলে যারা ভোট বন্ধ করার জন্য মামলা বা জটিলতার সৃষ্টি করছে তারাই উল্টোর ভোট করার জন্য তদবির করবেন। এতে বছরের পর বছর ভোট বন্ধ থাকার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভোট বন্ধ থাকাগুলো নির্বাচন করার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে বেশকিছুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানও করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার দোহার পৌরসভায় সর্বশেষ ভোট হয়েছে ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় সর্বশেষ ভোট হয় ২০০১ সালের ২ এপ্রিল। এছাড়া কয়েকটি ইউপিতে সর্বশেষ ভোট হয়েছে ১৯৯৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরে। বেশকিছু ইউপি রয়েছে যেগুলোতে সর্বশেষ ভোট হয়েছে ২০০৩ সালে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ‍নির্বাচন উপযোগী পৌরসভাগুলো হলো- ঢাকার বিভাগের দোহার, শিবপুর, কোটালীপাড়া, কালিয়াকৈর ও গোসাইরহাট পৌরসভা।

চট্টগ্রামের বিভাগের নাজিরহাট, হাটহাজারী, নারায়নপুর ও দেবিদ্বার পৌরসভা। সিলেট বিভাগের আজমীরিগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। রংপুর বিভাগের দেবীগঞ্জ, বোচাগঞ্জ, নীলফামারী, পলাশবাড়ী, পার্বতীপুর পৌরসভা।

রাজশাহী বিভাগের বাগাতিপাড়া, ধামইরহাট ও পাঁচবিবি পৌরসভা। খুলনা বিভাগের ঝিকরগাছা, বেনাপোল, মংলাপোর্ট ও ঝিনাইদহ পৌরসভা।

বরিশাল বিভাগের মঠবাড়িয়া, লালমোহন, আমতলী, বাউফল ও পটুয়াখালী পৌরসভা। ময়মনসিংহ বিভাগের নবগঠিত হালুয়াঘাট পৌরসভা।

তবে এসব পৌরসভার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে ইতোমধ্যে ঝামেলা শেষ হওয়ায় কমিশন যেকোনো সময়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে বলেও ইসি সূ্ত্রে জানা গেছে।

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন জানান, প্রায় ৫০টির মতো ইউপি নির্বাচন করার উপযোগি রয়েছে। এগুলোতে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া চলছে।

এইচকে/এমএসআই

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad