তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকী রোববার, মায়ের স্বপ্ন একটি জাদুঘর

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৮ কার্তিক ১৪২৪

তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকী রোববার, মায়ের স্বপ্ন একটি জাদুঘর

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৭

print
তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকী রোববার, মায়ের স্বপ্ন একটি জাদুঘর

চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল রোববার। এই চলচ্চিত্র নির্মাতা ২০১১ সালের এই দিনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।

আজও মনে-প্রাণে গেঁথে আছে সকলের মনে, গুণি এ চলচ্চিত্র নির্মাতার নির্মাণশৈলি। তারেক মাসুদের সব চিন্তা আর চেতনার মাঝেই ছিল মুক্তিযুদ্ধ, দেশের মাটি আর মানুষের কথা। যা প্রকাশ পায় তার সৃষ্টির মাঝে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ১৯৫৬ সালে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নুরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন সময়ে তিনি সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রকর এস এম সুলতানের উপর নির্মিত ডকুমেন্টরি ‘আদম সুরাত’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

‘মুক্তির গান’, ‘মুক্তির কথা’, ‘নারীর কথা’, ‘নরসুন্দর’, ‘অর্ন্তযাত্রা’, ‘রানওয়ে’ তার অনন্য সৃষ্টি। ২০০২ সালে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ ফ্রান্সের কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল প্রথম হয়। এছাড়াও ২০১২ সালে সফল চলচ্চিত্রকর তারেক মাসুদকে একুশে পদক (মরণোত্তর) এ ভুষিত করা হয়।

ভাঙ্গা উপজেলার নুরপুরের বাড়িতে তারেক মাসুদের মা নুরুন্নাহার মাসুদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তার স্বপ্নের কথা। তিনি আশা করেন তারেকের কবরের পাশে নির্মিত হবে একটি সংগ্রহশালা। যেখানে তারেক মাসুদের স্মৃতি বিজড়িত সবই থাকবে।

নুরুন্নাহার মাসুদ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়তই তারেকের ভক্তরা আসেন। ওর কবর জিয়ারত করেন। আমার সাথে কথা বলেন। আমার সাথে কথা বলে তাদেরও ভাল লাগে, আমারও ভাল লাগে।

আমি নিজের জন্য কিছুই চাইছি না। একটি জাদুঘর কিংবা সংগ্রহশালা থাকলে তারেকের এই ভক্তরা তারেক সম্পর্কে আরো জানতে পারতেন।



তারেক আমার সন্তান ঠিক; কিন্তু ও তো দেশের সম্পদ ছিল। দেশের জন্যই কাজ করেছে। অনেকের নামেই তো সরকার সংগ্রহশালা, লাইব্রেবি করে দেন। তারেকের জন্য কি করা যায় না?

বয়স হয়েছে আমার মৃত্যুর আগে যদি দেখে যেতাম তারেকের নামে এখানে কিছু একটা হয়েছে সেটাই আমার সান্ত্বনা। এখন আমার আশা আমার স্বপ্ন বলতে এটাই।

তারেক মাসুদের ভাই সাইদ মাসুদ বলেন, আমি তো মূল্যায়ন করবো তারেককে আমার ভাই হিসেবে। কিন্ত সরকার যখন মূল্যায়ন করবে তখন সেটা হবে তারেক মাসুদকে মূল্যায়ন করা। প্রতিবছরই আমরা তারেক মাসুদের মৃত্যু দিনে পারিবারিক ও তারেক মাসুদ স্মৃতি সংসদ কিছু আয়োজন রাখার চেষ্টা করি। আমরা চাই সরকারিভাবে ওর মৃত্যুদিবসটি পালন করা হোক।

তারেক মাসুদ শুধু নিজের এবং চলচিত্রের কথা ভাবতেন না। তিনি দেশের কথা এবং দেশের মানুষের কথাও ভাবতেন। তার সৃতি সংগ্রহের জন্য একটি স্মৃতি জাদুঘর অথবা সংগ্রহশালা নির্মাণের দাবি তারেক ভক্তদের।

ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ‘উঠোন’র সম্পাদক প্রাবন্ধিক মফিজ ইমাম মিলন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তারেক মাসুদরা সব সময় আসেন না। যখনই আসেন এমন কিছু কর্ম, এমন কিছু সৃষ্টি রেখে যান যা দিয়ে হাজারো বছর বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে। তারেক মাসুদ দেশের সম্পদ ছিলেন, বাংলাদেশের চলচিত্রকে তিনি নিয়ে গেছেন অন্য মাত্রায়, দেশের চলচিত্রকে পরিচয় করিয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তার সৃষ্টি দিয়ে তুলে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধ, গ্রাম বাংলার মুখচ্ছবি।

তারেক মাসুদ দেশের সম্পদ হলেও তার বাড়ি ফরিদপুরে। তিনি শুয়ে আছেন ফরিদপুরের মাটিতে। এমন একজন মানুষের মৃত্যু দিনে সরকারি আয়োজন কিংবা অংশগ্রহণ তারেক ভক্তরাই কাম্য করে।

তার মৃত্যুর পরে সংগ্রহশালা, ম্যুরাল নির্মাণ হবে বলে শুনেছি। কিন্তু আজো তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারেক ভক্ত হিসেবে চাইবো তার বাড়িতেই যেন অন্তত তার নামে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের জোকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ আরও তিনজন চলচ্চিত্রকর্মী নিহত হন। যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতিকে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন করেছে।

টিআইএইচ/এসবি

মৃত্যুবার্ষিকীতে তারেক-মিশুককে স্মরণ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad